kalerkantho


এসএসসির ফরম পূরণ

রসিদ ছাড়া পাঁচ গুণ বাড়তি টাকা আদায়

শরীফুল আলম সুমন   

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রসিদ ছাড়া পাঁচ গুণ বাড়তি টাকা আদায়

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণে এবারও অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে স্কুলগুলো। রাজধানীর নামকরা স্কুল থেকে শুরু করে মফস্বলের অনেক স্কুলও এটি করেছে।

শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি আদায়ে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা মানেনি বেশির ভাগ স্কুল।

২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণের নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তবে বিলম্ব ফি দিয়ে ফরম পূরণের ক্ষেত্রে একেক বোর্ড একেক সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ফরম পূরণের জন্য বোর্ডভেদে নির্ধারিত ফি সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০০ টাকা। কিন্তু বেশির ভাগ স্কুল অন্যান্য বছরের মতো এবারও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। কোনো কোনো স্কুল চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করেছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীর কয়েকটি স্কুলের অভিভাবকরা জানিয়েছে, এসএসসির ফরম পূরণে স্কুলগুলো এবার ভিন্ন কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি এবং মাসিক বেতন কেবল রসিদের মাধ্যমে নিয়েছে তারা। এর বাইরে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে কোনো রসিদ ছাড়াই।

ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে কোচিং ফি, মডেল টেস্ট ফি, বার্ষিক চার্জ, পরিবহন, তিন মাসের বেতন, পিকনিক ইত্যাদি নানা খাত দেখিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই বাড়তি টাকা নিয়েছে।

বেশির ভাগ স্কুলই আগামী দুই মাসের জন্য সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ও মডেল টেস্ট ফি নিয়েছে। স্কুলভেদে এই ফি দেড় থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মতো।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কেবল তদন্ত কমিটি করেছে। অন্য কোনো বোর্ড এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ঢাকা বোর্ড : রাজধানীর মিরপুর বাঙলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এসএসসির ফরম পূরণে এবার শিক্ষার্থীপ্রতি আট হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বোর্ড ফি হিসেবে এক হাজার ৭০০ টাকা এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বেতন তিন হাজার টাকাসহ চার হাজার ৭০০ টাকার কেবল রসিদ দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন হাজার ৮০০ টাকা বিনা রসিদে ক্লাস টিচারের কাছে দিতে হয়েছে।

এই স্কুল থেকে এবার প্রায় এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। সেই হিসাবে ফরম পূরণের বাইরে স্কুল কর্তৃপক্ষ আদায় করেছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা।

রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে মিরপুর বাঙলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ক্লাস টিচার সাইফুর রহমান বখতিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই তিন হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে মডেল টেস্ট ও মূল্যায়ন ফি বাবদ ৩০০ টাকা, বিদায় অনুষ্ঠান বাবদ ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্রে ব্যবহারিক ফি বাবদ ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ আমাকে রসিদ ছাড়া এই টাকা নিতে বলেছেন। শুধু খাতায় টুকে রাখা হয়েছে। এখানে আমার করার কিছুই নেই। ’

নাম প্রকাশ না করে এই স্কুলের একজন অভিভাবক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসএসসির ফরম পূরণ বাবদ আমাদের প্রথমে চার হাজার ৭০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলেছে। আমার সন্তান ব্যাংকের রসিদ নিয়ে ফরম পূরণ করতে গেলে বলা হয় রসিদ ছাড়াই আরো তিন হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। নয়তো ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না। পরে এই টাকাটা দিতে আমাদের বাধ্য করা হলো। ’

মিরপুর বাঙলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অলিখিতভাবে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুছ ছালামকে ফোন করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মডেল টেস্ট, অতিরিক্ত ক্লাস ও ব্যবহারিকের কেন্দ্র ফি বাবদ রসিদ ছাড়া তিন হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। ’ মডেল টেস্টের জন্য টাকা দিতে বাধ্য করতে পারেন কি না—এ প্রশ্ন করার পর তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এ ছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে সাত হাজার ৩০ টাকা এবং মানবিক বিভাগে প্রায় ছয় হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে এক হাজার ৭০৫ টাকা। আর স্কুলে ব্যাংকারদের সন্তানরা জমা দিয়েছে দুই হাজার ৪০০ টাকা এবং অন্য শিক্ষার্থীদের তিন হাজার ৮০০ টাকা করে।

যাত্রাবাড়ীর রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে নেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে নেওয়া হয়েছে আট হাজার ৮০০ টাকা করে।

এ ছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়, মগবাজারের নজরুল শিক্ষালয়, বাসাবোর কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল হাই স্কুল, হাটখোলার মিতালী বিদ্যাপীঠ স্কুল, মিরপুর জান্নাত একাডেমি হাই স্কুল, মিরপুরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দনিয়ার এ কে হাই স্কুলসহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।

যশোর বোর্ড : এই বোর্ডের একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষ বোর্ড নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করেছে।

খুলনার রূপসা উপজেলার বেলফুলিয়া ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করে জানান, তাঁর সন্তানের ফরম পূরণ বাবদ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক হাজার ৯০০ টাকা এবং তিন মাসের ক্লাস বাবদ অতিরিক্ত তিন হাজার ৬০০ টাকা নিয়েছে।

আবার কয়রা উপজেলার জাকারিয়া শিক্ষা নিকেতন এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার ১৫০ টাকা করে আদায় করেছে।

বরিশাল বোর্ড : এই বোর্ডের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে দ্বিগুণ টাকা নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান রসিদ ছাড়াই নিয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গেরাকুল আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাহিলাড়া এ এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

মাহিলাড়া এ এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণয় কান্তি অধিকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ফরম পূরণে মোট কত টাকা নেওয়া হয়েছে তা বলতে চাননি।

উপজেলা শিক্ষক সমিতিগুলো এই বাড়তি অর্থ আদায়ের নিয়ম করে দিয়েছে বলে বলছে স্কুলগুলো।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বোর্ডে এবার ফরম পূরণে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য মানবিক বিভাগে এক হাজার ৫৬৫ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার ৫৯৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এক হাজার ৫০৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তবে স্কুলভেদে বোর্ডের ফির বাইরে তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বোর্ড : চট্টগ্রাম নগরে বেসরকারি পরশ পাথর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার এসএসসির ফরম পূরণে তিন মাসের কোচিং ফিসহ সাড়ে আট হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার এক শিক্ষার্থী জানায়, সাড়ে আট হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হয় তার রসিদ দেয়নি। শুধু মৌখিকভাবে বলেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ফারজানা আহম্মদ এই অভিযোগের কথা মেনে নিয়ে জানান, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গত রবিবার এসে অতিরিক্ত ফি ফেরত দিতে বললে কর্তৃপক্ষ  দুই ৫০০ টাকা রেখে ছয় হাজার টাকা ফেরত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন আর কোচিং করাব না। আমাদের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দেবে। ’

এ রকম বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হালিশহর ঈদগাহ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হালিশহর ইবনে সিনা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইউনাইটেড রেসিডেনসিয়াল স্কুল, জাহানারা বেগম হলি চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউট, কর্ণফুলী কেজি অ্যান্ড হাই স্কুল, দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়, বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয়, বেপজা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বি এন স্কুল, মাহমুদুর নবী উচ্চ বিদ্যালয়েও বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীপ্রতি পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার টাকার বেশিও আদায় করার কথা জানা গেছে।

অথচ এবার বোর্ড নির্ধারিত ফি হচ্ছে—নিয়মিত পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে মানবিক শাখায় এক হাজার ৪৭৫ টাকা, বিজ্ঞান শাখায় এক হাজার ৫৬৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এক হাজার ৪৭৫ টাকা।

সিলেট বোর্ড : পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি মডেল স্কুল, দিশারী স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সিলেট নগরের বেশ কিছু স্কুল এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

সিলেট বোর্ড এবার ফরম পূরণে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৯৫ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত এক হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘মাত্র ২১ দিন হলো আমি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। ’

একই অভিযোগ করেছেন দিশারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এ ছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কোনো রসিদ ছাড়াই মানবিক বিভাগে তিন হাজার ৮৬০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বিজিত চক্রবর্তী রসিদ না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীকে রসিদ দেওয়া হবে। ’

এ রকম প্রায় সব স্কুলেই অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে।

কুমিল্লা বোর্ড : প্রায় প্রতিটি স্কুল ও মাদরাসায় ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে। কোথাও কোথাও তিন গুণ পর্যন্ত ফি নেওয়ারও প্রমাণ মিলেছে। চান্দিনা উপজেলার ৩৪টি স্কুল ও ২৭টি মাদরাসায় অতিরিক্ত ফি আদায় করার তথ্য পাওয়া গেছে।

চান্দিনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাউছুল আজম বলেন, ‘অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। এর পরও আমি সব প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সতর্ক করেছি। ’

রাজশাহী বোর্ড : এবার এই বোর্ডে ফরম পূরণে নিয়মিত শিক্ষার্থীর জন্য মানবিক বিভাগে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৭০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা ছিল।

কিন্তু রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বোর্ড নির্ধারিত টাকার বাইরেও অর্থ আদায় করা হয়েছে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলেও কম নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। তা ছাড়া পুঠিয়ার এস আর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও বাড়তি অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে দুই স্কুল কর্তৃপক্ষই বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এ রকম প্রায় সব স্কুলই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বোর্ডের বক্তব্য : যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অভিভাবকদের লিখিত অনুমতি নিয়ে কেউ অতিরিক্ত ক্লাস নিতে পারে। তবে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘অভিযোগের প্রমাণ পেলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ডের নামে কাউকে অতিরিক্ত অর্থ নিতে দেওয়া হবে না। ’

কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, এবার ১৫০০-১৬০০ টাকার মধ্যে ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করেছে—এমন অভিযোগ তিনি পাননি বলে জানান।

সিলেট বোর্ডের সচিব মো. মোস্তফা কামাল আহমেদ বলেন, ‘বোর্ড নির্ধারিত ফির বেশি টাকা আদায় করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। ’

চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে কয়েকটি স্কুলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করতে বোর্ডের হিসাব শাখার উপপরিচালক অধ্যাপক শওকত আলমকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্তে তার সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

রাজশাহী বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তরুণ কুমার সরকার বলেন, ‘নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা আদায় করলে এবং সে বিষয়ে অভিযোগ উঠলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘কোনো অবস্থায়ই বোর্ড নির্ধারিত টাকার বাইরে কোনো স্কুল অতিরিক্ত নিতে পারবে না। এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যেসব স্কুল অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে সে ব্যাপারে অভিভাবকরা যদি আমাদের লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। এর পরও আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’

[তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের নূপুর দেব, রাজশাহীর রফিকুল ইসলাম, সিলেটের ইয়াহিয়া ফজল, খুলনার কৌশিক দে, বরিশালের আজিম হোসেন, এবং কুমিল্লার নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কাশেম হূদয়]

 


মন্তব্য