kalerkantho


পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি অর্ধেকেরও বেশি

দ্বিতীয় স্প্যান বসছে চলতি মাসেই

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি অর্ধেকেরও বেশি

গতকাল পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা সেতুর অগ্রগতি অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৫১.৫০ শতাংশ। চলতি মাসেই সেতুটিতে দ্বিতীয় স্প্যান বসতে যাচ্ছে।

গতকাল শনিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু যথাসময়ে উদ্বোধন করা হবে। এটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প। সেতুর নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের সীমানা পেরিয়ে।’

মন্ত্রী জানান, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া হয়ে টুঙ্গিপাড়া যাবেন। তখন তিনি পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখতে পারেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। সেতুর ৪২টি খুঁটির (পিলার) ওপর মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হবে। ৪১টি স্প্যানের অংশগুলো চীনে তৈরি। এরপর সমুদ্রপথে এগুলো জাহাজে করে দেশে আনা হয়। সেখান থেকে মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে নিয়ে তা ফিটিং করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি চলছে। সেতুর ২৪০টি পাইলের মধ্যে ৯৩টি পুরোপুরি স্থাপিত হয়েছে। ১১টি আংশিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের ১৯৩টি পাইলের সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। মাওয়ায় ১৭২টির মধ্যে ৭৩টি ভায়াডাক্টের পাইল শেষ হয়েছে। চারটি পিলারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, ১২টির কাজ চলছে।

ওবায়দুল কাদের গতকাল জানান, পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৫১.৫০ শতাংশ। নদীশাসনের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩৫.৪০ শতাংশ। মূল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৬ শতাংশ। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের কাজ পুরোটা দৃশ্যমান হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের কালের কণ্ঠকে জানান, মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে দ্বিতীয় ৭বি স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হবে ক্রেনে করে। তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার এই ক্রেনে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি নেওয়া হবে। ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণত নদীতে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য পাঁচ মিটার গভীরতা প্রয়োজন হলেও সেটা কমে এসেছে প্রায় তিন মিটারে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এখন প্রয়োজনীয় গভীরতার সৃষ্টি করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্প্যানটি বসানোর সব প্রক্রিয়া শেষের পথে। এরপর ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারে বসানো হবে তৃতীয় স্প্যান।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের আরো জানান, সেতু প্রকল্পের মাওয়া প্রান্তে এক নম্বর খুঁটির (পিলার) কাজ শুরু হয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশে মাটির নানা বৈচিত্র্যের কারণে দীর্ঘদিন মাওয়া প্রান্তে সেতুর কাজ বন্ধ ছিল।


মন্তব্য