kalerkantho


সুইডেনকে বিঁধলেন স্নাইপার ক্রোস

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সুইডেনকে বিঁধলেন স্নাইপার ক্রোস

‘ফুটবল খুবই সহজ একটা খেলা। এখানে ২২ জন মানুষ মিলে ৮২ মিনিট ধরে বলের পেছনে দৌড়ায়, ৮২ মিনিটে জার্মানদের একজন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে, এরপর বাকি ১৩ মিনিট ধরে ২১ জন বলের পেছনে দৌড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানি জিতেই যায়’—নিজের বিখ্যাত হয়ে যাওয়া উক্তিটাকেই জার্মানি-সুইডেন ম্যাচের পর ‘আপডেটেড’ করে টুইটারে লিখেছেন লিনেকার। ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর বলা কথাগুলোকে লিনেকার শব্দচয়নে খানিকটা বদল এনেছেন, তবে মূল ভাবটা একই রয়ে গেছে। শেষ সময়ের গোলে জিতে গেছে জার্মানি, টিকে আছে বিশ্বকাপে। আর জার্মানির সম্ভাব্য সব রকম অপমান বাঁচিয়ে দিয়েছেন টনি ক্রোস, এই ম্যাচটি জিততে না পারলে হয়তো যাঁকে সমালোচনার ক্রুশেই বিদ্ধ হতে হতো। কারণ সুইডেনের একমাত্র গোলটি যে হয়েছে তাঁর সামনে থেকে ফসকে যাওয়া বল থেকেই!

ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ের অন্যতম কুশীলব ক্রোস। দুই মিনিটের ব্যবধানে তাঁর জোড়া গোলেই পাল্টে যায় ম্যাচের রং, স্পষ্ট হয়ে ওঠে ব্রাজিলের নিয়তি। রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠেও টনি ক্রোস নির্ভরতার নাম। সমর্থকরা তাঁর নাম দিয়েছেন ‘স্নাইপার’! নিখুঁত নিশানায় কর্নার কিক নিয়ে বল পাঠিয়ে দেন বক্সের সামনে অপেক্ষমাণ সতীর্থের মাথায়। রিয়াল মাদ্রিদকে বেশ কয়েকবারই বাঁচিয়েছে সের্হিও রামোসের হেড, যার উৎস ছিল ক্রোসের জ্যামিতি কষা নিখুঁত কর্নার! সেই ক্রোসই হয়ে যাচ্ছিলেন জার্মানদের সমালোচনার ‘ক্রসহেয়ার’। সেখান থেকে এক মুহূর্তেই ক্রোস হয়ে গেলেন নন্দিত নায়ক। জিমি দুরমাজ ঠিক বক্সের বাঁ দিকের প্রান্তসীমার কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করেন ক্রসকে। খেলায় তখন ১-১ সমতা, ইনজুরি সময়ের খেলা চলছে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া জার্মানির বেশির ভাগ ফুটবলারই ভিড় করেছেন সুইডেনের ডি-বক্সে। ফ্রি কিকে মাথা ছোঁয়ানো, ফিরতি বলে শট...যেকোনো কিছুর জন্যই তারা প্রস্তুত। কিন্তু ক্রোস সেই সব অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়েই গেলেন না। ঠিক যেন হকির পেনাল্টি কর্নারের মতো, হালকা পুশে বলটা একটু আড়াআড়ি ঠেললেন মার্কো রয়েসের দিকে, রয়েস থামালেন, এরপর প্রচণ্ড গতিতে বলটা ছুটে গিয়ে আছড়ে পড়ল জালের দেয়ালে। অবিশ্বাস্য গোলে ক্রোস দলকে বিপদমুক্তই করেননি, নিজের ওপর থেকেও সরিয়েছেন সমালোচকদের নিশানাটা। বিশ্বকাপে পর পর দুই ম্যাচে জার্মানি হেরেছিল ১৯৫৮ সালে, সুইডেন বিশ্বকাপেই। সেমিফাইনালে সুইডেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও হার ফ্রান্সের কাছে। ৬০ বছর পর আবারও যখন উঁকি দিচ্ছে সেই দুঃস্বপ্ন, যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় নিয়ে এসে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়ের শঙ্কা; তখন রয়েস আর ক্রোসই জার্মানির ত্রাণকর্তা। রয়েসের গোলে এড়ানো গেছে হার আর ক্রোস নিশ্চিত করেছেন জয়। ক্রোসের গোলটা বিশ্বকাপে (নির্ধারিত সময়ে) সবচেয়ে দেরিতে করা জয়সূচক গোল। ক্রোসের গোলটা এসেছে ম্যাচের ৯৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে। এর আগে সবচেয়ে বিলম্বিত জয়সূচক গোলটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতালির ফ্রাঞ্চেসকা তোত্তির। শেষ ষোলোর ম্যাচের ৯৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে পেনাল্টি থেকে গোলটা করেছিলেন এই রোমা তারকা। সেবার কিন্তু শিরোপা জিতেছিল ইতালিই। তাহলে কি এবার জার্মানিও!

গোল করে গ্যালারির সামনে গিয়ে যেভাবে দুহাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ক্রোস, তাতে মাঠে থাকা সব ফটোগ্রাফারের সেদিনের সেরা ছবি হয়ে গেছে! সেই ছবিটাই ইনস্টাগ্রামে দিয়ে ক্রোস লিখেছেন, ‘বেঁচে আছি।’ তিনি বেঁচে আছেন এবং জার্মানির বিশ্বকাপ আশাও বাঁচিয়ে রেখেছেন! আর জার্মানি বিশ্বকাপে টিকে থাকায় যাদের গাত্রদাহ, তাদের এক হাত নিলেন ক্রোস, ‘আমরা বাদ পড়ে গেলে অনেকেই খুশি হয়ে যেত। যারা এসব কথা বলেছে, যারা লিখেছে, তাদের কষ্টটা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারি।’ নিজের দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন, ‘আমাদের পক্ষে কেউ নেই, কেউ আমাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনার কথা লেখেনি। আমাদের নিজেদের কাজটা নিজেদেরই করতে হবে।’ ফিফা

 



মন্তব্য