kalerkantho


পাকিস্তানের ৭ সেনাকে হত্যার দাবি ভারতের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাকিস্তানের ৭ সেনাকে হত্যার দাবি ভারতের

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় বাহিনীর এক প্রতিশোধমূলক হামলায় গতকাল সোমবার সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। ভারতীয় বাহিনী এমন দাবি করলেও পাকিস্তান জানিয়েছে, অন্তত চার সেনা নিহত হয়েছে তাদের। ভারতীয় বাহিনী জানায়, এর আগে পাকিস্তানের হামলায় এক সেনা নিহত হলে পাল্টা জবাব দিতে তারাও বোমা ছোড়ে।

এদিকে ভারতের সেনাপ্রধানের এক মন্তব্যের জের ধরে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে চাপান-উতরের খেলা শুরু হয়েছে। কিছুটা উত্তপ্ত এসব মন্তব্যের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের আভাস দেখছেন বহু বিশ্লেষক। এই কথার লড়াইয়ে সর্বশেষ মন্তব্য এসেছে ভারতের তরফ থেকে। ‘উসকানির কড়া জবাব দেওয়া হবে’ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। এর আগে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ করে ভারতের কাছে পাকিস্তানের অনুরোধ, ‘দুই দেশই শান্তির পথে হাঁটছে। যুদ্ধভীতি ছড়াবেন না।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশটির ইংরেজি ভাষার দৈনিক দ্য নেশন।

ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজৌরি জেলায় গত শনিবার পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়। এরই প্রতিশোধ হিসেবে পুঞ্চ জেলার মেনধার সেক্টরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর বোমা হামলা করা হয়।’ এতে পাকিস্তানের সাত সেনা নিহত হয়।

তবে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার আজাদ জম্মু ও কশ্মীরের জানদ্রোত সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতীয় গোলাবর্ষণে চার পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

এদিকে ভারতের সেনাবাহিনী দিবস ছিল গতকাল। সকালে ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘আমাদের বাধ্য করা হলে অন্য ব্যবস্থাও নিতে পারি। সে ক্ষেত্রে সামরিক তত্পরতা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ পাকিস্তান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শক্তি ব্যবহার করে আমরা তাদের শিক্ষা দিতে চাই। যেকোনো উসকানির সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। যেকোনো মূল্যে ভারতবিরোধী তত্পরতা বন্ধ করা হবে।’ এর আগে নয়াদিল্লিতে গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতকে প্রশ্ন করা হয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের আরো অবনতি হলে পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না। তখন রাওয়াত বলেন, ‘পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু ভারত তাদের এই ভাঁওতাবাজিকে পরোয়া করে না। যদি সরকার অনুমতি দেয়, তাহলে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে অভিযান চালাতেও পিছপা হবে না ভারতের সেনাবাহিনী।’

রাওয়াতের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘একজন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো মন্তব্য করেছেন রাওয়াত। এ ধরনের মন্তব্য করে পাকিস্তানকে পরমাণু হামলার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভারত। যদি সত্যি আমাদের শক্তি পরীক্ষা করতে চায় ভারত, তাতে আমরা রাজি। আর সেই সঙ্গে সেনাপ্রধানের সন্দেহটাও দূর হয়ে যাবে।’

এরপর গতকাল দ্য নেশনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতকে যুদ্ধভীতি ছড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে ভারতকে বলা হয়েছে, ‘এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো অস্থির করে তুলবে।’ কূটনৈতিক স্তরে আদৌ পাকিস্তান যোগাযোগ করেছে কি না, তা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র : এনডিটিভি, দ্য নেশন, ডন।


মন্তব্য