kalerkantho


‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমাদের পরিবেশক ও বিক্রয়োত্তর সেবাকেন্দ্র রয়েছে’

দেশে মোটরসাইকেল তৈরি, বাজার, আমদানি শুল্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমাদের পরিবেশক ও বিক্রয়োত্তর সেবাকেন্দ্র রয়েছে’

বাজাজ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণন করেন বাংলাদেশে শুধু আপনারাই?

বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক বিক্রীত বাজাজ মোটরসাইকেলের একমাত্র পরিবেশক উত্তরা মোটরস লিমিটেড। ১৯৮০ সাল থেকে প্রায় চার যুগ ধরে উত্তরা মোটরস বাজাজ মোটরসাইকেল আমদানি, সংযোজন ও নিজস্ব ১৫টি শাখা অফিস ও ২৩০টি থ্রি-এস (সেলস, সার্ভিস ও স্পেয়ার) ডিলারের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশে বিপণন করে আসছে।

 

সাভারে বাজাজ মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা করছেন, এ প্রসঙ্গে কিছু বলবেন?

সাভারে মোটরসাইকেল বানানোর কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। কারখানা চালুর বেশির ভাগ কাজ আমরা শেষ করে এনেছি। আশা করছি এ বছরের শেষের দিকে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করব। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই কারখানায় আড়াই থেকে তিন লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

আপনাদের নিজেদেরও কি এককভাবে মোটরসাইকেল তৈরির কোনো পরিকল্পনা আছে?

একটি মোটরসাইকেল তৈরি করতে ইঞ্জিন থেকে শুরু করে চেসিস এবং আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ধরনের পার্টস, টায়ার-টিউব, ব্যাটারি ইত্যাদির মতো ছোট-বড় কয়েক হাজার উপাদানের প্রয়োজন। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে মোটরসাইকেলের সব যন্ত্রাংশ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরি করা সম্ভব নয়। এগুলো বানাতে ভেন্ডর বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। এককভাবে মোটরসাইকেল তৈরি করতে হলে ভেন্ডর বা সহযোগী শিল্পকে আগে উন্নত করতে হবে। আর এটা করা গেলে এককভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

মোটরসাইকেল বাজারের অবস্থা এখন কেমন?

দেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ওপর মোটরসাইকেলের বাজার নির্ভরশীল। গত দুই-তিন বছর ধরে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীলতার কারণে মোটরসাইকেল বিক্রি বেড়েছে। দেশে মোটরসাইকেল তৈরি উৎসাহিত করতেই সরকার এর যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, ফলে প্রতিটি মোটরসাইকেলের দাম গড়ে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে মোটরসাইকেলের বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে প্রতি হাজারে ৭০ জন মোটরসাইকেল ব্যবহার করে, সেটির তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবহার করে মাত্র পাঁচজন। তাই আমি মনে করি, মোটরসাইকেল বাজারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।

 

দেশে এখন অনেক কম্পানিই বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রি করছে। সে ক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কেমন?

প্রতিযোগিতা যেকোনো শিল্পের জন্য ভালো, এতে গ্রাহকরা সেরা জিনিসটা বাছাই করতে পারে। বাজাজ মোটরসাইকেলের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের কাছে যেমন রয়েছে প্রচুর চাহিদা, তেমনি এর গ্রাহকদের সন্তুষ্টিও খুব বেশি। বাজাজ মোটরসাইকেল পাঁচ বছর চালানোর পরও বেশি দামে বিক্রি করা যায় অর্থাৎ রিসেল ভেল্যু তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমাদের পরিবেশক ও বিক্রয়োত্তর সেবাকেন্দ্র রয়েছে। বাজারে এর যন্ত্রাংশ খুব সহজলভ্য। এসব কারণেই বাজাজ গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। তাই ১০ বছর ধরে বাজাজ মোটরসাইকেল বাংলাদেশে নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত।

 

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণ কী? এই দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায় কিভাবে?

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সড়ক ব্যবস্থাপনা, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন না থাকাও একটি কারণ। সঠিক গতিতে নিয়ম-নীতি মেনে মোটরসাইকেল চালালে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। দুইজনের বেশি যাত্রী ও অতিরিক্ত ভার বহন না করেও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে সার্ভিসিং করানো, সঠিক মাপের ও মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা এবং মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করা উচিত।

 

আমাদের দেশে মোটরসাইকেলশিল্পে কী কী সমস্যা আছে? এ নিয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

বর্তমানে মোটরসাইকেল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে তিন ধরনের করব্যবস্থা আছে। যেসব প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ বিযুক্তভাবে আমদানি করে দেশে সংযোজন করে মোটরসাইকেল তৈরি করে, তাদের ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এই অধিক হারে শুল্ক দেওয়ায় মোটরসাইকেলের দাম বেশি। মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক এবং অন্যান্য কর কমিয়ে আনতে হবে। দেশে শিল্পায়ন করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। সরকার যদি আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে রাজস্ব আয়ের চিন্তা করে, তাহলে নতুন শিল্প গড়ে উঠবে না। রেজিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য ফি সার্বিকভাবে কমাতে হবে। ভেন্ডরের জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। রয়ালটি ও কারিগরি প্রযুক্তির ফি পাঠানোর প্রতিবন্ধকতা বিলুপ্ত করতে হবে।


মন্তব্য