kalerkantho


শোকে স্তব্ধ সিলেটে নেপালি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস

অসুস্থ হয়ে দুজন হাসপাতালে

সিলেট অফিস   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শোকে স্তব্ধ সিলেটে নেপালি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস

ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুুুর্ঘটনায় নেপালের ১১ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ এখন শোকে স্তব্ধ। কলেজের নেপালি শিক্ষার্থীদের হোস্টেলগুলোতে রাজ্যের নীরবতা। সহপাঠীদের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নিহতদের স্মরণে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল ক্যাম্পাসে পতাকা অর্ধনমিত ছিল, কালো ব্যাজ ধারণসহ নানাভাবে শোক পালন করা হচ্ছে।

কলেজের ১৯তম ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ছুটিতে গত সোমবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে বাড়ি ফিরছিলেন এই কলেজের ১৩ জন নেপালি শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় এঁদের ১১ জনই নিহত হয়েছেন। প্রিন্সি ধামি ও সামিরা বায়জানকার নামের দুজন বেঁচে থাকলেও তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একসঙ্গে এত মৃত্যু যেন হতভম্ব করে দিয়েছে তাঁদের সহপাঠী ও শিক্ষকদের।

রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সক ও সাবেক শিক্ষার্থী মো. ফয়জুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কলেজের সাবেক নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, আমাদের কলেজের

দুজন শিক্ষার্থী এখনো বেঁচে আছে। তাদের মধ্যে সামিরা কোমরে মারাত্মক আঘাত পেয়েছে এবং প্রিন্সি কোমায় রয়েছে।’

স্বদেশের এই সহপাঠীদের মৃত্যুর সংবাদ শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কলেজের দুই নেপালি শিক্ষার্থী। কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার আবুল কালাম মনজুর মুর্শেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৯তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে আজ (মঙ্গলবার) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওবিকা নামের শিক্ষার্থীটি সকালে এবং নেহা মেগার নামের আরেকজন দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এত বড় দুর্ঘটনার সংবাদে মানসিক ধকল সইতে না পেরেই তারা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নগরের তারাপুর চা বাগান এলাকায় রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ হোস্টেল-০৪-এ গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অস্বাভাবিক নীরবতা। নিরাপত্তারক্ষী আমিনুল বললেন, ‘আজকে সারা দিন ধরেই ছাত্রদের খুব একটা সাড়া-শব্দ নেই। যে যার মতো নিজের কক্ষে সময় কাটাচ্ছে আর মোবাইলে বা ফেসবুকের মাধ্যমে সেখানকার খোঁজখবর এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’ প্রায় আধাঘণ্টা দাঁড়ানোর পর একজন শিক্ষার্থীকে বাইরে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি। ‘কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। আর আমার বলারও কিছু নেই,’ বলেই তিনি দ্রুত গেটের দিকে চলে যান।

হূদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাজ ধারণ, সব ক্লাস পরীক্ষা ও ইনস্টিটিউশনাল পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে নেপালে তাঁদের লোক কাজ করছে জানিয়ে কলেজের সহকারী পরিচালক ফয়জুর রহমান বলেন, ‘আমরা আরো নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কর্মসূচিতে যাব।’

নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সোমবার রাতেই মোমবাতি প্রজ্বালন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এ সময় কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। রাতে আলোর মিছিল করে নগরের পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য