kalerkantho


পাকিস্তানে নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাকিস্তানে নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

এবার পাকিস্তানে প্রায় সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংসে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হলো। মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, ইসলামাবাদ যত দিন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেবে, তত দিন এ সহযোগিতা বন্ধ থাকবে।

রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানে মার্কিন সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য কংগ্রেসে বিল আনবেন। পাকিস্তানে যে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় তা যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তা-ব্রিজসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

‘পাকিস্তান জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য’ এবং ‘তারা ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিথ্যাচার ও শঠতা করছে’—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন টুইট এবং পাকিস্তানকে সাড়ে ২৫ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণার পর কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বাগিবতণ্ডা চলে আসছিল। পাকিস্তান ‘ডাবল গেম’ খেলে আসছে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছিল—দেশটির বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পাকিস্তান বলেছিল, দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তান যে আত্মত্যাগ করেছে, এখন তা অস্বীকার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলে, সত্তর ও আশির দশকে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে নিজেদের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে মৌলবাদীকরণ শুরু করেছিল। পাকিস্তান জাতি এখন সেই বীজের মূল্য দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র একসময় রোপণ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে কয়েক শ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রকাশ করেন। তবে ঠিক কী পরিমাণ সহযোগিতা কমানো হচ্ছে তা তিনি জানাননি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আজ নিশ্চিত করে বলতে চাই যে আমরা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা, দুঃখিত—নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করছি যত দিন পর্যন্ত না দেশটির সরকার তাদের দেশে তৎপর আফগান তালেবান ও হাক্কানি গ্রুপের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেবে। তারা এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করছে এবং মার্কিন নাগরিকদের টার্গেট করে আসছে। এ জন্যই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ রাখা হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থ হাসিল ও ভারতকে পাশ কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই পাকিস্তান আফগান তালেবানদের মদদ দিয়ে আসছে বলে মন্তব্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

ভারত ও আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে। পাকিস্তানে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করা চীন ইসলামাবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার মারাত্মক লঙ্ঘনকারী’ দেশের তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, পাকিস্তানে ক্রিয়াশীল থাকলেও জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক মূলত আফগানিস্তানেই বেশি সক্রিয়। পাকিস্তান সরকার হাক্কানি নেটওয়ার্ককে তাদের দেশের মাটি ব্যবহার করে সীমান্তের অন্য পাশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে।

আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি তালেবানদের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। আফগান তালেবানের সহযোগী পাকিস্তানি তালেবানরা পাকিস্তানের ভেতরেও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী ও কর্মকর্তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই হামলা চালাচ্ছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবানের সদস্যরা। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য