kalerkantho


মাহবুবের সঙ্গে ভিন্নতা

কমিশন এখনো সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কমিশন এখনো সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়নি : সিইসি

ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সম্ভাবনার কথা জানালেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা বলেছেন, কমিশন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি। কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের পরদিন গতকাল মঙ্গলবার সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে এ কথা জানিয়েছেন সিইসি।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে। এখানে একটা কিন্তু আছে। সেনাবাহিনীকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাব, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিভাবে যুক্ত হবে, তা বলার সময় এখনো হয়নি। কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’

মাহবুব তালুকদার আরো বলেছিলেন, ‘কমিশন এ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আমরা নির্বাচন কমিশনাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং আমাদের সবারই অনুভূতি হচ্ছে সেনা মোতায়েন হোক। এটাকে এখনো কমিশনের সিদ্ধান্ত বলা যাবে না। সময়ই বলে দেবে যে কিভাবে সেনা মোতায়েন হবে। ’

মাহবুব তালুকদার গতকালও বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেনাবাহিনী থাকাটা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে।

তবে এ বিষয়ে ইসি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশের অবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পরিবেশ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। সময়ই বলে দেবে কিভাবে সেনাবাহিনীকে রাখা হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সিআরপিসিতেও (ফৌজদারি কার্যবিধি) বলা আছে, সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার কোথাও গণ্ডগোল দেখলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে পারবেন। সে হিসেবে ইসি কোথাও সীমিত হয়ে পড়ছে না। ’

তবে সিইসি নুরুল হুদা গতকাল বাসসকে এ বিষয়ে বলেন, ‘বক্তব্যটি তাঁর (মাহবুব) ব্যক্তিগত। এ ব্যাপারে কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সেনাবাহিনী নির্বাচনে থাকতে পারে কি না এ ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে। ’

এদিকে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচনের এখনো এক বছর বাকি। কমিশন এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ’

সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), সংবিধান ও সিআরপিসি সংশোধন করতে হবে। সেনাবাহিনী হচ্ছে দেশরক্ষা বাহিনী, এরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী না। ’

তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা মোতায়েন হবে না অন্য কোনো পদ্ধতিতে হবে।

নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি বিষয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন হয়নি।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) আগামী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে কি না এ বিষয়েও এখনো কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানান হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। জাতীয় নির্বাচনে কী হবে এটা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে ইভিএম বিষয়ে গত সোমবার মাহবুব তালুকদার বলেছিলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনো চিন্তা আমাদের নেই। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইভিএমকে যুক্ত করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘ইভিএম একটা অনিবার্য বিষয়। ভবিষ্যতে এটি আমাদের ব্যবহার করতে হবে। আমরা হয়তো পারব না। আমরা পারব কিভাবে? আমাদের তো প্রাথমিক প্রস্তুতিই নেই। ’

তিনি বলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত এবার ইভিএম ব্যবহার হবে কি না এ বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যে সময় দরকার, যে অগ্রগতি দরকার, সে রকম সময় আমাদের হাতে নেই। ’

জামায়াতের চিহ্নিত নেতারা সুযোগ পাবেন না : নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, জামায়াতের চিহ্নিত নেতাদের নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে না। স্বতন্ত্র হিসেবেও তাঁরা কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাঁদের বিষয়ে

বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না—বিএনপির এই বক্তব্যের বিষয়ে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনাররা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করার শপথ নিয়েছেন। সেই শপথ নিয়ে এসে দায়িত্ব পালন করব না বলব, তা হয় না। সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সমুন্নত রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ’


মন্তব্য