kalerkantho


প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের জন্য আইন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের জন্য আইন হচ্ছে

অবশেষে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনায় নতুন আইনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এত দিন শুধু এসংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার আওতায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনার সুযোগ ছিল।

আইনের অভাবে সুযোগের অপব্যবহার করে অনেক কলেজই নীতিমালার সব শর্ত পুরোপুরি না মেনেই কলেজের কার্যক্রম শুরু করে। ফলে দেখা দেয় নানা বিশৃঙ্খলা। এসব কাটাতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগের নীতিমালাকে নতুন এক আইনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় জানানো হয়, কলেজ পরিচালনা নীতিমালা যথাযথভাবে পূরণ না করায় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য কয়েকটি কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করে সরকার। কিন্তু সরকারি ওই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার পর আদালত থেকে নিজেদের পক্ষে রায় পায় কলেজগুলো। এ ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায় রিভিউর আবেদন করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য দেশের সব পর্যায় থেকে প্রায়ই মতামত দেওয়া হয়। সব স্তরের জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিশেষ টিমের সদস্যরা বিভিন্ন কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পেয়েছে কয়েকটি কলেজে মানসম্মত হাসপাতাল নেই, হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা এবং লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি নেই, পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই, এমনকি কোনো কোনো কলেজে পূর্ণাঙ্গ ভবনও নেই। এমন কয়েকটি কলেজকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নীতিমালার শর্ত পূরণ করার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি বলেই গত ২০১৬-২০১৭ এবং ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এ ধরনের মানহীন কলেজগুলো কোনো না কোনো উপায়ে যদি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সুযোগ পায়, তবে মানুষ ভালোমানের চিকিৎসক পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। তাই সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রী সব মহলের সহায়তা কামনা করেন।

সভায় আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মেডিক্যাল কলেজগুলোতে আসন বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনা করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) পৃথক পৃথক টিম পাঠিয়ে আবেদনকারী কলেজ পরিদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ টিমকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য