kalerkantho


চামড়াশিল্প-সংশ্লিষ্টদের আশা

নীতি সহায়তা পেলে হতে পারে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত

এম সায়েম টিপু   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নীতি সহায়তা পেলে হতে পারে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত

বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প। ফ্যাশনের হালনাগাদ, পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতা ও সরকারের নীতিগত সহায়তার অভাবে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২২ হাজার কোটি ডলারের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ১২৩ কোটি ডলার। সাত মাসে আয় কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পেলে রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে এই চামড়াশিল্প।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) চামড়া রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশের চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প অর্জন করেছে ৭০ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.৭৯ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.৬১ শতাংশ কম।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিশ্ববাজার রয়েছে ২১ হাজার ৭৪৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় মাত্র ১২৩ কোটি ডলার। চামড়ার জুতা রপ্তানি করে আয় করেছে ৫৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার এবং কাঁচা চামড়া রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরে এই খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার। জুলাই থেকে জানুয়ারি মেয়াদে এই খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ৭৮ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার।

ইপিবি সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কাঁচা চামড়া রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল ১৩ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার।

অথচ রপ্তানি আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭.৫১ শতাংশ কম। গত অর্থবছরে জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ১৬ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় চামড়ার রপ্তানি আয় কমেছে ৩১.৪৯ শতাংশ।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ২৪ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে এ খাতের পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ শতাংশ কম। তবে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের চেয়ে এ খাতের পণ্য রপ্তানি আয় ১.৮৬ শতাংশ কম।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে চামড়ার জুতা রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪.৬৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের রপ্তানি আয় ৬.৫৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চামড়ার জুতা রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৩৩ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার।

চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি এ খাতের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়েছে।’

সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, ‘সাভারের চামড়াপল্লীতে স্থানান্তর করার পরও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার কাজ না করায় পরিবেশগত একটি সমস্যায় পড়েছে খাতটি। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্য বিশ্ববাজারের একটি ফ্যাশনেবল পণ্য। সেভাবে দেশে ফ্যাশনের হালনাগাদও হচ্ছে না। ফলে এ খাতটি চলতি অর্থবছরে এসে একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে।’



মন্তব্য