kalerkantho


সংশোধিত পরিপত্র জারি

মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার ন্যূনতম বয়স একাত্তরে সাড়ে ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার ন্যূনতম বয়স একাত্তরে সাড়ে ১২

মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার ন্যূনতম বয়স আরো ছয় মাস কমিয়ে সাড়ে ১২ বছর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশোধিত পরিপত্র জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পরিপত্র অনুযায়ী এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার বয়স ৩০ নভেম্বর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে কমপক্ষে ১২ বছর ৬ মাস হতে হবে।’

এর আগে গত বছরের ১৯ জুন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার ন্যূনতম বয়স ছিল ১৩ বছর।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৫০তম বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার বয়স ১৩ থেকে কমিয়ে সাড়ে ১২ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সম্মানী ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই পরিপত্র জারি করতে দেরি হয়েছে বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য এখন বীরশ্রেষ্ঠরা ৩০ হাজার, বীর-উত্তম ২৫ হাজার, বীরবিক্রম ২০ হাজার ও বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধারা ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পান। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এক বছর বাড়তি চাকরির সুবিধা পেয়ে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যরা চাকরির  ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কোটার সুযোগ পান। সরকারি- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পোষ্যরা কোটা সুবিধা পায়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পে বিশেষ সুবিধা রাখা আছে।

মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার বয়স কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জামুকার বৈঠকে সদস্যরা প্রাথমিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ছয় মাস কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই তাই এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, এর আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বয়স ছিল ১৫ বছর। ২০১৫ সালের ৩১ মে অনুষ্ঠিত জামুকার ৩০তম বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন বয়স ১৩ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের ৮ নভেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জামুকা সূত্র জানায়, বয়স প্রমার্জন না করায় সারা দেশের প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি তাঁদের সন্তানদের সরকারি চাকরিও আটকে রয়েছে। জামুকার প্রায় প্রতিটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে একাধিক আবেদন উপস্থাপন করা হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বয়স ১৩ বছর থেকে কমিয়ে সাড়ে ১২ বছর করার প্রস্তাব করেন একজন সদস্য। বিষয়টি সমর্থন করেন অন্য সদস্যরাও। জামুকার আগের সিদ্ধান্ত ছিল, ১৯৭১ সালে যাঁদের বয়স ১৫ বছরের কম ছিল তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির আবেদন করতে পারবেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়ে আপত্তি তোলে। পরে কয়েক দফা বৈঠক শেষে ন্যূনতম বয়স ১৩ করা হয়। এখন তা থেকেও ছয় মাস কমানো হলো।


মন্তব্য