kalerkantho


মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিমালা অনুমোদন

বৈধতা পেল উবার পাঠাওসহ অ্যাপসভিত্তিক পরিবহনসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বৈধতা পেল উবার পাঠাওসহ অ্যাপসভিত্তিক পরিবহনসেবা

উবার, পাঠাওয়ের মতো অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবার বৈধতা দিতে ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার’ খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নীতিমালায় সেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

লাইসেন্সের আওতায় এসে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ১১টি শর্ত মেনে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এই সেবা দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব। রাইডশেয়ারিংয়ের ভাড়া হবে ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়ার অনুরূপ। মোটরসাইকেলের মাধ্যমেও এই সেবা দেওয়া যাবে। তবে এর ভাড়ার হার জানাতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদসচিব। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করলে সনদ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে শাস্তি পাবে।

অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবার ভাড়ার কোনো অংশ সরকার পাবে না। তবে সেবাদানকারী সংস্থাকে বিভিন্ন ধরনের কর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব।

এক কোটির বেশি মানুষের বাসস্থান ঢাকায় গণপরিবহনের চরম সংকট রয়েছে। এই সুযোগে অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। এই পরিবহন সেবায় যোগ হয়েছে মোটরসাইকেলও। দ্রুত বিকাশ হলেও এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ছিল না। ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন দিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়া শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উবার। এর আগে মোটরসাইকেলে যাত্রীসেবা দেওয়া শুরু করে স্যাম। পরে আসে পাঠাও। ট্যাক্সিক্যাব ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসীর কাছে এসব সেবা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দিন দিনই এসব সংস্থার সেবা জনপ্রিয় ও বিস্তৃত হচ্ছে। ঢাকায় উবারে যখন কেউ গাড়ি ডাকে তখন চালক অনুরোধে সাড়া দেওয়া মাত্রই তাঁর নাম, ছবি, রেটিং, গাড়ির লাইসেন্স নম্বর যাত্রীর স্মার্টফোনে ভেসে ওঠে। চালকও যাত্রীর নাম ও রেটিং দেখতে পান। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ও চালকরা অ্যাপস ডাউনলোড করে নিবন্ধনের মাধ্যমে উবারের চালক হতে পারেন।

বাংলাদেশের আইনে অ্যাপসভিত্তিক সংস্থার কাজ অনুমোদিত নয় জানিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রথমে স্যামকে তাদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেয়। পরে উবারকেও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়। এসব সংস্থার প্রতিনিধিরা বিআরটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক যাত্রীসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনতে খসড়া তৈরি করে সরকার।

নীতিমালা অনুযায়ী নতুন গাড়ি রাইডশেয়ারিং সার্ভিসে দেওয়া যাবে না। তবে এক বছর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার পর গাড়ি অ্যাপসভিত্তিক বিভিন্ন সার্ভিসে দেওয়া যাবে।

নীতিমালায় যে ১১টি শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে—কম্পানিকে বিআরটিএর তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। অ্যাপসের মালিককে টিআইএনধারী হতে হবে এবং নিয়মিত ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। আর কম্পানি হলে জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। বাংলাদেশে নিজস্ব অফিস থাকতে হবে। ঢাকায় সেবা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০০, চট্টগ্রামে ৫০ এবং অন্য জেলা শহরে ২০টি গাড়ি থাকতে হবে। গাড়িগুলোর জন্য বিআরটিএর নির্ধারিত কর পরিশোধ ও রুট পারমিট থাকতে হবে। মালিক ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি থাকতে হবে। স্ট্যান্ড ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। বিআরটিএর ওয়েবসাইটে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মালিক ও চালকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে। তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনের সঙ্গে এক লাখ টাকাসহ অন্যান্য ফি জমা দিতে হবে। তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। পরে এটি নবায়ন করতে হবে। নবায়ন ফি হবে ১০ হাজার টাকা। মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে অনলাইনে অভিযোগ করা যাবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তালিকাভুক্তির সনদ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে। এসব শর্ত মোটরযান ও মোটরসাইকেল উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

 

ভোলার ভেদুরিয়ায় গ্যাসের সন্ধান

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নে নর্থ ভেদুরিয়া গ্যাসক্ষেত্রে আরো ৬০০ বিসিএফ (বিলিয়ন কিউবিক ফুট) গ্যাস পাওয়া গেছে। এটি বাংলাদেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্থানটিতে আরো খনন করা হলে আরো গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রথম ঢালাই কাজে যে কর্নিক ব্যবহার করা হয় সেটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


মন্তব্য