kalerkantho


পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার নিতে চায় বিএসসি

৮টি একসঙ্গে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার নিতে চায় বিএসসি

আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ১২ জানুয়ারি শুক্রবার আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা একসঙ্গে নিতে না পারলেও পাঁচটির পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চায় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির মুদ্রানীতিসংক্রান্ত মতবিনিময়সভায় থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএসসি সচিবালয়। তবে আজ মঙ্গলবার তিনটি ব্যাংক ছাড়া বাকি পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বিএসসি সচিবালয়।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা আগামী শুক্রবার হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী ও জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা গত রবিবার স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদস্যসচিব মো. মোশারফ হোসেন খান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাই অন্য পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা যথাসময়েই হোক। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গভর্নরের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছি। তিনি মুদ্রানীতিবিষয়ক এক মতবিনিময়সভায় আছেন, যেখানে সাবেক গভর্নরসহ বড় বড় অর্থনীতিবিদরা রয়েছেন।’

এদিকে আগামী শুক্রবার পাঁচটি ব্যাংকের পরীক্ষা না নিয়ে পরবর্তী সময়ে আটটি ব্যাংকের পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে চাকরিপ্রত্যাশী একদল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা বলছে, সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিলে বেকারত্বের চাপ কমবে। আর প্রত্যেকেই কোনো না কোনো চাকরিতে নিয়োগ পাবে।

গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একত্রিত হয়ে অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন করে অন্তত পাঁচ শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী। এক দফা এক দাবি, ১২ জানুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, সমন্বিতভাবে পরীক্ষা নিতে হবে প্রভৃতি স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করার কর্মসূচি দিয়েছে চাকরিপ্রত্যাশীরা। তারা বলছে, নৈব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর মেধাতালিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। এটা করা হলে বেকারত্বের চাপ কমবে। প্রত্যেকের চাকরির সুযোগ আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বেশির ভাগ নিয়োগই তিনটি ব্যাংকে। এই পরীক্ষা নেওয়া হলে অর্ধেকের চেয়ে কম পদে কয়েক লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। পরবর্তী সময়ে ওই তিনটি ব্যাংকের পরীক্ষা নেওয়া হলে উভয় পরীক্ষাতে ভালো প্রস্তুতিসম্পন্ন চাকরিপ্রত্যাশীরা উত্তীর্ণ হবে। এতে অনেকে বাদ পড়ে যাবে। আর একসঙ্গে পরীক্ষায় মেধাতালিকায় অনেকে সুযোগ পাবে।’

বিএসসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই লাখ ১৩ হাজার ৫০০ পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেছে। এ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য এরই মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে কমিটির। গত রবিবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, রূপালী ও জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। এ বিষয়ে এক রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা আর রূপালী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হবে ৯৭১ জন। যার মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ৫২৭, জনতা ব্যাংকে ১৬১ আর রূপালী ব্যাংকে ২৮৩ জন। আর অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হবে ৬৯২ জনকে।


মন্তব্য