kalerkantho


মাছ থেকেও টিবি সংক্রমণ!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাছ থেকেও টিবি সংক্রমণ!

শুধু হাঁচি-কাশি আর বাতাসের মাধ্যমে যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ায় না; চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিপদ এখন সবখানে। শুধু বাতাস নয়, পানি বয়ে আনে যক্ষ্মার জীবাণু। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাজার থেকে কেনা মিষ্টি পানির মাছ, বাড়ির অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ, হাসপাতালের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত কলের পানি, মাঠের ধুলো সর্বত্রই হানা দিতে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারে নতুন প্রজাতির যক্ষ্মার জীবাণু। এক বা দুই নয়, কম করে এ রকম ৫০০ নতুন প্রজাতির টিবি জীবাণু রয়েছে।

এই প্রজাতি টিবির জীবাণু চিহ্নিত করা বেশ জটিল। গতানুগতিক টিবির জীবাণু চিহ্নিত করার পদ্ধতিতে তো একেবারেই নয়। দ্রুত নির্ণয় সম্ভব একমাত্র অত্যাধুনিক পিসিআর পদ্ধতিতে, যা সর্বত্র মেলে না। ফলে আক্রান্তদের বেশির ভাগই সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকে। ফলে ওষুধ না পেয়ে অনেকেই দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

সম্প্রতি একদল মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ঠিক এমনটাই দাবি করছেন। মিসিগানের বিউমন্ট মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী সুমিত ফোগলার নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এ নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে ওই দল। ওই গবেষকরা জানাচ্ছেন, ব্যাঙের শরীরে টিবি হলে সেই ব্যাক্টেরিয়ার নাম মাইক্রোব্যাক্টেরিয়াম জেনোপি। অন্যদিকে মাছকে টিবি আক্রান্ত করে মাক্রোব্যাক্টেরিয়াম মমেরিনাম।

সম্প্রতি বছর চৌষট্টির অবসরপ্রাপ্ত এক মার্কিন সেনার চিকিৎসা করতে গিয়ে ‘ব্যাঙটিবির’ বিষয়টা প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রৌঢ়ের ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে কি না তা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছিল সুমিতের গবেষক দল। অনেক পরীক্ষার পর দেখা যায় ওই সাবেক সেনা মাইক্রোব্যাক্টরিয়াম জেনোপি বা ‘ব্যাঙ’ টিবিতে আক্রান্ত।

সুমিত ফোগলার মতে, এই ব্যাক্টেরিয়া প্রথমে নিঃশব্দে জলজ প্রাণীদের শরীরে অনুপ্রবেশ করে। এরপর পানিতে মিশে ঘুরপথে মানুষের শরীরে ঢুকে যায়। এই প্রজাতির জীবাণু অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছকেও ঘায়েল করতে পারে। শুধু তাই নয়, ব্যাঙদের শরীরে এরা একবার ঢুকলে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।

মনে রাখা দরকার, কখনো আবার মৎসপ্রেমীরা অজান্তে টিবি আক্রান্ত অসুস্থ ওই মাছ খেলেও তা আরো সহজে মানুষের শরীরে বংশবৃদ্ধির সুযোগ পায়। এই জন্য বাঙালিদের জন্য বাড়তি সতর্কতা দিয়েছেন ওই গবেষকরা। সূত্র : এই সময়।


মন্তব্য