kalerkantho


দখল-পুনরুদ্ধারের লড়াই তিন দলের

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



দখল-পুনরুদ্ধারের লড়াই তিন দলের

জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে সিলেট-৪ সংসদীয় আসন। খনিজসম্পদ, সীমান্ত ও বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কারণে দেশজুড়ে আলাদা পরিচয় পাওয়া এ আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের কবজায়। চলতি মেয়াদসহ পাঁচবার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সরকার দলের ইমরান আহমদ। আসছে সংসদ নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখতে তৎপরতা শুরু করেছে দলটি। দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে বর্তমান সংসদ সদস্য এগিয়ে থাকলেও তাঁর সঙ্গে আছেন আরো দুই নেতা। একই অবস্থা সংসদের বাইরে থাকা বড় দল বিএনপিতেও। সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম হেভিওয়েট প্রার্থী হলেও মনোনয়ন দৌড়ে তাঁর সঙ্গে আছেন আরো দুজন। পাশাপাশি জোটগত নির্বাচন হলে তাঁদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হবেন জামায়াত নেতা ও জৈন্তাপুুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। একই  ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আরেক দাবিদার হয়ে দাঁড়াবেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক এ টি ইউ তাজ রহমান।

দেশের অন্যতম বৃহৎ সংসদীয় আসনটিতে ভোটার সংখ্যা তিন লাখের বেশি। এর মধ্যে শুধু গোয়াইনঘাট উপজেলার ভোটার সংখা এক লাখ ৮০ হাজার। এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের মন জয় করতে অনেক আগে থেকেই তিন উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বড় দুই দলের দীর্ঘদিনের পুরনো দুই মুখ ইমরান আহমদ ও দিলদার হোসেন সেলিম ছাড়াও উভয় দলের একাধিক প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির একজন করে প্রার্থী নিজেদের মতো করে এলাকায় গণসংযোগ করে চলেছেন। প্রবাসী আগ্রহী প্রার্থীরাও নিয়মিত আসছেন এলাকায়। সব মিলিয়ে আস্তে আস্তে সরগরম হয়ে উঠছে সিলেট-৪ আসন।

আওয়ামী লীগ : ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমকে পরাজিত করে প্রায় এক যুগ পর আসনটি পুনরুদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরান আহমদ। দশম সংসদেও তিনি এই নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। টানা দুই মেয়াদে সংসদ সদস্যের দায়িত্বে আছেন তিনি। সরকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হন বিএনপির দিলদার হোসেন সেলিম।

এলাকায় উপস্থিতি কম, এমন অপবাদ ছিল ইমরান আহমদের। তবে দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত সংসদীয় এলাকায় যাতায়াত করছেন। টানা এক দশক সরকারি দলের সংসদ সদস্যের দায়িত্বে থেকে ইমরান আহমদ মোটা দাগের বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন, যেগুলো আগামী নির্বাচনে তাঁর পক্ষে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় লোকজন। কোম্পানীগঞ্জে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারির সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভেঙেচুরে চলাচলের অনুপযুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল সড়কটি। সম্প্রতি এটির সংস্কার শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কারকাজ ভোটারদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে দলের নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া সংসদীয় এলাকায় হাইটেক পার্ক নির্মাণ, বিদ্যুতায়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন ইমরান আহমদ। তবে মুদ্রার অন্য পিঠে তাঁর বিরুদ্ধে তিন উপজেলার পাথর ‘রাজ্য’ লুটকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীরা জৈন্তা, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারীগুলোতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংসকারী ‘লিয়াকত বাহিনী’ ও ‘শামীম বাহিনী’র পৃষ্ঠপোষক বলেন সংসদ সদস্য ইমরানকে। পাথরখেকোরা সংসদ সদস্যের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন অনেকটা অসহায় তাদের কাছে। এসব বিষয় ইমরানের নির্বাচনী মাঠে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয় অনেকে। যদিও ইমরান আহমদ এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

তবুও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইমরান আহমদের ওপরই ভরসা নেতাকর্মীদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে এখনো ইমরান আহমদ সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। যদিও তাঁর জায়গায় প্রার্থিতার দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত দলের আরো তিনজন নেতা সক্রিয়। তাঁদের একজন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ। প্রবাসী এই নেতা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। এবারও দলের মনোনয়ন পেতে তিনি জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও প্রবাসে থাকায় ভোটারদের সঙ্গে, এমনকি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তুলনামূলক কম বলে জানা গেছে। তবে বিভিন্ন জাতীয় দিবস, ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসবে ব্যানার, পোস্টার টানিয়ে তিনি নিয়মিত নিজের উপস্থিতি জানান দেন। গত নির্বাচনের মতো এবারও নৌকায় মনোনয়ন চান দলের তৃণমূল নেতা ও গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। ফলে একাদশ নির্বাচনে যে প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন তাঁর গলার কাঁটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নিজ দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর।

তবে স্থানীয় জনসাধারণ ও নেতাকর্মীরা এগিয়ে রাখছে বতর্মান সংসদ সদস্যকে। পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসামপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস শহিদ বলেন, ‘বর্তমান এমপি ইমরান আহমদ এলাকায় প্রচুর উন্নয়নকাজ করেছেন। উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে মানুষ তাঁকেই আবার বেছে নেবে বলে মনে হচ্ছে।’ তাঁর কথা প্রতিধ্বনিত হলো পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিনের কণ্ঠে, ‘গত পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডে এমপি ইমরান আহমদের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তাই দলের মনোনয়ন তিনিই পাবেন বলে আমরা মনে করি।’

ফারুক আহমদ দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব না হয়নি। আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করছি। সব সময় আমি জনগণের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই। কারণ রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে জনসেবা। গত নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, পাইনি। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি দল এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাব।’ তবে মনোনয়ন না পেলেও দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁর হয়ে কাজ করবেন বলে জানান।

বিএনপি : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৪ আসনে একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম এলাকায় নিয়মিত বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন। তবে মনোনয়ন দৌড়ে তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল হাকিম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূরুল হক আর বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহসম্পাদক সামসুজ্জামান জামান। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধে জড়িয়েছেন দিলদার হোসেন ও আব্দুল হাকিম চৌধুরী। সর্বশেষ গত বছরের ৮ ডিসেম্বর জাফলং উপজেলা বিএনপির ব্যানারে বিশাল সমাবেশ করেন দিলদার। সেখানে দলে নিজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বক্তব্য দেন। সেই সমাবেশ বয়কট করে বিএনপি ঘরানার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একাংশকে নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। এর মাধ্যমে দুজনের মতবিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে সিলেটের রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখে আলোচিত হওয়া দলের আরেক নেতা সামসুজ্জামান জামানও মনোনয়ন দৌড়ে যুক্ত রয়েছেন। একাধিক মামলায় হুলিয়া নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। কিছুদিন ধরে তিনি দেশেই অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যে তাঁকে দলীয় অনুষ্ঠানে দেখা যায়। এই চারজনের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দৌড়ে জয়ী হন, তা এখন দেখার বিষয়।

মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল তাঁর ওপরেই আস্থা রাখবে বলে কালের কণ্ঠকে জানালেন সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের সময়ে-দুঃসময়ের সঙ্গী আমি। নির্বাচনে নেত্রী আমার ওপরই আস্থা রাখবেন বলে মনে করি।’ একাধিক নেতা দলের মনোনয়ন চান। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে কেউ মনোনয়ন চাইতেই পারেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। কারণ সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্যই লড়ে এসেছি। এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’ তবে দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তার হয়ে মাঠে নামবেন বলেও জানান এই নেতা।

মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বলে জানালেন গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে আমি টানা দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এটি প্রমাণ করে এলাকার সাধারণ মানুষ আমার পক্ষে। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার এই জনসমর্থনের বিষয়টি দল বিবেচনা করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

মামলা ও হুলিয়া থাকায় বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে থাকেন মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান জামান। তবে অনুসারীদের মাধ্যমে তিনি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক এম এ মতিন কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘সাবেক এমপি হিসেবে দিলদার হোসেন সেলিম এলাকায় পুরনো ও পরিচিত। আগামী নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়া বিএনপির আব্দুল হাকিম চৌধুরীও এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনিও মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারেন। দুজনই নিজেদের মতো লবিং করছেন। দিলদার দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আর আব্দুল হাকিম লন্ডনে যোগাযোগ রাখছেন। সুতরাং এখনই বলা কঠিন কে দলের মনোনয়ন পাবেন।’

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্ত হতে পারেন জামায়াত নেতা জৈন্তাপুরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনও। জোটগতভাবে দল নির্বাচনে গেলে এই আসনে জয়নাল আবেদীনও মনোনয়ন চাইবেন বলে তিনি জানান। দলের হাইকমান্ড এলাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশনা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

জাতীয় পার্টি : সিলেট-৪ আসনে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও আসনটি জাতীয় পার্টির হাতে রাখতে চায়। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী এ টি ইউ তাজ রহমান মনোনয়ন চাইবেন। তাজ রহমান এই আসনে দলের শক্তিশালী প্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাঠে কাজ করছেন। জেলায় দলকে সংগঠিত করতেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তাজ রহমান বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলেও জানান।

 


মন্তব্য