kalerkantho


এবার খুলনায় সিনিয়রদের হামলায় স্কুলছাত্র নিহত

পরিবারে মাতম কাটছে না

খুলনা অফিস   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এবার খুলনায় সিনিয়রদের হামলায় স্কুলছাত্র নিহত

খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভীরের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি। ইনসেটে তানভীর। ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন হত্যায় পরিবারে মাতম কাটছে না। পরিবারের ছোট ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা। স্কুলশিক্ষিকা মা রেহেনা আক্তার বিলাপ করে বলেন, ‘ওকে ওরা এভাবে কেড়ে নেবে আমি ভাবতে পারছি না। বিকেলবেলা ছেলে অনুষ্ঠানে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হলো, আর ফিরে এলো না। ওকে ছাড়া কিভাবে বাঁচব। ওরা আমাদের সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে।’

খুলনা পাবলিক কলেজের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিন শনিবার রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে রাজিনের বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। রাজিনের বাবা শেখ জাহাঙ্গীর আলম মোংলা বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, মা রেহেনা বেগম পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষিকা। দুই ভাইয়ের মধ্যে তানভীর ছোট। তারা বয়রা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

রাজিন হত্যার ঘটনায় গতকাল বিকেলে নিহত স্কুলছাত্রের বাবা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১১ জনের নামে খালিশপুর থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা হচ্ছে মুজগুন্নি রোডের বাসিন্দা ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম ইসলাম, বয়রা সবুরের মোড় এলাকার নিয়ামত হোসেনের ছেলে মো. রয়েল, মুজগুন্নি আবাসিকের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে আসিফ প্রান্ত আলিফ, খালিশপুর আফজালের মোড়ের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে মো. জিসান খান, বয়রা মুজগুন্নির বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. সানি ইসলাম ও বয়রা মেইন রোডের মো. আহাদ হোসেনের ছেলে তারিন হাসান রিজভী।

এর আগে পুলিশ রাজিন হত্যায় এজাহারভুক্ত রয়েল, সানি, আলিফ, জিসান ও রিজভী নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এরা সবাই পার্শ্ববর্তী স্কুলের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্র। রয়েলকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বাকিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার প্রধান আসামি নবম শ্রেণির ছাত্র ফাহিম এখনো পলাতক।

গ্রেপ্তাকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মেয়েলি সম্পর্কের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রাজিনের সঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর সম্পর্ক ছিল। রাজিনের মা ও ছাত্রীটির মা একই স্কুলে শিক্ষকতা করায় তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে জানাশোনা ছিল। তারা একসঙ্গে কোচিংয়ে পড়ত। নবম শ্রেণির ছাত্র ফাহিম ওই মেয়েকে পছন্দ করত। সে সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে রাজিনকে তার সঙ্গে কোচিংয়ে পড়তে নিষেধ করে। নিষেধ না শোনায় ফাহিম ও তার বন্ধুরা মিলে রাজিনকে হত্যা করে। তবে পরিবারের সদস্যরা কেউই ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানত না।

নিহত স্কুলছাত্রের ভাই ফারহান তানভীর রাহিন বলেন, ‘রাজিন অত্যন্ত মেধাবী ছিল। কম্পিউটারের অনেক প্রগ্রাম জানত। পিএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। ওর স্বপ্ন ছিল মা-বাবার নামে হাসপাতাল গড়ার। ওরা তো আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। আমি আমার ভাই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

রাজিনের বন্ধু সিহাত হাসানাত অহন, কাজী খালিদ হোসেন ও প্রতিবেশী আব্দুস সালামসহ অনেকেই জানান, পাড়ায় রাজিনকে সবাই ভালোবাসত। ও ছিল মেধাবী। রাজিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রবিবার বাদ জোহর মুজগুন্নিতে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে বাদ মাগরিব পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফনের কথা রয়েছে।

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশারফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজিন হত্যায় জড়িতদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে রাজিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


মন্তব্য