kalerkantho


দায়িত্ব নিলেন মাইক পম্পেও

পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এ পদে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) প্রধান মাইক পম্পেওকে নিয়োগ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার অনেকটা আকস্মিকভাবেই এ সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সদা চঞ্চল এই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অবশ্য টিলারসনের কখনোই খুব ভালো বনিবনা ছিল না।

এক টুইটে ট্রাম্প টিলারসনকে তাঁর কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অসাধারণ দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ট্রাম্প সিআইএ প্রধান হিসেবে জিনা হাসপেলের নাম ঘোষণা করেছেন। এ পদে তিনিই প্রথম নারী। তিনি ট্রাম্পের আমলেই সংস্থার উপপরিচালক হয়েছিলেন। টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও আমাদের নতুন পররষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি অসাধারণ কাজ করবেন। রেক্স টিলারসনকে তাঁর কাজের জন্য ধন্যবাদ। সিআইএর নতুন পরিচালক হবেন জিনা হাসপেল। এই পদে প্রথম কোনো নারীকে বেছে নেওয়া হলো। সবাইকে অভিনন্দন।’

তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প ভিন্ন কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের (টিলারসনের সঙ্গে ট্রাম্পের) মধ্যে মতবিরোধ ছিল। ইরানের পরমাণু চুক্তির কথা ধরুন। আমি মনে করি এর চেয়ে বাজে চুক্তি আর হয় না। তিনি মনে করতেন চুক্তিটি চলনসই। আমি চাইছিলাম চুক্তিটি ভেঙে যাক বা অন্য কিছু করি। তাঁর ভাবনা ভিন্ন ছিল। সত্যিকার অর্থে, আমাদের চিন্তা এক রকম ছিল না।’

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল জানান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরুর আগে ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনতে চাইছিলেন। তারই অংশ হিসেবে এই রদবদল। তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগে প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত হতে চাইছিলেন যে তাঁর সঙ্গে একটি নতুন দল রয়েছে।’ গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। ট্রাম্পও সে প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এর পরই মন্ত্রিসভায় রদবদল আনলেন প্রেসিডেন্ট।

এক্সোনমবিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী টিলারসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এক বছর আগে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঠিক স্বস্তিকর নয়। এর আগেও কয়েক দফা টিলারসন পদত্যাগ করবেন অথবা তাঁকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প বলে খবর প্রকাশ হয়। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাটিই ঘটে গেল।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানায়, উনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশের আগেই টিলারসন মন্তব্য করেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ট্রাম্পের ঘোষণা আসার পর আবার তিনিই বলেন, ‘এই খবরে বিস্ময়ের কিছু নেই।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, এ সিদ্ধান্ত ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই নিয়েছেন।’ তাঁর পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্যগুলো সংকট তৈরি করে থাকতে পরে। আরো জানা যায়, গত শুক্রবার টিলারসনকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন ট্রাম্প। সে সময় টিলারসন আফ্রিকা সফরে ছিলেন। এরপর শনিবার বলা হয়, টিলারসন অসুস্থ এবং তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন।

বরখাস্তের পর টিলারসনের সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভ গোল্ডস্টেইন এক বিবৃতিতে বিদায়ের সৌজন্য এবং পম্পেওকে অভিনন্দন জানানোর কাজটি করেছেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিএনএন।


মন্তব্য