kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

পাচার ঠেকাতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাচার ঠেকাতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেবে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, পাচার ঠেকাতে বৈধভাবে ইলিশ মাছ রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদিত হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই।

প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার পর গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ইলিশের চাহিদা রয়েছে। সেই জন্য কিছুটা রপ্তানি করতে চাই। সরকার ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ রাখলেও অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে। এতে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। বড় আকারের ইলিশ মাছ গোপনে পাচার হওয়ায় দেশের বাজারে বড় ইলিশ কম পাওয়া যায়। বড় মাছ বাজারে আনতে হলে গোপন পথটি বন্ধ করতে হবে। সদর পথটি চালু করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, রপ্তানি হলেও মা ইলিশ সংরক্ষণে কয়েক বছর ধরে সরকার যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। জাটকা নিধন বন্ধ রাখার প্রকল্পও চলবে। ইলিশ মাছের বিচরণক্ষেত্রগুলোও সংরক্ষিত রাখা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ দশমিক ৯৫ লাখ টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ টন।

২০১২ সালের ১ আগস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, এর ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। বিশ্বের মোট ইলিশের ৭৫ শতাংশ আহরণ করা হয় বাংলাদেশে। অন্যান্য দেশে বিভিন্ন প্রজাতির ইলিশ কমলেও বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

এ ছাড়া আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুধের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা পুষ্টি চাহিদা পূরণে সব ক্ষেত্রে খুব দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চাই।’

মাংসের দাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম। চেষ্টা করা হচ্ছে অন্যগুলো (মাংসের দাম) নিয়ন্ত্রণে আনতে। বর্তমানে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। এ খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দাম কমে আসবে। এক দিনের বাচ্চার দাম ন্যায্য পর্যায়ে নিয়ে আসার ঘোষণা দেন তিনি।

দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক গরু উৎপাদিত হওয়ায় বিদেশ থেকে আপাতত আর আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানান মন্ত্রী। আমদানি করা হলে দেশের খামারিরা মার খাবে। সেটা নিশ্চয়ই করা হবে না। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনিও বলেছেন, এখন গরু আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাদনের হাত থেকে রক্ষায় তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করতে গবেষণা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

 


মন্তব্য