kalerkantho


বরিশালে এক বছরে পুলিশ প্রকৌশলীসহ ১০ জন গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালে এক বছরে পুলিশ প্রকৌশলীসহ ১০ জন গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

বরিশালে পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। গত এক বছরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় গ্রেপ্তার ১০ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় এক সহকারী পুলিশ সুপার ও এক ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একের পর এক এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

একাধিক সূত্র জানায়, গত এক বছরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের হাতে সাত পুলিশ সদস্য, দুজন প্রকৌশলী ও এক কারারক্ষী মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১১টি মামলা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা ওই সব মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার নগরের কাউনিয়ার সাবান কারখানা এলাকা থেকে রিয়াজুল ইসলাম নামের এক কারারক্ষীকে ইয়াবাসহ আটক করে কাউনিয়া থানার পুলিশ। গত ৮ জানুয়ারি দুপুরে বরিশালের লাকুটিয়া সড়ক থেকে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্য পার্থ চন্দ্র দে ও তানজিলুর রহমানকে ইয়াবাসহ আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মাদক বিক্রেতার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় গত বছরের ৮ জুলাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরনদী সার্কেল) রেজাউল করিমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বরিশাল দশম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) সংযুক্ত করা হয়। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের জুলাইয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি ফিরোজ কবীরকে প্রত্যাহার করা হয়।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বরিশাল নগরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ভোলা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল রমজান আলীকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রূপাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল মো. সাইফুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে সাড়ে চার শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ।

৭ জুলাই বিমানবন্দর থানার পুলিশ কনস্টেবল-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মেহেদী হাসানকে ইয়াবাসহ আটক করে বানারীপাড়া থানার পুলিশ। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার মামলায় বরিশাল মহানগর ডিবির সাবেক এসআই চিন্ময় মিত্রকে গত বছরের জুনে কারাগারে পাঠান আদালত।

একই বছরের এপ্রিলে গৌরনদী উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মঈনুল আজমকে মাদকসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। জুনের শেষ দিকে বরিশাল নগরের আবাসিক হোটেল থেকে দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মাদকসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশালের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ধারাবাহিকভাবে এভাবে মাদকসহ পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্তকর্তারা আটক হচ্ছেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানুষ এসব দপ্তরের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে এর মধ্যে ইতিবাচক দিক হলো মাদকসহ যারা আটক হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার খান মুহাম্মদ আবু নাসের বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশসহ পুরো পুলিশ বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক বিক্রি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকপাচারের রুটগুলো বন্ধে কাজ চলছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, সে পুলিশের লোকই হোক বা সরকারি কর্মচারী ও ক্ষমতাসীন দলের কেউ।

বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, সব জায়গায়ই দু-একজন দুষ্ট লোক থাকে। তাদের জন্য পুরো দপ্তর ইমেজ সংকটে পড়তে পারে না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে জেলার সর্বত্র সভা-সমাবেশ হচ্ছে, তা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সুধী সমাবেশ করা হচ্ছে।


মন্তব্য