kalerkantho


নব্য জেএমবির ২৭ জঙ্গিকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

সরোয়ার আলম   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নব্য জেএমবির ২৭ জঙ্গিকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

দীর্ঘদিন ধরেই ২৭ যুবককে খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রায় দেড় বছর ধরে নিখোঁজ অবস্থায় আছে তারা। গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় প্রশাসন। র‌্যাব-পুলিশ আশঙ্কা করছে, ওই যুবকদের নিয়ন্ত্রণেই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে নব্য জেএমবি। নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজন দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের ধরতে ইন্টারপোল, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পুলিশ সদর দপ্তর চিঠি পাঠিয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গিদের সংগঠনে ভেড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকজন জঙ্গি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে জীবনবৃত্তান্ত দিয়েছিলেন আকরাম হোসেন নামে এক যুবক। বেতন ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। যোগ দেওয়ার পর আকরামকে জানানো হয়, তাঁকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আর ওই প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন তামিম চৌধুরী। কিন্তু প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় আকরাম জানতে পারেন তাঁকে ‘আল্লাহর পথে জিহাদ’ করতে হবে। এর পরই জড়িয়ে পড়েন জঙ্গিবাদে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য দেন নব্য জেএমবির মাঝারি মাপের নেতা মামুনুর রশীদ ওরফে মামুন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গিদের যেভাবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি, সারা বিশ্বে পুলিশের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। কিছু যুবককে আমরা খুঁজছি। তাদের পরিবারের ব্যাপারেও আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিরা উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জেএমবি, হুজি ও এবিটির পলাতক জঙ্গিরা মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের ঘাঁটি রয়েছে। গুলশান ও কিশোরগঞ্জে শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার পর প্রশিক্ষণের ঘাঁটিগুলোর ব্যাপারে টনক নড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এরই মধ্যে র‌্যাব ও পুলিশ শুধু উত্তরাঞ্চলেই ১২টি প্রশিক্ষণ ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের কাছ থেকেও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছে।

তারা জানিয়েছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের জঙ্গি কার্যক্রমে নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশেষ করে বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আরো কয়েকটি জেলায় জঙ্গি প্রশিক্ষণের ঘাঁটি আছে।

সূত্র জানায়, গত দুই বছরের ব্যবধানে ২৭ জন যুবককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে অনেকেই বিত্তশালী পরিবারের সন্তান। তারা নামিদামি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। পুলিশ ও র‌্যাব তাদের খুঁজছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য এসেছে, ওই যুবকদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের বাইরে চলে গেছে। আবার কেউ দেশে থেকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদপুরের ফিরোজ মিয়া, খুলনার সাব্বির, ঢাকার কলাবাগানের মাহমুদুল রায়হান, পিরোজপুরের বাবুল জমাদার, নোয়াখালীর মোস্তাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জের হাবিবুর রহমান, ঝালকাঠির জাহাঙ্গীর আলম, মহাখালীর হোসেন রায়হান, উত্তর বাড্ডার সাব্বির হোসেন, আদাবরের মাহমুদুল আহসান রাতুল, রামপুরার সাদ কায়েস, নিকেতনের আরাফাত হোসেন তুষার, ধানমণ্ডির জুবায়েদুর রহিম, ভাটারার সাজ্জাদুর রহমান, তাহমিদ রহমান সাফি, সাইফুল্লাহ ওজাকি, বাড্ডার জুনায়েদ খান, নিউ ইস্কাটনের ইব্রাহিম হাসান খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারী, চট্টগ্রামের আসিফ আদনান অন্যতম। তাদের খুঁজে বের করতে নানাভাবে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, যাদের খোঁজা হচ্ছে তারা ভালো পরিবারের। যুবকরা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের ধরতে সম্প্রতি ইন্টারপোল, ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত এলাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। মূলত ওই যুবকদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে নব্য জেএমবির কর্মকাণ্ড।          

ডিএমপির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি মামুন ভয়ংকর প্রকৃতির। তার নেতৃত্বে ঢাকার পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে আস্তানা গেড়েছিল জঙ্গিরা। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল মামুনের।

জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি মামুন জানিয়েছে, সে জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য। জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিস্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেওয়া ও নাশকতামূলক হামলা পরিকল্পনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। মামুন বোমা তৈরিতে খুবই দক্ষ। নিখোঁজ যুবকদের মধ্যে দুজনের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক আছে।


মন্তব্য