kalerkantho


বিএনপি হাইকমান্ডের নির্দেশ

এ মাসেই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দৌড়ঝাঁপ

শফিক সাফি   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



এ মাসেই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দৌড়ঝাঁপ

আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ বিএনপির আন্দোলন। তবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই পাল্টে যাবে আন্দোলনের ধরন। দলীয় প্রধানের মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। তারই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণ শাখার আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি ৩০ মের মধ্যে গঠন করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সময় বেঁধে দিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে মহানগর উত্তরের দায়িত্বশীল নেতা আহসান উল্লাহ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি মাসের মধ্যেই আমরা ঘোষিত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ করছি।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘রাজধানীতে সরকারবিরোধী আন্দোলন গতিশীল করতে মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গত নির্বাচনের আগে যেভাবে সরকার চেষ্টা করেছিল এবার তা হতে দেওয়া হবে না। এই কমিটি সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে মাঠে থাকবে। তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই আসছে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কর্মপন্থা নির্ধারণের পর তারেক রহমানের কাছে প্রস্তাব করেন। তিনি সেখান থেকে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত দেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুরুতেই মহানগর বিএনপির শক্তিশালী কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের বৈঠক থেকে আসা এই প্রস্তাব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে সেখান থেকে নির্দেশনা এসেছে। মহানগর নেতাদের কাছে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই এই কমিটি গঠন করে জমা দিতে হবে। আর মহানগর নেতারা ৩০ মের মধ্যে সম্ভব না হলেও ৫ জুনের মধ্যে কমিটি গঠন সম্ভব হবে বলে কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার আগেই উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ায় তা আর ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ওই কমিটির সঙ্গে এবার থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতারা বলছেন, এমন অনেক থানা কমিটি আছে যা গত দুই যুগেও পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় এমন সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এসব কমিটি গঠনের কঠোর নির্দেশনা আসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মহানগরের দায়িত্বশীল নেতারা। পুরো প্রক্রিয়া এই সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, রাজধানীর ৪৯টি থানার প্রায় অর্ধেক কমিটি রয়েছে, যেগুলোর বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। অথচ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার কথা।

সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, ১৯৯৯ সালে খিলগাঁও ও সবুজবাগ থানা, ১৯৯৭ সালে মতিঝিল ও কোতোয়ালি থানা, ২০০৬ সালে ডেমরা থানা, ২০০০ সালে কামরাঙ্গীর চর থানা, ২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট থানা এবং ২০০১ সালে বাড্ডা ও গুলশান থানার কমিটি গঠন করা হয়। এমনিতেই এসব কমিটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহানগরের সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাস তাঁদের বলয়ের মধ্যে কমিটিগুলো রাখতে চান। আবার নতুন দায়িত্ব পাওয়া মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরও নিজস্ব বলয় রয়েছে। তাঁরাও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের লোক বসানোর জন্য তত্পর। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা জটিল।

জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা এই মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে পুরোপুরি সম্ভব হবে কি না সেটা সময় বলবে।’ তিনি বলেন, ‘এবার সরকার পতনের টার্গেট নিয়েই আন্দোলনে নামব। বিনা চ্যালেঞ্জে আরেকটি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’

যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবেই মহানগর বিএনপির কমিটি দ্রুত শেষ করার পরামর্শ এসেছে হাইকমান্ড থেকে। আমরা এখন যে ধরনের কর্মসূচিতে আছি তা ভবিষ্যতেও একই থাকবে, তা বলা যায় না। দাবি আদায় না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব এবং সেটিই স্বাভাবিক।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দুই ভাগ করে দুটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এম এ কাইয়ুম ও আহসান উল্লাহ হাসানের নেতৃত্বে ৬৬ সদস্যের উত্তর এবং হাবিব উন নবী খান সোহেল ও কাজী আবুল বাশারের নেতৃত্বে দক্ষিণের ৭০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। আর এই কমিটিকে এক মাসের সময় দেওয়া হয় কমিটি করতে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হলেও তারা কমিটি গঠন করতে পারেনি।

 


মন্তব্য