kalerkantho


বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠা শাকিরি

রাহেনুর ইসলাম   

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠা শাকিরি

৭২ ম্যাচে ২১ গোল : বয়স মাত্র ২৬, এরই মধ্যে জীবনের নানা রং দেখে ফেলা শাকিরি খেলে ফেলেছেন তৃতীয় বিশ্বকাপ। ফুটবলের বড় মঞ্চে জ্বলেও উঠেছেন সব সময়। গত ইউরোর দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে হারের মুখে ছিল সুইজারল্যান্ড। পিছিয়ে ৮১ মিনিট পর্যন্ত। তখনই বাইসাইকেল কিকে গোল জেরদান শাকিরির! অসাধারণ গোলটির পর জানতে চাওয়া হয় এটাই তাঁর সেরা কি না? বিস্মিত শাকিরির জবাব, ‘আমার সম্পর্কে ধারণা নেই আপনার। আমি সব সময়ই সুন্দর গোল করি!’

চার বছর বয়সে বাবার হাত ধরে চলে এসেছিলেন সুইজারল্যান্ডে। বাসেলে কনকনে ঠাণ্ডায় জমে যাওয়ার অবস্থা তখন। অভিবাসী হয়ে আসা শাকিরিদের বাড়িতে ছিল না ঘর গরমের অল্প দামের হিটারও। ১৬ বছরে পা রাখার সময় আমন্ত্রণ পান স্পেনে একটি যুব টুর্নামেন্ট খেলার। যাওয়ার ভাড়া নেই। দমে না গিয়ে প্রতিবেশীর লনের ঘাস কাটেন সপ্তাহজুড়ে। সেই টাকায় খেলে আসেন স্পেনে। এর দুই বছর না যেতেই জেরদান শাকিরি সুইজারল্যান্ডের জাতীয় দলে!

এই বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু শুনিয়েছেন অভাবের তাড়নায় পানি মেশানো দুধ খেয়ে বেড়ে ওঠার গল্প। অভিবাসী হয়ে আরেক দেশে আসা শাকিরির জীবনের গল্পটাও কম কষ্টের নয়। বয়স মাত্র ২৬, এরই মধ্যে জীবনের নানা রং দেখে ফেলা শাকিরি খেলে ফেলেছেন তৃতীয় বিশ্বকাপ। ফুটবলের বড় মঞ্চে জ্বলেও উঠেছেন সব সময়। গত ইউরোর দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে হারের মুখে ছিল সুইজারল্যান্ড। পিছিয়ে ৮১ মিনিট পর্যন্ত। তখনই বাইসাইকেল কিকে গোল জেরদান শাকিরির! অসাধারণ গোলটির পর জানতে চাওয়া হয় এটাই তাঁর সেরা কি না? বিস্মিত শাকিরির জবাব, ‘আমার সম্পর্কে ধারণা নেই আপনার। আমি সব সময়ই সুন্দর গোল করি!’

গত পরশু বিশ্বকাপেও এমন কার্যকরী এক গোল করলেন সুইজারল্যান্ডের এই তারকা। তাও একেবারে শেষ মিনিটে। সার্বিয়ার বিপক্ষে ১-১ সমতায় ৮৯ মিনিট পর্যন্ত। ড্র হলে বাদ পড়ার শঙ্কায় সুইসরা। মারিও গাভরানোভিচের কাছ থেকে বলটা পেয়ে প্রায় মাঝমাঠ থেকে উল্কাবেগে দৌড় শাকিরির। জেদ, সংকল্প, প্রেরণা, আত্মবিশ্বাস সব মিলেমিশে একাকার। সঙ্গে লেগে ছিলেন এক ডিফেন্ডার, এগিয়ে এলেন গোলরক্ষকও। কোনো কিছুই থামাতে পারল না শাকিরিকে। বল জালে জড়িয়ে প্রথমে দুহাত উল্টে বুকে নিয়ে আলবেনিয়ার জাতীয়তাবাদের প্রতীক ‘ইগল উদ্যাপন’। কসোভো থেকে অভিবাসী হয়ে সুইজারল্যান্ডে চলে আসার ক্ষোভ বেরিয়ে আসছিল ঠিকরে। হলুদ কার্ডের পরোয়া না করে খুলে ফেললেন জার্সি। এমন আবেগ নিয়মের বেড়াজালে আটকানো যায় নাকি! ম্যাচ শেষে তাই শাকিরির উচ্ছ্বাস, ‘আমার খেলার ধরন ঝামেলায় ফেলেছে ওদের। পুরো ম্যাচে গতিময় ফুটবল খেলে গেছি। মারিওর পাসটা নিয়ে বলার কিছু নেই, ও সাধারণত এ ধরনের পাস দিয়ে অভ্যস্ত। শেষ মিনিটের গোলে দলকে জেতানোর চেয়ে আনন্দের কী হতে পারে।’

সার্বিয়া জিতলেই যেত নক আউট, তাও ব্রাজিলের আগে! এমন সম্ভাবনার ম্যাচে পঞ্চম মিনিটেই গোল সার্বিয়ার। নক আউটে এক পা দিয়ে ফেলেছে তখন। শেষ পর্যন্ত পা-টা টেনে ধরল সুইজারল্যান্ড। বিরতির সাত মিনিট পর সমতা ফেরান গ্রানিত জাকা। আর শেষ মিনিটে জেরদান শাকিরির গোলে নাটকীয় ২-১ ব্যবধানের জয় সুইসদের।

দুসান তাদিচের ক্রসে পঞ্চম মিনিটে আলেকজান্ডার মিত্রোভিচের হেডে এগিয়ে যায় সার্বিয়া। ৫৪ মিনিটে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। জেরদান শাকিরির শট এক ডিফেন্ডারের মুখে লেগে সামনে পড়ে গ্রানিত জাকার। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর বুলেট শটে কিছু করার ছিল না গোলরক্ষকের। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১০ গোলের পাঁচটিই এসেছে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে। ৯০ মিনিটে শাকিরি করেন দ্বিতীয় গোল। তাতে নক আউটের আশা উজ্জ্বল হলো গত ২৪ ম্যাচে মাত্র একটিতে হারা সুইজারল্যান্ডের। এবারের আসরে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে প্রথম জয়ও এটা। গত বিশ্বকাপে হন্ডুরাসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা শাকিরির চাওয়া এখন দ্বিতীয় রাউন্ডে নাম লেখানো, ‘পিছিয়ে পড়ে এভাবে জেতাটা বিশেষ কিছু। দ্বিতীয় রাউন্ড খেলা উচিত আমাদের।’

সুইজারল্যান্ডের নাটকীয় জয়ে জমে উঠল দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই। গ্রুপ ‘ই’তে দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের পয়েন্ট ৪, সুইজারল্যান্ডের ৪, সার্বিয়ার ৩ আর কোস্টারিকার ০। গতবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা কোস্টারিকা ছিটকে গেছে। এখন সুযোগ অন্য তিন দলের। শেষ ম্যাচে ব্রাজিল জিতলে সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে পাড়ি জমাবে পরের রাউন্ডে। কিন্তু সার্বিয়া জিতলে আর সুইজারল্যান্ড শেষ ম্যাচে কোস্টারিকার সঙ্গে ড্র করলেও বাদ পড়বে ব্রাজিল! নক আউটে যাওয়ার লড়াইটা রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে তাই। এ জন্য খুশি সুইস কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ, ‘কখনো হাল ছাড়ি না আমরা। এই ম্যাচে ছেলেরা দেখাল আরো একবার। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না।’ বিবিসি



মন্তব্য