kalerkantho


আ. লীগে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী, বিএনপির বিষফোড়া জামায়াত

শিরিনা আফরোজ, পিরোজপুর   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী, বিএনপির বিষফোড়া জামায়াত

পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ আসন। জাতীয় সংসদের ১২৭ নম্বর আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত দুই নির্বাচনে এ কে এম এ আউয়াল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন অভিযোগের কারণে দলে বিভক্তি ও অনৈক্য রয়েছে। এ কারণে আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য আউয়াল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন। দলের একাধিক নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে।

অন্যদিকে মাঠ গোছানোর চেষ্টায় রয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা জামায়াত। এর আগে দুবার জোটের মনোনয়নে এখান থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে থাকা জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

আওয়ামী লীগ : এ আসনটি নিয়ে এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগেই চলছে টানাপড়েন। মাঠে রয়েছেন দলের জেলা ও কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা। রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ, গণসংযোগ, কেন্দ্রে লবিং করা—এসব তত্পরতা দেখাচ্ছেন যে যাঁর মতো করে। এ ছাড়া শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার, ব্যানার লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের অবস্থানও জানান দিচ্ছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলে দেখা দিয়েছে বিভক্তি ও মতানৈক্য, যা নিয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, দলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাকিম হাওলাদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের

সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলের জেলা কমিটির সদস্য ইসহাক আলী খান পান্না এক ব্যানারে সভা-সমাবেশ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেশির ভাগ নেতাকর্মী রয়েছে এই পক্ষে।

অন্যদিকে দলের সভাপতি সংসদ সদস্য আউয়ালের সঙ্গে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খালেক, আক্তারুজ্জামান ফুলুসহ কয়েকজন নেতা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে আলাদাভাবে দলীয় সভা-সমাবেশ, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলেন সংসদ সদস্য আউয়াল। তাঁর অনুসারী ছাড়া অন্যরা দলে ভিড়তে না পেরে অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকতে বাধ্য হয়। এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পরাজিত হন। অভিযোগ আছে, তখন দলের প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় আসনটি হারায় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে সুধাংশু শেখর হালদার তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। তিনি মাত্র ২৮০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কাছে। এরপর সুধাংশু শেখর হালদার মারা যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারকে। তিনি নৌকা প্রতীক না নিয়ে লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ নেতা আউয়াল জয়লাভ করেন। আসনটি জামায়াতের হাত থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে তখন ভেদাভেদ ভুলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছিল।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর আউয়ালের একক আধিপত্য আরো পোক্ত হয়। দলে বাড়ে তাঁর অনুসারী ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মীর সংখ্যা। ত্যাগী নেতাকর্মীরা কেউ কেউ ছিটকেও পড়ে। বাড়তে থাকে তাঁর স্ত্রী-পুত্র আর অনুসারীদের সম্পদ। আওয়ামী লীগে ঠাঁই মিলতে থাকে অন্য দলের নেতাকর্মীদের। দলের নেতাকর্মী, এমনকি সাধারণ মানুষও এক ধরনের জিম্মিদশার মধ্যে পড়ে যায়। এরই মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার দলীয় মনোনয়ন পান আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন এ কে এম এ আউয়াল।

সংসদ সদস্য আউয়ালের দুর্নীতি-অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা ছাত্রলীগ। এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মী দলের সহসভাপতি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের পক্ষে অবস্থান নেয়। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় হাইকমান্ডের মনোনীত নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে আনারস প্রতীকে নিজের লোকজনকে প্রার্থী করে জিতিয়ে নেন আউয়াল। তাঁর কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ তৈরি হয় নিজের পরিবারেই। ভাইদের সঙ্গে কলহে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ভাইদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাঁর তিন ভাই ও দলের প্রায় সব নেতাকর্মী আউয়ালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এতে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। প্রায় বছরখানেক পরে ভাইদের সঙ্গে বিরোধ নিরসনের জোর চেষ্টা করেন তিনি। এক ভাইকে বাগে নিয়ে আলাদা কর্মসূচি এবং গণসংযোগ চালাতে শুরু করেন আউয়াল। কিন্তু আরেক ভাই মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক তাঁর অবস্থানে অনড় থাকায় রাজনীতির মাঠে সংসদ সদস্যের একক আধিপত্য খর্ব হয়। হাবিবুর রহমান পরিণত হন দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ভরসাকেন্দ্র।

এ অবস্থায় সংসদ সদস্য আউয়াল দলীয় বিরোধ মেটানোর জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের শরণাপন্ন হন। গত ২৩ অক্টোবর একটি বিশেষ বর্ধিত সভায় পিরোজপুর সফর করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁরা দলীয় কোন্দল এবং ভাই-ভাই বিরোধ মেটানোর জন্য চেষ্টা চালান। তিন মাসের সময়ও বেঁধে দেন তাঁরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আউয়াল সবাইকে নিয়ে কোনো উপজেলায় বর্ধিত সভার আয়োজন করতে পারেননি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লিখিতভাবে তাগিদ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। বরং দলীয় বিরোধ আরো স্পষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইসহাক আলী খান পান্না কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত এমপি আউয়াল জেলার সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে কোনো সভা-সমাবেশ করতে সক্ষম হননি। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অনেক আগেই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছে।’

দলীয় বিভেদ এবং বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে সংসদ সদস্য আউয়াল বলেন, ‘দলে কোনো বিভেদ নেই। নিন্দুকেরা নানা কথা বলছে। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সভাপতি ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে না। যে বা যারা দলের মধ্যে থেকে দল পরিপন্থী কাজ করছে, তারা সংগঠনবিরোধী কাজ করছে।’

এদিকে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন প্রায় অর্ধ ডজন নেতা। তাঁদের মধ্যে জনসম্পৃক্ততা বিবেচনায় এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক। এ ছাড়া মাঠে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল (সাইদুর রহমান)। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহ্ আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম হায়দার ও শেখ এ্যানী রহমান।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জেলা আওয়ামী লীগকে আমিই সংগঠিত করেছিলাম। দীর্ঘ বছর জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদ দখল না করে দলীয় সকল কর্মসূচিতে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছি। দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদ বুক দিয়ে আগলেছি। আজ যখন ভাই (এমপি) দলের নেতাকর্মী ও জনগণের আস্থা হারিয়েছেন, তখন আবার জনগণ আর আওয়ামী লীগের হাল ধরেছি। দল থেকে মনোনয়ন পেলে অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। দলীয় নেতাকর্মী ও গণমানুষের সমর্থনই আমার প্রধান পুঁজি।’

সংসদ সদস্য আউয়াল আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমার বিশ্বাস অবিচল। ইনশাআল্লাহ মনোনয়ন আমিই পাব।’ 

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘যদি মনোনয়ন পাই অবশ্যই দলীয় নেতাকর্মীদের ও জনগণের আস্থা অর্জনে শতভাগ সক্ষম হব।’ তিনি আরো বলেন, ‘পিরোজপুর-১ আসনের বহু নেতাকর্মী আমার শরণাপন্ন হয়েছে। তারা যেন রাহু মুক্তির অপেক্ষায় আছে। তাই তাদের এ দাবি রক্ষা আর দলীয় সম্প্রীতি ও গণমানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অবশ্যই আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করি।’

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য শাহ্ আলম বলেন, ‘এমপি আউয়ালের কারণে দলে আজকে এ স্থবির অবস্থা। গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন উপেক্ষা করে আমার বিরুদ্ধে একজন প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ওই প্রার্থীকে বিজয়ী করেন তিনি। সীমানা ভাগ হওয়ায় আমার নির্বাচনী এলাকা পরিবর্তন হয়েছে। জনসমর্থন আছে, নেত্রী যদি মনে করেন মনোনয়ন আমি পেতে পারি, অবশ্যই নৌকার হাল ধরব।’

ইসহাক আলী খান পান্না বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এমপি আউয়ালের সহিংস আচরণের কারণে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব ছিল। বর্তমানে রাজনীতির পরিবেশ পাল্টেছে। মানুষের প্রয়োজনে নেতাকর্মীদের তাগিদেই এলাকায় ফিরে এসেছি। জনগণের সাথে দলীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা আছে। তিনি চাইলে অবশ্যই মনোনয়ন নিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করব।’

মনোনয়ন প্রত্যাশায় জনসম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ গোলাম হায়দার। তিনি বলেন, ‘আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিফলনের জন্য তৃণমূলে কাজ করেছি। এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভরসাস্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি চাইলে পিরোজপুরবাসীর জন্য প্রস্তুত আছি।’

বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন শেখ এ্যানী রহমান। সাবেক এমএনএ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত এনায়েত খানের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও শেখ হাফিজুর রহমান টোকনের স্ত্রী এ্যানী এরই মধ্যে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করে তাঁর উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। 

বিএনপি : ১৯৭৮ সালে জেলা বিএনপি গঠনের পর পিরোজপুর-৩ আসন থেকে একবার ডা. রুস্তম আলী ফরাজী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া জেলার তিনটি আসনের একটিতেও বিএনপি থেকে আর কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি। জেলা বিএনপি পড়েছে জামায়াতের রাজনীতির কবলে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট থেকে পর পর দুবার জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কানাঘুষা চলছে আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী মনোনীত হতে পারেন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী।

এ প্রসঙ্গ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জেলা সদর আসনে জামায়াত থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উৎসাহ-আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তা ছাড়া দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। পিরোজপুর-১ আসন দীর্ঘ বছর বিএনপির হাতছাড়া থাকায় এরই মধ্যে দলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সময় হয়েছে জেলার এই প্রধান আসনটি বিএনপিকে ফিরিয়ে দেওয়ার। ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতি করছি, কলেজে শিক্ষকতা করছি। প্রেস ক্লাবসহ বহু সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। মনোনয়ন দিলে অবশ্যই পিরোজপুর-১ আসনটি নেত্রীর হাতে তুলে দিতে পারব।’

জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামন বাবুল গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পিরোজপুরের যেকোনো একটি আসন থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।

জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন বলেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ইমেজ নেই বললেই চলে। দলের ভেতর থেকে সিনিয়র কয়েকজন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হয়ে কাজ করছেন। চেষ্টা করে যাচ্ছি হারানো ইমেজ উদ্ধারের। এলাকার তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ অনেকেরই বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়াচ্ছি। গত হরতালে শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা দাহ করার মামলায় দীর্ঘ ছয় মাস কারাভোগ করেছি। বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে উপস্থিত হয়ে দলের স্বার্থে কথা বলার চেষ্টা করছি। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নতুন নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে আমিও মনোনয়ন প্রত্যাশা করি।’

মনোনয়নের বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে তাঁদের পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির একটি অংশের মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি আগামী নির্বাচনে জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হতে পারেন। তবে সবটাই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, ‘জামায়াতের রাজনীতি করার আর কোনো সুযোগ নেই। মোস্তফা জামাল হায়দার ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়েছেন। মাঠের রাজনীতিতে তাঁরও কোনো শক্ত অবস্থান নেই। অথচ জেলা বিএনপিতে অনেক ত্যাগী যোগ্য বর্ষীয়ান নেতা রয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে একটাই দাবি, পিরোজপুর-১ আসনে যোগ্যতা যাচাই করে বিএনপি থেকেই কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।


মন্তব্য