kalerkantho


পায়ের খেলায় মাথার কাজ!

সামীউর রহমান   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



পায়ের খেলায় মাথার কাজ!

হেডে তিন গোল ইয়েরি মিনার

রাশিয়ায় এসে পায়ের খেলায় মাথার কাজটাও বেশ ভালো দেখাচ্ছেন ফুটবলাররা। ফুটবলে পা বাদে দেহের যে অংশটা ফুটবলাররা গোল করার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে মাথা। ম্যাচের আগে কোচরা মাথা খাটাচ্ছেন প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার কৌশল খুঁজে বের করতে আর খেলোয়াড়রা মাঠে সমানে চেষ্টা করে যাচ্ছেন মাথার ঘায়ে বল জালে পাঠাতে! এবারের বিশ্বকাপে মাঠে ও মাঠের বাইরে মাথার কাজটা হচ্ছে রমরমিয়ে। যে কারণে প্রতিপক্ষের মাথা ছাড়ানো ফুটবলারদের নিয়ে বেশ মাথাব্যথা কোচদেরও!

ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’র তথ্য অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপের এক আসরে হেড থেকে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছিল ২০০২ সালের বিশ্বকাপে। জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে ৩৫টি গোল হয়েছিল হেড থেকে। এবারের আসরে, ফ্রান্স-বেলজিয়াম প্রথম সেমিফাইনাল পর্যন্ত, হেড থেকে করা গোলের সংখ্যা হয়ে গেছে ৩২। এই পরিসংখ্যান অবশ্য ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ও পরবর্তী আসরগুলোর, এর আগের বিশ্বকাপগুলোর নিখুঁত তথ্য নেই ‘অপ্টা’র কাছে। বিশ্বকাপের কলেবর বৃদ্ধি ও ম্যাচসংখ্যা বাড়ার কারণে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের আগে কোনো আসরে হেড থেকে গোলের সংখ্যা ৩৫ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে সব ম্যাচ মিলিয়ে হয়েছিল মোটে ৭০ গোল, পরেরবারও ৭০ গোল। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছিল ৮৪টি, ১৯৫০ বিশ্বকাপে ৮৮টি। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে অবশ্য বয়েছিল গোলবন্যা, ম্যাচপ্রতি গড়ে প্রায় ৬ গোল! গোটা আসরে ১৪০ গোল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে গোল হয়েছে ১২৬টি আর ১৯৬২ বিশ্বকাপে সেটা কমে হয় ৮৯। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাঠে গড়িয়েছে ৬১টি ম্যাচ, তাতে মোট গোল হয়েছে ১৫৮টি, যার ভেতর ৩২টি গোলেই ছিল ফুটবলারদের মাথার কাজ!

নক আউট পর্বে এসেই যেন খেলোয়াড়দের পায়ের চেয়ে মাথার কাজটাই গড়ে দিচ্ছে ব্যবধান। উচ্চতায় তালগাছের মতো প্রকাণ্ড না হয়ে শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচটায় ফ্রান্সের জালে হেডে বল পাঠিয়েছিলেন সের্হিও আগুয়েরো। এখন পর্যন্ত ফরাসিদের জালে সেটাই শেষ গোল, পরের ১৮০ মিনিট জালে কোনো বলই ঢুকতে দেননি হুগো লরি। পরের ম্যাচটি ছিল পর্তুগাল-উরুগুয়ে; ২-১ গোলে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে দুই পক্ষে দুজন হেডে করেছেন গোল। উরুগুয়ের এদিনসন কাভানি, পর্তুগালের পেপে।

জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া বেলজিয়াম সমতা ফিরিয়েছিল দুটি হেড থেকেই। ইয়ান ফের্তোঙ্গেন ও মারুয়ান ফেলাইনির হেডেই তো স্কোরলাইন ২-২ করেছিল বেলজিয়াম। ইংল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচেও নির্ধারিত সময়ের অন্তিম মুহূর্তে ইয়েরি মিনার হেড থেকে করা গোল কলম্বিয়াকে এনে দিয়েছিল ‘লাইফলাইন’। কলম্বিয়ার এই ডিফেন্ডার ৩ গোল করেছেন বিশ্বকাপে, ৩টিই হেডে!

শেষ আটে, উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচেও রাফালে ভারানের হেড থেকে করা গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। সুইডেনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-০ গোলের জয়ে হ্যারি ম্যাগুয়ার ও ডেল্লে আলি, দুজনেই মাথার ঘায়েই বল পাঠিয়েছেন জালে। শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ ও অতিরিক্ত সময় শেষে ২-২ গোলে অমীমাংসিত। এই ম্যাচে ৪ গোলের ৩টিই হয়েছে হেডে। আর প্রথম সেমিফাইনালে তো স্যামুয়েল উমতিতির মাথার ঘায়েই ছিটকে গেল বেলজিয়াম। একদিকে আসরে ৪ গোল করা রোমেলু লুকাকু, অন্যদিকে গতির ঝড় তুলে ৩ গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে; এপাশে হ্যাজার্ড-দে ব্রুইন তো ওপাশে গ্রিয়েজমান-পগবা! সেখানে কি ফাইনালে খেলা আর না খেলার ব্যবধান গড়ে দিল উমতিতির হেড, যার মূল কাজ হচ্ছে প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়া। আসলে কপালে..., না না মাথায় থাকলে এমনি হয়!

 



মন্তব্য