kalerkantho


তাবলিগের দ্বন্দ্বে যানজট দিনভর চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তাবলিগের দ্বন্দ্বে যানজট দিনভর চরম ভোগান্তি

বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর বাংলাদেশে আসা নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার তাঁর আগমনের বিরোধিতা করে বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে একটি পক্ষ। এ ছাড়া উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও কাকরাইলেও বিক্ষোভ হয়েছে। তারা কাওমি মাদরাসার ছাত্র ও আলেম। এই পক্ষকে হেফাজতপন্থীও বলছে প্রতিপক্ষ।

বিক্ষোভকারীরা সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মিছিল ও সমাবেশ করে এবং অবস্থান নেয়। এতে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। টঙ্গী থেকে উত্তরা, বনানীসহ আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজট দেখা দেয়। এ কারণে দিনভর ভোগান্তিতে পড়ে এসব রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ। দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার পথের যাত্রীদেরও। পাশাপাশি কিছু ফ্লাইটও এলোমেলো হয়।

এদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে বিকেলে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেওয়া হয়। এরপর সেখানেও বিক্ষোভের ঘোষণা দেন একটি অংশের আলেম-উলামারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান নেন। বিকেল থেকে কাকরাইল মসজিদের ফটক বন্ধ করে দুই শ গজ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ। রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজও কর্মসূচি দিয়ে মাওলানা সা’দকে ইজতেমায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে চাইছে বিক্ষোভকারী পক্ষটি।

জানা গেছে, ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের কারণে সমালোচিত তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সা’দের আগমন ঠেকাতে গতকাল সকাল থেকে বিমানবন্দরের সামনে অবস্থান নেন তাবলিগ জামাতের একটি অংশের আলেম-উলামারা। তাঁরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই গ্রুপে বিভক্ত তাবলিগ জামাতের একটি অংশ জামাতের কেন্দ্রীয় এক শুরা সদস্যের বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করলে যানজটেরও শুরু হয়। পরে পুলিশ বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে হাতে গোনা কিছু যানবাহন বনানীর দিকে পাঠাতে পারলেও তীব্র যানজট এড়ানো সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী বাজার ছাড়িয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন স্থবির হয়ে যায়। এ যানজটের কারণে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে উত্তরার বাসিন্দারা। এই আবাসিক এলাকার প্রতিটি সেক্টরের প্রতিটি রাস্তায় যানজটের প্রভাব পড়ে। উত্তরার কেউ গাড়ি নিয়ে বাইরে বের হয়ে বাসার সামনেই যানজটে আটকা পড়ে এবং অপেক্ষার একপর্যায়ে বাসায় ফিরতে বাধ্য হয়।

ভুক্তভোগীরা জানায়, দুপুর ১২টা থেকেই বিমানবন্দর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ প্রহরায় মাওলানা সা’দকে কাকরাইল মসজিদে নেওয়ার খবর পেয়ে আলেম-উলামারা বিমানবন্দর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে অবস্থান নেয়। মুহূর্তের মধ্যে এ সড়কে যানবাহনের গতি থমকে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বিকেলে মোবাইল ফোনের অ্যাপসে দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত সাত কিলোমিটার যানজট লেগে আছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই নিকট অতীতে এমন যানজট দেখেনি বলে মন্তব্য করে।

গতকাল কালের কণ্ঠ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয় ৩০০ ফুট সড়কের বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসিবি)। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের; কিন্তু তীব্র যানজটে পড়ে তিনি অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকেই হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। আবার অনেকেই পৌঁছতে না পেরে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন।

উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লায়লা আজিজ (৬৪) বলেন, ‘আমার এক নিকটাত্মীয়কে ডাক্তার দেখানোর জন্য দুপুর ১২টায় অ্যাপয়েনমেন্ট ছিল। জ্যামের কারণে মিস হলো।’

গাজীপুর থেকে সকালে তেজগাঁও যাওয়ার জন্য রওনা হয়ে সন্ধ্যায় পৌঁছান রাশেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার জীবনে এমন অবস্থা দেখিনি। আগে দেখতাম ছাত্ররা রাস্তায় অরাজকতা করে। এখন হুজুররাও শুরু করেছে!’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নায়লা চৌধুরী দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উত্তরা থেকে বনানীতে তাঁর অফিসের উদ্দেশে রওনা হন; কিন্তু যানজটের কারণে ঘণ্টাখানেক বসে থাকার পর বাসায় ফিরতে বাধ্য হন তিনি।

সুপ্রভাত পরিবহনের কয়েকজন যাত্রী জানায়, প্রায় এক ঘণ্টা তারা বাসে বসে ছিল। গাড়ি নড়ছে না দেখে বাধ্য হয়ে তারা হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দর সড়কের এই যানজট তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, মিরপুর, টঙ্গী-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শহরজুড়েই ছিল ভোগান্তি ও উৎকণ্ঠা।

তাবলিগ জামাত সূত্র জানায়, ভারতীয় উপমহাদেশের সুন্নি মতাবলম্বী মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় সংঘ তাবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র বা মারকাজ দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় ওই পর্ষদকে বলা হয় নেজামউদ্দিন, যার ১৩ জন শুরা সদস্যের মাধ্যমেই উপমহাদেশে তাবলিগ জামাত পরিচালিত হয়। এই পর্ষদের সদস্য মাওলানা সা’দ কান্ধলভী সম্প্রতি নিজেকে তাবলিগের আমির দাবি করে বসেন। এর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে তাঁর বাংলাদেশে আসা নিয়ে এ দেশের তাবলিগের মূল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইজতেমায় যোগ দিতে গতকাল তাঁর ঢাকায় আসার কথা শুনে সকাল থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে তাবলিগের একাংশের কর্মীরা। বিক্ষোভের মধ্যেই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে করে মাওলানা সা’দ ঢাকায় পৌঁছেন। তিনি যাতে বের হতে না পারেন সে জন্য বিরোধী পক্ষের হাজার হাজার কর্মী পুরো বিমানবন্দর এলাকা অবরোধ করে রাখে।

তাবলিগকর্মী রুমি জানান, বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা মাঠে যাওয়ার সব রাস্তায় প্রতিবাদ করছে তাবলিগকর্মীরা। এ কারণে বিমানবন্দরে এলেও মাওলানা সা’দ দীর্ঘ সময় আটকে থাকেন। পরে আড়াইটার দিকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে কাকরাইলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি কাকরাইল মারকাজ মসজিদে এসে পৌঁছেন। তিনি আসার আগে থেকেই মসজিদের বাইরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

কাকরাইলে বিক্ষোভ : গতকাল বিকেলে মাওলানা সা’দ কাকরাইল মসজিদে ঢোকার পরই সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন পুলিশ সেখান থেকে মুসল্লিদের সরিয়ে দেয়।

বাইরে অপেক্ষায় থাকা অর্ধশত মুসল্লি জানায়, আসরের নামাজের আগে থেকে মসজিদের মূল ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। ভেতরে পরিচিত ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, “সা’দ সাহেবের আগমন মানি না, মানব না’—এমন স্লোগান দিয়ে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে ট্রাকে চড়ে সন্ধ্যায় কাকরাইল মসজিদের সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। তখন পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর ট্রাকে চড়েই কিছুদূর এগিয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের উল্টো পাশে এসে নামে ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখানে তারা মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করতে পারে। এরপর পুলিশ এসে রাস্তা থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।

রমনা থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আসা ও ইজতেমায় অংশগ্রহণকে ঘিরে তাবলিগ জামাতের একটি অংশ ও কওমিপন্থীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, যান চলাচলে যেন বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভেতরে বেশি লোক ঢুকতে দেওয়া হবে না।

যাত্রাবাড়ীতে বিক্ষোভ : যাত্রাবাড়ীতে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাকের সামনে সকালে বিক্ষোভ করেন আলেমরা। পরে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি ও তাবলিগের শূরার উপদেষ্টা আল্লাম আশরাফ আলী বলেন, সরকার গঠিত ওলামায়েকেরাম ও তাবলিগের মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মাওলানা সা’দের বিশ্ব ইজতেমায় আসার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে।

বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মাওলানা সা’দ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আকাবিরে আসলাফের মানহাজের বিপরীতে বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এমনকি তিনি কুরআন-হাদিসেরও অপব্যাখ্যা করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গত বছর চেষ্টা করেছিলাম তিনি যেন ইজতেমায় না আসেন। এ বছরও সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাওলানা সা’দের ইজতেমায় না আসার পক্ষে মতামত দেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই মতামত জানানো হয়। এর পরও মাওলানা সা’দ কিভাবে বাংলাদেশে আসেন আমরা তা জানি না।’

নতুন কর্মসূচি : আসরের নামাজের মধ্য দিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মসূচি শেষ ঘোষণা করা হয়। এ সময় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে জামিয়া ইমদাদিয়া ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাতামিম ও তাবলিগের উপদেষ্টা সদস্য মাওলানা আবদুল কদ্দুস বলেন, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত পুরো মাদরাসার ছাত্র ও তাবলিগ জামাতের সাধারণ মুসল্লিরা পাহারায় থাকবে, যেন সা’দ সাহেব ইজতেমার ময়দানে না যেতে পারেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সীমানার জন্য আমির নির্ধারণ করা হয়েছে টঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাসউদুল করীমকে। মহাখালী থেকে কাকরাইল পর্যন্ত পুরো মাদরাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে কাকরাইলে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

এদিকে মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর পক্ষের শূরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর বিষয়ে আলেমদের যে বক্তব্য তা আমরা শুনব, এরপর দেখা যাবে তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন কি না।’

বিমানযাত্রীদের দুর্ভোগ, কিছু ফ্লাইট এলোমেলো : গতকাল দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এ সময় বাংলাদেশ বিমানের ছয়টি ও অন্য ১২টি এয়ারলাইনসের কয়েকটি ফ্লাইট যাত্রীর অভাবে সময়মতো উড়তে পারেনি। আবার অল্প কয়েকটি ফ্লাইট নামমাত্রসংখ্যক যাত্রী নিয়ে উড়ে গেছে। এতে বিমানবন্দরে আসা সব এয়ারলাইনস কমবেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন, রাস্তাজুড়ে তীব্র যানজটের কারণে বিমানের সবকটি ফ্লাইটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। সময়মতো বিমানবন্দরে আসতে পারেনি অনেক যাত্রী। যে কারণে বেশির ভাগ ফ্লাইট এক থেকে তিন ঘণ্টা দেরি করে উড্ডয়ন করেছে।

‘নাক গলাতে চায় না সরকার’ : গত রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে নাক গলাতে চায় না সরকার। তিনি বলেন, ‘তারা যে দুই ভাগ হয়েছে, আমরা উভয় অংশকেই মেলানোর অনেক চেষ্টা করেছি। এখন তাতে যদি কাজ না হয়, তাহলে আমাদের কী করার আছে?’

এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় কী জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা একত্র হয়ে যা সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেটাই শুনব। আমরা নাক গলাতে চাচ্ছি না। এখানে আমরা কোনো দলের সঙ্গে একত্র হতে চাই না। তাদের ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাচ্ছি না।’

সমস্যার সমাধান না হলে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা একত্র হয়ে আসতে পারলে সমাধান হবে, না হলে না হবে। তবে আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করব। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখব।’ অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি তো আশা করি, আল্লাহ একটা ব্যবস্থা করে দেবেন। তাদের মাথায় শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’


মন্তব্য