kalerkantho


সংসদে নতুন বিল উত্থাপন

বিদ্যুৎ চুরি করলে তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিদ্যুৎ চুরি করলে তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল

ফাইল ছবি

বাসাবাড়ির জন্য বিদ্যুৎ চুরি করলে তিন বছর এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করলে পাঁচ বছরের শাস্তির বিধান রেখে ‘বিদ্যুৎ আইন-২০১৭’ নামের একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি উত্থাপন করেন।

পর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিল সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপনের আগে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম আপত্তি জানান। বিলের কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীদের জন্য শুধু অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এটা আইনের চোখে বৈষম্যমূলক। এ ছাড়া বিলে অননুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের তল্লাশি চালাতে সহকারী প্রকৌশলীকে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ ও তল্লাশি চালানোর ক্ষমতা প্রদানের বিপক্ষে কথা বলেন তিনি।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারসাধন এবং মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার জন্য ‘দি ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্ট ১৯১০’ রহিত করে, তা সংশোধন ও পরিমার্জন করে বাংলা ভাষায় বিদ্যুৎ আইন ২০১৭ শীর্ষক বিলটি প্রণীত হয়েছে।

বিলের অপরাধ ও দণ্ড অধ্যায়ে বলা হয়েছে, কোনো বাসাবাড়িতে বা অন্য কোনো স্থানে ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ চুরি করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া কোনো শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মোবাইল ফোনসেট আমদানিতে বছরে আট হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে—তারানা হালিম : ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংসদে জানিয়েছেন, দেশের বাজার মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসার অনুকূল থাকায় প্রতিবছর তিন কোটি হ্যান্ডসেট আমদানি করতে হচ্ছে।

এতে আট হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। গতকাল জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে দেশে মোবাইল গ্রাহকসংখ্যা ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার এবং দিন দিন গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোনের হ্যান্ডসেটের বাজার প্রায় আট হাজার কোটি টাকার।

বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ নানা লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, গত ১ জুন এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এসকেডি পদ্ধতিতে স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং সিকেডি পদ্ধতিতে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ফলে অচিরেই আমদানির পরিবর্তে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সব ডাকঘরে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ইএমটিএস) চালু হবে : আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, বর্তমানে দুই হাজার ৭৫০টি ডাকঘরে ইএমটিএস সেবা চালু আছে। পর্যায়ক্রমে সব ডাকঘরে এই সেবা সমপ্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া এজেন্টের মাধ্যমে ২৬ হাজার আউটলেটে ইএমটিএস সেবা চালু করা হয়েছে।

সেনানিবাস সংক্রান্ত বিল উত্থাপন : ‘ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট ১৯২৪’ আরো যুগোপযোগী করতে ‘সেনানিবাস আইন ২০১৭’ নামে একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদকার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তা যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এ জন্য কমিটিকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের আগে আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। অবশ্য তাঁর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

বিলে সেনানিবাস এরিয়া কমান্ডারের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘তিনি সেনানিবাসে কর্মরত একজন সামরিক কর্মকর্তা যিনি এক বা একাধিক সেনানিবাস বা এক বা একাধিক সামরিক স্থাপনা বা ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত কোন সামরিক এলাকার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্রমত, নৌ অঞ্চল প্রধান বা বিমান ঘাঁটি প্রধানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন। ’


মন্তব্য