kalerkantho


মালয়েশিয়ার ‘নতুন ভোর’ আনোয়ার ইব্রাহিম কারামুক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



মালয়েশিয়ার ‘নতুন ভোর’ আনোয়ার ইব্রাহিম কারামুক্ত

মালয়েশিয়ার কারাবন্দি নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল বুধবার রাজা পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদ রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করার কিছুক্ষণ পরই তিনি কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পান। কারাগারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটিতে চিকিত্সাধীন ছিলেন তিনি। মুক্তির পর আনোয়ার নির্বাচনে তাঁর জোটের বিজয়কে মালয়েশিয়ার জন্য ‘নতুন ভোর’ এবং মাহাথির মোহাম্মদকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার জন্য নিজেই ‘নতুন ভোর’ হয়ে এলেন ৭০ বছর বয়সী আনোয়ার ইব্রাহিম।

যে প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের ‘প্রতিহিংসার’ শিকার হয়ে প্রথম জেলে গিয়েছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম, কালের খেলায় সেই প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের সুপারিশেই রাজকীয় নিঃশর্ত ক্ষমা পেলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে আনোয়ার ইব্রাহিমকে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ ও ইউনাইটেড মালয়েশিয়া ন্যাশনাল অর্গনাইজেশন (ইউএমএন) পার্টি থেকে বহিষ্কার করেছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। পরে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে তিনি তাঁকে জেলে পুরেন। ২০০৩ সালে গঠিত হয় আনোয়ারের নতুন দল পিকেআর। কালের পরিহাস, সেই মাহাথির তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল ইউএমএন ছেড়ে আনোয়ারের ইব্রাহিমের পাকাতান হারাপান জোটে যোগ দিয়ে ফের প্রধানমন্ত্রী হন।

গত সপ্তাহে সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির ও আনোয়ারের পাকাতান হারাপান জোট সংসদের ২২২টি আসনের মধ্যে ১১৩টিতে জয় পায়।

পরদিনই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৯২ বছর বয়সী নেতা মাহাথির ঘোষণা দেন, তিনি আনোয়ারের মুক্তির জন্য রাজার কাছে আবেদন করবেন এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে আনোয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হবেন। তাঁদের নির্বাচনী জোটে সেই শর্তই ছিল।

গতকাল বন্দি অবস্থায় হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর হাজার হাজার সমর্থক ‘সংস্কার চাই’, ‘দীর্ঘদিন বেঁচে থাকো আনোয়ার’, ‘তিনি মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার প্রতীক’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। তখন তাঁকে ঘিরে ছিল বিপুল সংখ্যক কারারক্ষী, আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আনোয়ার কয়েক শ সাংবাদিক, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সামনে দেশে নতুন সরকারের পরিচ্ছন্ন অভিযানের প্রতি তাঁর সমর্থন অব্যাহত রাখার শপথ ব্যক্ত করেন।

আনোয়ার একসময়ের শত্রু মাহাথিরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার জন্য এখন নতুন ভোর। আমি অবশ্যই মালয়েশিয়ার জনগণকে ধন্যবাদ দিচ্ছি’। এ সময় তাঁর স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ও তাঁর দলের নেতারা পাশে দাঁড়ানো ছিলেন। আনোয়ার বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে পুরো মালয়েশিয়াই গণতন্ত্রের নীতি এবং স্বাধীনতার অপেক্ষায় ছিল। পরিবর্তন ছিল তাদের দাবি।’

মাহাথিরের ওপর প্রতিশোধের প্রশ্নে আনোয়ার তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্রতিশোধকে কবর দিয়ে দিন। এর মধ্যেই অনেক সময় চলে গেছে। আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’

এরই মধ্যে মাহাথির জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন আগামী এক-দুই বছর তিনি সরকার চালাবেন। এরপরই আনোয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন।

আনোয়ার ইব্রাহিমকে ১৯৯৯ সালে গ্রেপ্তার করে তত্কালীন মাহাথির মোহাম্মদ সরকার। তখন দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে আদালত তাঁকে ছয় বছরের জেল দেন। পরে ২০০৪ সালে কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান। ওই বছর তাঁর মুক্তির আগে তাঁর স্ত্রী আজিজার নেতৃত্বে গঠিত হয় পার্টি কিয়াদিলান রাকায়াত (পিকেআর) বা পিপলস জাস্টিস পার্টি। এরপর ২০০৮ ও ২০১৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সরকার তাঁকে ফের সমকামিতার অভিযোগে কারাগারে পাঠায়। আনোয়ার তখন বলেছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য তাঁকে বন্দি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তাঁর পিকেআরের নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান জোট বিজয়ী হয়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় কাঁধের চিকিত্সা নিতে কুয়ালালামপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আনোয়ারকে। গতকাল সেই হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি গাড়িতে উঠে রাজা পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদের সঙ্গে দেখা করতে রাজদরবারে যান। রাজপ্রাসাদে আনোয়ারকে স্বাগত জানান নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এর আগে গতকাল সকালে রাজকীয় ক্ষমা বোর্ড আনোয়ারের মুক্তির সুপারিশ করে। পরে রাজা তা অনুমোদন করে অবিলম্বে তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য