kalerkantho


র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

এক হাজার মণ আম, ৪০ মণ খেজুর ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



এক হাজার মণ আম, ৪০ মণ খেজুর ধ্বংস

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফলের আড়তে এবং সোয়ারীঘাটে পানির কারখানায় অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাব ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পৃথক এই দুই অভিযানে সহায়তা করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অভিযানে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় প্রতিষ্ঠানের ৯ জন আম ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা এবং এক হাজার মণ আম ধ্বংস করেন। এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০ মণ খেজুর জব্দ করেন আদালত। অন্যদিকে অপরিশোধিত পানি জারে ভরে বিক্রির দায়ে একটি কারখানা মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করে কারখানাটি বন্ধ করে দেন ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে এপিবিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রাজধানীতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

এর আগে বুধবার রাত ১০টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বেগমবাজার এলাকায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার কোমল পানীয়র ক্যান জব্দ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে যাত্রাবাড়ী ফলের আড়তে যৌথভাবে অভিযানে নামে র‌্যাব ও বিএসটিআই। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, অভিযানে এক হাজার মণ আম ধ্বংস ও ৪০ মণ খেজুর জব্দ করা হয়েছে। অধিকাংশ আমই অপরিপক্ব। কিন্তু এসব আম ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথানল দিয়ে পাকানো। কেমিক্যাল দেওয়ায় আমের ওপরের অংশ পাকা দেখা যায়। কিন্তু ভেতরে কাঁচা। তিনি বলেন, এসব আম খেলে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অসুখের আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযানে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে আশা বাণিজ্যালয়ের লুত্ফর রহমান ও জাকির হোসেনকে এক বছর, মোস্তফা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোস্তফা শেখকে ছয় মাস, সাতক্ষীরা বাণিজ্যালয়ের মো. ইয়াসিনকে ছয় মাস, এস আলম বাণিজ্যালয়ের মিঠুন সাহাকে দুই মাস, আতিউর ট্রেডার্সের রঞ্জিত রাজবংশীকে তিন মাস, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মো. শাহিদুল এবং নামহীন দুটি প্রতিষ্ঠানের মেহেদী হাসান ও রেজাউল নামের দুজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন আদালত।

অন্যদিকে সোয়ারীঘাটে এন এ ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানায় দেখা যায়, একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে ফিল্টার পানির কারখানা। সেখানে রয়েছে সারি সারি ১২টি ট্যাপকল। কর্মচারী মাত্র চারজন। এই কারখানায় পরিশোধন না করেই ট্যাপকলগুলো থেকে ওয়াসার পানি জারে ভরে বাজারজাত করা হয়। অবশ্য কারখানার মালিক আসলাম বলছেন, কর্মচারীদের গোসলের জন্য এই কলগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান।

কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করে ভ্রাম্যমাণ আদালত জানতে পারেন, গোসলের জন্য নয়, ওই পানির কলের মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার পানি নিয়ে পরিশোধন না করেই জারে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র চারজন কর্মচারী নিয়ে পানির কারখানাটি চলছে। পানির কোনো পরিশোধন যন্ত্র সচল নেই। ১২টি কল থেকে জারে পানি ভরা হচ্ছে। বিএসটিআই থেকে এই প্রতিষ্ঠান যে লাইসেন্স নিয়েছিল তা দীর্ঘদিন আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্স নবায়ন না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কারখানার মালিক মো. আসলাম বলেন, বিএসটিআই থেকে লাইসেন্স নিয়েছিলাম। এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। আবার নবায়ন করব। আর পানির কলগুলো কর্মচারীদের গোসলের জন্য।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত বেগমবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যে ২৪ হাজার ক্যান কোমল পানীয় জব্দ করে তা আমদানি করা হয়েছিল মালয়েশিয়া থেকে। এর মধ্যে রয়েছে রেডবুল, মিরিন্ডা, এটলাস ইত্যাদি। আমদানি করা এসব পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই পণ্যের উৎপাদন তারিখ পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে জুলাই ২০১৭। আর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ করা হয়েছে ডিসেম্বর ২০১৯। অবৈধভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এসব কোমল পানীয়র মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে দুই বছর ১০ মাস। অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা : এপিবিএন-৫-এর অপারেশনস অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান রুবেল জানান, গতকাল অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে জীবনহানিকর খাদ্যপণ্য তৈরি ও বিক্রি করায় শ্যামলীতে ‘ডিজনী ডাইন রেস্টুরেন্ট’-এ অভিযান চালিয়ে ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা, একই অপরাধে ‘কাবাব জংশন’ লিমিটেডের ম্যানেজারকে ১০ হাজার টাকা, ‘নবাবী ভোজ’-এর ম্যানেজারকে ৩৫ হাজার টাকা, ‘সলিউশন লাউঞ্জ’-এর ম্যানেজারকে ২৫ হাজার টাকা এবং ‘চিলিস রেস্টুরেন্ট’-এর ম্যানেজারকে ৩০ হাজার টাকা, মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার। 

 


মন্তব্য