kalerkantho


আ. লীগে ইলিয়াস, বিএনপিতে রফিকুল শক্ত অবস্থানে

শফিক সাফি ও তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আ. লীগে ইলিয়াস, বিএনপিতে রফিকুল শক্ত অবস্থানে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১৬ আসনে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক নেতা তৎপরতা শুরু করেছেন। রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর থানা এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে দলের পল্লবী থানা সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা শক্ত অবস্থানে আছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। আর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

তবে দুই দলেই আরো অনেক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রয়েছেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক এস এ মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির মহিউদ্দিন। তা ছাড়া ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার বড় ভাই এখলাস উদ্দিন মোল্লাও এবার আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

আর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক, মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর মিরপুর-পল্লবীর পুরো এলাকাটি ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসে বৃহত্তর মিরপুর-পল্লবী এলাকার এ আসনটি ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬—এ তিনটি আসনে ভাগ হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসনটির সংসদীয় তালিকায় অবস্থান ১৮৯ নম্বরে।

আওয়ামী লীগ : ঢাকা-১১ আসন থাকাকালে ২০০১ সালে কামাল আহমেদ মজুমদার নির্বাচন করেন। আসন পুনর্বিন্যাস হওয়ার পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। তবে সর্বশেষ এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরেক নেতা এস এ মান্নান কচি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় অনেকটা চাপে ছিলেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। তবে বর্তমানে ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার কবজায়ই বেশির ভাগ সহযোগী সংগঠন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রকাশ্যে মাঠে আসেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। এরপর ২০০৪ সালে তিনি পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। সেই থেকে এখনো তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে প্রায় ৪৬ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। এরপর ২০১৪ সালের

নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেননি। এ সময় এস এ মান্নান কচি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ নির্বাচনে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে কচিকে পরাজিত করে বিজয়ী হন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী।

ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার পক্ষে অবস্থা নিয়ে রূপনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি রজ্জব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা-১৬ আসনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক ও অভিন্ন। ২০০১ সালের পর থেকে দলকে সুশৃঙ্খলভাবে গুছিয়ে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রূপান্তর করেছেন ইলিয়াস মোল্লা। এলাকার রাস্তাঘাট, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সব সমস্যার সমাধান করে তিনি এখন গণমানুষের নেতা হয়েছেন। এই মুহূর্তে সুষুম নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

রজ্জব হোসেন বলেন, ‘আমরা দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা আশা করি ইলিয়াস মোল্লাকেই দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম সারওয়ার আলম বলেন, ‘দলকে সুসংগঠিত করার পেছনে ইলিয়াস মোল্লার ভূমিকা অনেক। তিনি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করছেন। অনেক শ্রমের বিনিময়ে আজ পল্লবী ও রূপনগর থানার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি মনোনয়ন পাবেন, এটাই আমরা বিশ্বাস করি।’

পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী বলেন, গত বিরোধী দলের সময় থেকেই এ আসনে ইলিয়াস মোল্লার ঘাঁটি। তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি কখনো বড় নেতা হতে চাননি। তিনি নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এখন দল অবশ্যই এসব বিষয় বিবেচনা করে তাঁকে পুনরায় মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছেন তাইজুল।

ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা নিজেও দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য। আমার দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে আমি মানুষের মন জয় করতে পেরেছি। এখন ভোট হলেই এর প্রমাণ দেওয়া যাবে।’

অন্যান্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে অনেকের নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতে পারে। আমি দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে আছি, মাঠে থাকব। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’

ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বেশ আলোচনায় আসা এস এ মান্নান কচি ১৯৮৩ সালে বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মাঝপথে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকা কচি বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই আসন থেকে এস এ মান্নান কচি এবারও নির্বাচন করার জন্য এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এস এ মান্নান কচি বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন থেকে ছাত্ররাজনীতি শুরু করি। পারিবারিকভাবেই আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক জীবনে অনেক মামলার আসামি হয়ে জেলে গিয়েছি। নেতা হওয়ার জন্য কখনো কাজ করিনি। নেত্রী আমাকে ঢাকা মহানগর (অবিভক্ত) সাধারণ সম্পাদক করেন। এর পর থেকে আমি রাজনীতি ছাড়া আর অন্য কিছু চিন্তা করিনি। দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে পার করেছি। এখন নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি।’ তবে তিনি বলেন, ‘নৌকা যাকে দেবে তাকে নিয়েই আমি কাজ করব।’

এস এ মান্নান কচির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আমীর হোসেন মোল্লা বলেন, ‘এখন কিছু হাইব্রিড লোক আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে। তাই দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমরা বিকল্প প্রার্থী চাই। এ ক্ষেত্রে এস এ মান্নান কচি মেধাবী ছাত্রনেতা। তাঁকে মনোনয়ন দিলে দল বিজয়ী হবে।’

পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন খুব কঠিন হবে। এ নির্বাচনে নতুন প্রার্থী দরকার। এখানে কচি ভাই ভালো প্রার্থী। তাঁকে মনোনয়ন নিলে দল বিজয়ী হবে।’

আরেক প্রার্থী মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন নির্বাচন করতে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর রয়েছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি দলের হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। ১৯৮৮ সালে ওয়ার্ডের রাজনীতির মাধ্যমে কাজ শুরু করি। এরপর মহানগরের সদস্য, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১৪ সাল থেকে উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’

তবে তিনি বলেন, ‘আমার দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়েই নির্বাচন করব।’ অবশ্য দলের নেতাকর্মীদের থেকে অনেক দূরে রয়েছেন এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে এখন মনোনয়নপ্রত্যাশী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার বড় ভাই এখলাস উদ্দিন মোল্লাও। তিনি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানা গেছে।

তবে এখলাস উদ্দিন মোল্লা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর ছেলে ইমরান উদ্দিন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বাবা নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কথায় আওয়ামী লীগে কাজ শুরু করেন। তিনি এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করি। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়।’

সাবেক ছাত্র নেতা বর্তমানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির মহিউদ্দিনও এ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক এ সভাপতি বলেন, ‘অনেক জেল-জুলুম মোকাবেলা করে রাজনীতি করেছি। নেত্রী যদি এখন দল থেকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি বিজয়ী হব।’

বিএনপি: ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তবে তিনি জিততে পারেনি। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪২টি মামলা রয়েছে। এ কারণে তিনি অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তবে আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি এই আসনে নির্বাচন করবেন, নাকি নিজ জেলা কুমিল্লা থেকে করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।

এদিকে এই আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান। বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৭ বছর নির্বাচিত কমিশনার, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।

আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়টি বলার সময় এখনো আসেনি। এর পরও যদি নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে ঢাকা-১৬ থেকে মনোনয়ন চাইব।’

দল যদি তাঁকে এমপি হওয়ার যোগ্য মনে করে তাহলে ধানের শীষের জন্য মনোনীত করারও সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন আহসান উল্লাহ হাসান। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সব সময় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।’

কৃষক দলের সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেনও নির্বাচন করতে চান। নিজ অর্থায়নে এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন তিনি। মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি দলের বিভিন্ন বার্ষিকী ও জাতীয় দিবসকে ঘিরে তাঁর শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়া ব্যানার, পোস্টার শোভা পাচ্ছে এলাকায়।

৩০ বছর মিরপুর-পল্লবী এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘দল সুযোগ দিলে ধানের শীষের এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব বলে আশাবাদী।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক ২০১৩ সালে ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে পুরোদমে রাজনীতি শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক। রূপনগর এলাকায় শৈশব, ছাত্রজীবন পার করা এই খেলোয়াড়ের পুরো পরিবারই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মা ছিলেন এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস চার দিন কারাভোগ করা আমিনুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমি পল্লবী ও রূপনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। জেল-জুলুম তোয়াক্কা না করে নেত্রীর ডাকে সব কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছি। পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থ ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস, আমার যোগ্যতা ও ত্যাগের কথা বিবেচনা করে দেশনেত্রী ও তারেক রহমান আমাকে মূূল্যায়ন করবেন।’


মন্তব্য