kalerkantho


ভাটারায় ছয়টি কারখানায় অভিযান

ফিল্টার পানিতে কলিফর্ম, নীল রঙের জারে ক্যান্সার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফিল্টার পানিতে কলিফর্ম, নীল রঙের জারে ক্যান্সার

ফিল্টার পানির চাহিদার সুযোগ নিয়ে এর বাজারজাতকারী বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই অতি মুনাফা করতে জারে অবিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে। ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একের পর এক এ রকম ঘটনা ধরা পড়ছে।

এই পানিতে পাওয়া যাচ্ছে মলের জীবাণু কলিফর্ম। আর পানি সরবরাহের জার ফুড গ্রেড অনুযায়ী না হওয়ায় ক্যান্সারের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে ভোক্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক জার নিরাপদ পানির উত্পাদনে খরচ পড়ে কমপক্ষে ৪০ টাকা। কিন্তু পানি শোধনপ্রক্রিয়ার মধ্যে খানিকটা গোলমাল করতে পারলেই এই খরচ নেমে আসে তিন-চার টাকায়। আর সরাসরি জারে ওয়াসার পানি ভরে দিতে পারলে তো কোনো খরচই নেই।

গতকাল বুধবার ভাটারা থানার সোনামাইদ হাতিবাড়ী এলাকার ওসামা ড্রিংকিং ওয়াটারের কারখানায় অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই অভিযানের সময় সরেজমিনে দেখা গেছে, সব ধরনের যন্ত্রপাতি কারখানায় স্থাপন করা রয়েছে। তবে সেগুলো যে ব্যবহার করা হয় না, তার প্রমাণ ধুলার স্তর জমে যাওয়া। একেবারে প্রথম ধাপের পানি শোধনের জন্য যে লম্বা জারের মধ্যে ফিল্টার বসানো থাকে ওই কারখানার চারটি জারের একটিতেও সেই ফিল্টার পাওয়া যায়নি। বরং জারগুলোর ভেতরে স্তরে স্তরে শ্যাওলা জমে রয়েছে।

এই কারখানার মালিক সাইদুল ইসলাম র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে তিনি সব প্রক্রিয়া মেনেই পানি উত্পাদন করছেন। কিন্তু কোনো কথারই প্রমাণ দিতে পারেননি। বরং প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টায় যখন ল্যাবে নিয়ে যান তখন দেখা গেল কোনো কিটের (শোধনের রাসায়নিক) তারিখ নেই। ধাপ্পাবাজি ধরা পড়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁর কারখানা সিল করে দেন। একই সঙ্গে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া কোকা-কোলার ঢালিবাড়ী রোডে নাম-ঠিকানাবিহীন আরো একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। যেখানে দেখা গেছে, একটি কক্ষে একটি মোটর বসানো; যা দিয়ে ওয়াসার পানি ওপরে উঠানো হয়। মোটরের ওপরে একটি পাইপ লম্বা করে বসিয়ে তার সঙ্গে চারটি পানির কল লাগানো। ওয়াসার পানি এই কলগুলো দিয়ে সরাসরি জারে ভরে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। 

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই প্রতি জার পানি বিক্রি করা হয় ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। এই কারখানার দুজন কর্মচারীকে ধরে নিয়ে গেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি কারখানাটিও সিল করে দেওয়া হয়।

তবে ভাটারার হাজিবাড়ি মার্কেটের এ-১ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কারখানায় অভিযান চালায় বিএসটিআই ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, পানি শোধনের সব ধরনের সরঞ্জাম অল্প অল্প করে রাখা হয়েছে। তবে সেখানেও ফাঁকিঝুঁকি দিয়ে পানি উত্পাদন করা হয়। পরে সেই পানির জার ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেন মালিক নজরুল ইসলাম। এভাবে পানি উত্পাদন করতে জারপ্রতি খরচ পড়ে চার-পাঁচ টাকা। তিনি ডিলার পর্যায়ে বিক্রি করেন সাত টাকায়। আর ডিলাররা এলাকায় দোকানে দোকানে দিতে রাখে ৬০-৭০ টাকা।

কারখানাটির সব সরঞ্জাম সচল বলে মালিককে আরেকবার শোধরানোর সুযোগ দেন আদালত। তবে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

একইভাবে এই এলাকার চাঁদের আলো ড্রিংকিং ওয়াটার, ক্রিস্টাল ড্রিংকিং ওয়াটারসহ মোট ছয়টি কম্পানির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কম্পানির কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ছয়টি কারখানা থেকে জব্দ করা কয়েক হাজার পানির জার ভাটারা থানার পাশের রাস্তায় ধ্বংস করা হয়। নিম্নমানের এই প্লাস্টিকের জারগুলো থেকে ক্যান্সারের মতো রোগ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, ফুড গ্রেডের জারগুলো সাধারণত অনেক স্বচ্ছ হয়। বাইরে থেকে পানি স্পষ্ট দেখা যায়। কিন্তু নিম্নমানের জারগুলো সাধারণত নীল রঙের হয়। এর মধ্য দিয়ে পানি স্পষ্ট দেখা যায় না। এ বিষয়ে ক্রেতাদেরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

 

 


মন্তব্য