kalerkantho


চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চারজন নিহত হয়েছে। সীতাকুণ্ড জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নিহত হয়েছে সাবদেল হক কালু নামের এক ডাকাত সর্দার। নারায়ণগঞ্জ ধলেশ্বরী নদীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে নৌ ডাকাত জিল্লুর রহমানসহ দুজন। সোনারগাঁয় নিহত হয়েছে ডাকাত সর্দার জাহাঙ্গীর হোসেন। গতকাল সোমবার ভোরে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে জানা গেছে, নিহতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থলগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে।

চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গতকাল ভোরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সেখানে র‌্যাব-৭-এর একটি দল অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছিল। তখন সন্ত্রাসীরা র‌্যাব টিমকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা গুলি হলে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। আহত অবস্থায় সাবদেল হক কালু (৪২) নামের একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। র‌্যাব ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১৪টি অস্ত্রসহ ৪৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি ওয়ান শ্যুটার গান ও ছয়টি এসবিবিএল। নিহত কালু জেলার ভুজপুর থানার চৌকিদার বাড়ির আনা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা আছে।

র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান জানান, সাবদেল হক কালু একপর্যায়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলে। পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তা বিক্রি করত। অবৈধভাবে জমি দখল করে রীতিমতো অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, কালুর বিরুদ্ধে যুবদল নেতা অপহরণসহ সাতটি মামলা রয়েছে। মূলত ডাকাতদল হিসেবে পরিচিত ছিল তার বাহিনীর সদস্যরা। কালুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পৃথক অভিযানে র‌্যাব একই এলাকা থেকে এরশাদ (৩২) ও একরাম উদ্দিন (১৯) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফটিকছড়ির বাসিন্দা এ দুজনের কাছে দুটি অস্ত্র পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সলিমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে গতকাল ভোরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ নৌ ডাকাত বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে জিল্লুর রহমান (৩৫) নামের একজনের পরিচয় মিলেছে। নিহত অন্য যুবক (২৫) তার সহযোগী বলে স্থানীয়রা জানায়। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

র‌্যাব-১১-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান জানান, ভোররাতে আলীরটেক এলাকার ধলেশ্বরী নদীতে নৌ ডাকাত জিল্লুর বাহিনীর আট-দশ জন একটি জাহাজে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংবাদ পেয়ে র‌্যাবের টিম উপস্থিত হলে তারা গুলি ছুড়তে থাকে।  র‌্যাবও পাল্টা গুলি করলে আহত অবস্থায় দুজনকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। আহতদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন।

এদিকে সোনারগাঁ উপজেলার মীরেরবাগ এলাকায় ভোরে পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদলের বন্দুকযুদ্ধ হলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮) নামের এক ডাকাত নিহত হয়েছে। পুলিশ পাঁচজন ডাকাতকে আটক করেছে, উদ্ধার হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশি ও বিদেশি অস্ত্র।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, ভোরে জামপুর ইউনিয়নের মীরেরবাগ এলাকায় ১০-১৫ জন ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাত সর্দার জাহাঙ্গীর হোসেন আহত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, অভিযানকালে স্বপন মিয়া, মাসুম, নাজমুল হোসেন, আলমগীর ও রুবেল নামে পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তল, একটি ছোরা ও দুটি চাপাতি উদ্ধার হয়েছে। ডাকাত সর্দার জাহাঙ্গীর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার লঘুরচর গ্রামের আসকর আলীর ছেলে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতিসহ ১২টি মামলা রয়েছে।


মন্তব্য