kalerkantho


গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৭-১৮

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষায় জবাবদিহি জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষায় জবাবদিহি জরুরি

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৪-এর রূপকল্প অর্জনে শিক্ষায় জবাবদিহি জরুরি। আর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়বদ্ধতা সরকারের। জবাবদিহিও সরকার থেকেই শুরু করতে হবে।

ইউনেসকো, ঢাকা ও বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের (বিএনসিইউ) যৌথ আয়োজনে ‘গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৭-২০১৮’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে। ২০৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি রিপোর্টের তথ্য মতে, সারা বিশ্বে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকের চেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্বে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

রাজধানীর নীলক্ষেতে ব্যানবেইস ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বৈশ্বিক এই প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক, উচ্চ মানসম্মত ও সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর জবাবদিহি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, ইউনেসকো প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রগ্রাম বিশেষজ্ঞ (শিক্ষা) সুন লেই, বিএনসিইউর সচিব মনজুর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ২৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু-কিশোর স্কুলের বাইরে ছিল। ২০১০-১৫ সময়ে ১২৮টি দেশের মধ্যে ৪০টি দেশে চারজনের মধ্যে একজন মাধ্যমিক স্তর শেষ করেছে। ৬০টি দেশে এই অনুপাত দুজনের মধ্যে একজনেরও কম। আর ১৪টি দেশের সমাপনী হার ৯০ শতাংশ। বিনা ব্যয় ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করলে এই ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পর্বে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা সমাপনীর হার ৮৩, নিম্ন মাধ্যমিকে ৬৯ ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেই বেশি ঝরে পড়ছে। ই-৯ ভুক্ত দেশ হিসেবে চারটি দেশ তিন স্তরের তথ্য পাঠালেও বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তান কোনো তথ্য পাঠায় না। কাজেই এই দেশগুলো গুণগত মান ঠিক রাখছে কি না সেটা নির্ধারণ করা কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব দেশকে আন্ত জাতীয় জরিপে অংশগ্রহণ ও জাতীয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিবেদনে জবাবদিহির নানা দিক ও এসডিজি ৪-এর ১০টি দিকের বিস্তারিত তুলে ধরে সবল জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়তে শিক্ষার সঙ্গে জড়িতদের সবার মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন ও অংশীদারিমূলক বোঝাপড়া গড়ে তোলা, শিক্ষা খাতে প্রত্যয়যোগ্য পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ বাজেট বাস্তবায়ন, কার্যকর নিয়মবিধি ও পরিবীক্ষণ পদ্ধতি গড়ে তোলা, ব্যত্যয় ঘটলে শাস্তির ব্যবস্থা এবং স্কুল ও শিক্ষকদের জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘দেশের শিক্ষা খাত এগিয়ে নিতে এই রিপোর্ট সহায়ক হবে। সবার চেষ্টায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে বর্তমান অবস্থায় আনা হয়েছে। এখন শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। বৈশ্বির শিক্ষা প্রতিবেদন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা শিক্ষার জবাবদিহিতায় জোর দেব। শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির ৪ শতাংশ ব্যয় করার বিধান থাকলেও আমরা এখনো পারিনি। এখনো তা জিডিপির ২ শতাংশের নিচেই রয়েছে। তবে শিক্ষা খাতে গুরুত্ব বেড়েছে।’

 

 


মন্তব্য