kalerkantho


সরকারি নীতির ব্যাখ্যায় জয়

সব রোহিঙ্গা গ্রহণ করা সম্ভব নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সব রোহিঙ্গা গ্রহণ করা সম্ভব নয়

ফাইল ছবি

দেশের ভেতরে-বাইরে নানামুখী সমালোচনার মধ্যেই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের নীতি ও এর ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে যত সমালোচনাই থাকুক, বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই রোহিঙ্গাবিষয়ক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্ত সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি সদস্য সংগ্রহের আশঙ্কা এবং স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে আসার এই সময়ে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করলে জাতীয় উন্নয়নে ধাক্কা লাগবে, সেই কারণেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

গতকাল শুক্রবার জাপানভিত্তিক আন্তর্জাতিক অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন ‘দ্য ডিপ্লোম্যাটে’ ‘বাংলাদেশ কেন সব রোহিঙ্গা গ্রহণ করতে পারবে না’ শীর্ষক এক নিবন্ধে এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংবাদ ও নিবন্ধ প্রকাশ করে ম্যাগাজিনটি।

জয় লিখেছেন, গত আগস্টের পর থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পশ্চিম মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার মাঝে তারা এসে যোগ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের এই পলায়নকে জাতিসংঘ বলেছে ‘জাতিগত নিধনের প্রামাণ্য উদাহরণ’। বাংলাদেশ নির্যাতিত এসব রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের সহায়তা দিতে কঠোর পরিশ্রম করছে। একই সময়ে তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের সঙ্গে মীমাংসাও করেছে। আর আগামী দুই বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সম্প্রতি দুই দেশ সম্মতও হয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘শরণার্থী শিবিরগুলো সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। সরকার ক্যাম্পগুলোতে থাকা শিশুদের টিকা দিচ্ছে এবং রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করছে, যাতে তাদের সহায়তা পাওয়া নিশ্চিত হয়। রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। এই সব পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। প্রশংসাকারীদের মধ্যে রয়েছেন গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসা পোপ ফ্রান্সিসও।’

‘যদিও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরের মধ্যেই সীমিত রাখা ও তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ না দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকার সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে; কিন্তু এর মানে এই নয় যে রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি আছে। বরং বাংলাদেশি মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়েই এই নীতি নেওয়া হয়েছে।’

জয় বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে আইএস ও আল-কায়েদা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আর বাংলাদেশের নিরাপত্তার উদ্বেগটা এই সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরসাকে কেন্দ্র করেই। কারণ রোহিঙ্গাদের স্রোতের সঙ্গে আরসার সদস্যরাও বাংলাদেশে এসেছে। এ বিষয়ে গত ডিসেম্বরে ‘ফিন্যানশিয়াল টাইমসে’ এক নিবন্ধে মিয়ানমারে একসময় বসবাসকারী বিশ্লেষক রিচার্ড হর্সিও বলেছেন, আরসার নতুন সদস্য সংগ্রহে কোনো কষ্টই করতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সুতরাং বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের দেশব্যাপী চলাফেরার স্বাধীনতা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ সরকারের পক্ষে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, সন্ত্রাসীরা তাদের মধ্যে থেকে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করবে না, যারা মিয়ানমারে আন্ত সীমান্ত হামলা চালাতে পারে।’

‘এর আগে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। এখন ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিলে তা এক ধাক্কায় দেশের জনসংখ্যা ১ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে। এই সংখ্যা খুব বড় মনে না হলেও একই ধরনের জনসংখ্যার স্রোত অনেক দেশেই অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক কাঠামোর সবচেয়ে নিচের স্তরে বসবাস করছে, যেটা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।’

জয় বলেন, দ্রুত উন্নতির জন্য বাংলাদেশ গর্বিত। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং এর বার্ষিক জিডিপি ৭ শতাংশের ওপরে হলেও বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়। এ দেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের স্বল্প মেয়াদে সহায়তা করা সম্ভব; কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিলে তা দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে এবং কঠোর পরিশ্রমের এই অর্জনকে ফের পেছনে নিয়ে যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভিবাসন নীতিও তাদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে না। বিয়ে কিংবা বাংলাদেশি মা-বাবা ছাড়া এখনে জন্ম নেওয়ার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না। সুতরাং অভিবাসন বা শরণার্থী থেকে এখানে নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো আইনি পথ নেই। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার মতো দুটি সাংঘর্ষিক বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনেও কাজ করে যাচ্ছে সরকার।


মন্তব্য