kalerkantho


আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

পরীক্ষার তারিখ পরে জানাবে বিএসসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) স্টিয়ারিং কমিটির জরুরি সভায় পরীক্ষাটি বাতিল করে পরবর্তী সময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশনস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সভায় গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আট ব্যাংকের পরীক্ষাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল। সোনালী, জনতা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তদন্ত কমিটিতে থাকবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মহাব্যবস্থাপক তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব থাকবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম আজাদ আরো বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের যে দলটিকে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে একটি ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কী পদ্ধতিতে এবং কবে পরীক্ষা হবে।

গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, রূপালী, জনতা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল), রাকাব, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এক হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদে নিয়োগের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য এক ঘণ্টার পরীক্ষা হয় এমসিকিউ বা বহুনির্বাচনী প্রশ্নে। ঢাকার ৬১টি কেন্দ্রে ওই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের একটি দল। ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (সাধারণ) পদের ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন পড়েছিল তিন লাখ ২৬ হাজার। ভুল তথ্য ও সঠিকভাবে আবেদনপত্র পূরণ না করায় কিছু আবেদন বাতিল হয়ে যায়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই লাখ ১৩ হাজার ৫২৫ জন প্রার্থী প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেন। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ৬০টি কেন্দ্রে পার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পাঁচ হাজার ৬০০ প্রার্থীর পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও আসনসংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে পরীক্ষা স্থগিত করে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা আগামী ২০ জানুয়ারি দুটি কেন্দ্রে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএসসি।

তবে এর আগেই পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ তুলে এক দল আবেদনকারী গত রবিবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব, শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সব কেন্দ্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার দাবিসহ ৯ দফা দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার সময় দৈনিক বাংলার মোড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

এর মধ্যেই গতকাল সকালে বিএসসি জরুরি সভায় পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ওই খবর পাওয়ার পরপরই শাহাবাগে উল্লাস করেন আন্দোলনকারীরা।

সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে বিএসসি গঠন করে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রধান করে সরকারি ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের এতে সদস্য করা হয়। তবে নিয়োগ পরীক্ষার অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিএসসির ভাবমূর্তি। এর মধ্যে দুটি পরীক্ষা বাতিলও হয়েছে।

বিএসসির সদস্যসচিব ও বিএসসি সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটা পয়সাও লাগে না এই ব্যাংকগুলোর নিয়োগের আবেদন করতে। এ কারণে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা নেই জেনেও আবেদন করে অনেকে। ভুয়া আবেদনও করেছে অনেকে। তিন লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে আবেদন ভ্যালিডেশনের পর এক-তৃতীয়াংশই বাতিল হয়ে যায়। যারা প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেছে তাদের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র ৫৫ শতাংশ।’


মন্তব্য