kalerkantho


সংসদে অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে লুটপাট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে লুটপাট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

ফাইল ছবি

মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে সরকার এর চার্জ কমানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট বন্ধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিগত অর্থবছরে পাওয়া আশ্বাসের চেয়ে ছাড় হওয়া অর্থের পরিমাণ ১৪ হাজার ২৮৪ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার কম ছিল। মন্ত্রী এর কারণও ব্যাখ্যা করেন।

ক্ষমতাসীন দলের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোবাইল আর্থিক সেবা জনপ্রিয় ও সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ সেবার চার্জ কমানো সম্ভব হলে নিম্ন আয়ের জনসাধারণের মধ্যে এটি আরো জনপ্রিয় হবে বলে সরকার মনে করে। চার্জ কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এ ছাড়া এর ব্যবহার সহজ করার উদ্দেশ্যে প্রোভাইডারদের ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব অ্যাপ ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তৈরি করার জন্যও তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেননা বাংলায় অ্যাপ চালু করা সম্ভব হলে সব শ্রেণির গ্রাহক এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণ ব্যাংকিং-এ কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন না। এ ছাড়া মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত দাবি করেন, তিনি কখনো ক্ষুদ্রঋণের বিরোধী ছিলেন না।

সিলেটের সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন অর্থমন্ত্রীর কাছে ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট বন্ধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

এর জবাবে মুহিত ব্যাংক কম্পানি আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোয় পরিদর্শন ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশি ব্যাংক বাদে দেশে তফসিলভুক্ত বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ৪০টি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোট পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩০ হাজার ২৯০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পরিশোধিত মূলধন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এক হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৯৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

মন্ত্রী আরো জানান, এই ৪০টি ব্যাংক গত অর্থবছরে চার লাখ ৮৭ হাজার ৯২৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। একই সময়ে আদায় করেছে চার লাখ ৫০ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

স্বতন্ত্র সদস্য আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুকূলে বিভিন্ন দাতাদেশ ও সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৯৬১ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদান ৪০৪ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


মন্তব্য