kalerkantho


রোহিঙ্গাদের শূন্য রেখা থেকেও তাড়ানোর চেষ্টায় মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের শূন্য রেখা থেকেও তাড়ানোর চেষ্টায় মিয়ানমার

ফাইল ছবি

সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থানরত প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সীমান্ত থেকে তাদের রাখাইনের বাড়িঘরে ফিরতে মিয়ানমার পরিচয় যাচাইয়ের শর্ত দিচ্ছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন গত মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার ইস্যুতে আলোচনায় এসব অভিযোগ করেন।

এর আগে জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত কিয়াও তিন নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫ ফেব্রুয়ারি (আজ বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে আসবেন। তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে প্রত্যাবাসন এবং সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া দুই দেশের কর্মকর্তারাও আজ সীমান্তে বৈঠক করবেন এবং রোহিঙ্গাদের তাদের গ্রামে ফিরে যেতে উৎসাহিত করবেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই রোহিঙ্গাদের ওই এলাকা ছাড়তে হবে। কারণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তচুক্তির আওতায় অভিন্ন সীমান্তের শূন্য রেখায় স্থাপনা নির্মাণ বা বসবাস করা নিষিদ্ধ।

এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তাঁর বক্তব্যে এ বিষয়ে বলেন, প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা বর্তমানে সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ বা শূন্য রেখায় অবস্থান করছে। তারা এ যাবৎ বাংলাদেশে ঢোকেনি। তারা মিয়ানমারে তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার আগ্রহী বলেই জানা যায়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, নিজেদের কৃষিজমিতে অধিকার ও অন্যান্য জীবিকার সুযোগ চায়। তারা তাদের চলাচলের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের ওই স্থান ত্যাগ করার এবং বাড়িঘরে ফেরার আগে পরিচয় যাচাই করার শর্ত দিচ্ছে। অথচ তারা সীমান্ত অতিক্রম করে এখনো বাংলাদেশে ঢোকেনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ মনে করে যে তাদের পুনর্বাসন এ দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে মিয়ানমারের জন্য প্রকৃত পরীক্ষা।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন অভিযোগ করেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যসংকট সৃষ্টি করে এবং বাজার থেকে কেনাকাটা, চলাফেরা ও চাষাবাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে মিয়ানমার।

 


মন্তব্য