kalerkantho


এই সময়

পাকিস্তানে গণতন্ত্র, সুশাসন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি

তারেক শামসুর রেহমান

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



পাকিস্তানে গণতন্ত্র, সুশাসন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি

পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসি গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি থাকবেন মাত্র কয়েক দিন।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পাকিস্তানের আরেকজন প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার কথা। তবে সেই প্রধানমন্ত্রী অনেকটা নির্ধারিত হলেও সংকট পুরোপুরি দূর হয়েছে, তা বলা যাবে না। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলেও পাঞ্জাবের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে সমস্যা আছে। শাহবাজ শরিফের পছন্দের তালিকায় ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান হামজা শরিফ। অন্যদিকে মুসলিম লীগের (নওয়াজ) সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, পাঞ্জাব থেকে যদি শাহবাজ শরিফ সরে আসেন, তাহলে দল সেখানে দুর্বল হবে। শাহবাজ শরিফকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাঁকে নওয়াজ শরিফের শূন্য আসনে (লাহোর) উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে যেতে হতো। তিনি এখন আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। নওয়াজ শরিফের শূন্য আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর স্ত্রী কুলসুম শরিফ। ১০ সেপ্টেম্বর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শাহবাজ শরিফেরও সমস্যা আছে। ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত করছে। এ ক্ষেত্রে তিনিও উচ্চ আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। এ ধরনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২০১৮ সালে সেখানে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের সঙ্গে শরিফ পরিবারের দুই ভাইয়ের ভাগ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেননা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ব্যুরোর চেয়ারম্যান কামার জামান জানিয়েছেন, তাঁদের দপ্তরে নওয়াজ ও শাহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে যে ১৬টি তদন্ত রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এই তদন্ত যদি ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেই শেষ হয়ে যায় এবং তাঁরা যদি দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান, তাহলে আগামী নির্বাচনেও তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

পাকিস্তানের গত ৭০ বছরের রাজনীতিতে কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীরা হয় সেনাবাহিনী অথবা উচ্চ আদালত কর্তৃক অপসারিত হয়েছেন। কেউ কেউ আবার আত্মঘাতী বোমায় মারাও গেছেন। ফলে রাজনীতিতে সেনা তথা উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের কারণে গণতন্ত্র সেখানে ঠিকমতো বিকশিত হতে পারেনি। এটা অনেকেই জানেন, সেনাবাহিনী পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র ‘প্রতিষ্ঠা’ করেছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা সেখানে রাজনীতিতে বারবার হস্তক্ষেপ করছে। নওয়াজ শরিফের সাম্প্রতিক পদত্যাগ কিংবা উচ্চ আদালতের রায়ের পেছনে সেনাবাহিনীর একটি ভূমিকা রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। পাকিস্তানে অতি সাম্প্রতিক সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও গুরুত্ব বেড়েছে। জঙ্গি দমনে সেনাবাহিনীকে অগাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ‘ফাটা অঞ্চলে’ সেনাবাহিনী তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে সেনা অভিযান পরিচালনা করে আসছে, তাতে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদিতা মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এর ফলে সেনাবাহিনী পাকিস্তানে কার্যত একটি ‘রাজনৈতিক শক্তি’তে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে নওয়াজ শরিফ বরাবরই একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি। একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পাকিস্তানে তাঁর পরিচিতি আছে। পাকিস্তানে সাবেক সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান এবং তাঁরই ছত্রচ্ছায়ায় তিনি রাজনীতিতে আসেন। তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আমলা ও জেনারেলদের কাছে তিনি কখনো গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন না। তিন-তিনবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং প্রতিবারই অপসারিত হয়েছেন। ১৯৯০ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, এপ্রিলে (১৯৯৩) বরখাস্ত হন। এক মাস পর মে মাসে (১৯৯৩) তিনি কোর্টের আদেশে পুনর্বহাল হন। তবে একই বছরের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তিনি এবং তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইসহাক খান পদত্যাগ করেন। দ্বিতীয়বার তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। তৃতীয়বার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১৩ সালের ৫ জুন। এবারও তাঁর দল মুসলিম লীগ (এন) বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। যদিও এবারের সরকার ছিল কোয়ালিশন সরকার। কিন্তু এবারও তিনি পুরো পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণ করতে পারলেন না। ২৮ জুলাই (২০১৭) পদত্যাগ করলেন কেলেঙ্কারির বোঝা মাথায় নিয়ে। শুধু তাঁর ক্ষেত্রেই নয়, বেনজির ভুট্টোর ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও বেনজির ও নওয়াজ শরিফ কখনো তাঁদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি। বেনজিরের মতো নওয়াজ শরিফও দেশান্তরি হতে বাধ্য হয়েছিলেন। আবার দেশে ফিরেও এসেছিলেন। একসময় লন্ডনে বসে বেনজির-নওয়াজ শরিফ গণতন্ত্র উদ্ধার কমিটি গঠন করেছিলেন। তখন ছিল জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সময়কাল। তখন পারভেজ মোশাররফ নিজেই দেশান্তরিত। কেন এমনটি হয়? এর কারণ হচ্ছে অত্যন্ত ক্ষমতাবান সেনাবাহিনী তথা সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি। বেনজির ভুট্টো তো আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারাই গিয়েছিলেন। অভিযোগের তীর ছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার দিকে! জেনারেল পারভেজ মোশাররফ যখন সেনাপ্রধান ছিলেন, তখনো নওয়াজ শরিফ তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। অনেকের মনে থাকার কথা, ১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে বহনকারী বিমানকে করাচির মাটিতে নামতে দেননি প্রধানমন্ত্রী শরিফ। এর পরই এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। অনেক ক্ষেত্রেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচার বিভাগের একটা পরোক্ষ সম্পর্ক লক্ষ করা যায়! এরই মধ্যে পাকিস্তানে যে প্রশ্নটি উঠেছে, তা হচ্ছে সেনাবাহিনী কি বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে নওয়াজকে উত্খাত করল? পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ জাগার অন্যতম কারণ হচ্ছে উচ্চ আদালতের নির্দেশে যে যৌথ তদন্ত কমিটি  (Joint Investigation Committee) গঠিত হয়েছিল, তাতে ছিলেন সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি। দুজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার ব্যক্তি এই প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। ফলে একটা প্রশ্ন তো থাকলই। তবে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে তো নওয়াজ শরিফই মনোনীত করেছিলেন। তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে নওয়াজ শরিফ তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একজন নন-পাঞ্জাবি জেনারেল যদি সেনাপ্রধান হন, তিনি নিশ্চিন্তে থাকবেন। জেনারেল বাজওয়া পাঞ্জাবি নন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে পাঞ্জাবি আধিক্য বেশি। শীর্ষ পাঞ্জাবি জেনারেলরা কোর কমান্ডগুলোর নেতৃত্ব দেন। অথচ দেখা গেল একজন নন-পাঞ্জাবি জেনারেলকে সেনাপ্রধান করেও তিনি ‘পার’ পেলেন না। আসলে এখানে কাজ করে সেনাবাহিনীর গোষ্ঠীস্বার্থ। এই গোষ্ঠীস্বার্থের কাছে নওয়াজ শরিফ হেরে গেলেন।

নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, একই সঙ্গে আইনের শাসন তথা সুশাসনের ভবিষ্যেক একটি প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দিল। পাকিস্তান কার্যত একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। জঙ্গিবাদ এখন পাকিস্তানের এক নম্বর সমস্যা। এই জঙ্গিবাদ এখন আর সীমান্তবর্তী পাখতুনখোয়া প্রদেশেই সীমাবদ্ধ নেই। লাহোর ও ইসলামাবাদ শহরের মতো বড় বড় শহরেও সম্প্রসারিত হয়েছে। এই জঙ্গিবাদ এখন পাকিস্তান রাষ্ট্রটির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে পারছে না। সেনাবাহিনী ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সেনাবাহিনীর প্রভাব ও ক্ষমতা বাড়ছে। অন্যদিকে আইনের শাসন তথা সুশাসনের অবস্থাও ভয়াবহ। সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ১০০-র মধ্যে ৩২। ১০০ নম্বরকে ধরা হয় সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ। টিআই বা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এই র্যাংকিং করেছে। অন্যদিকে ‘করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স’-এ ১৭৬টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান এখন ১১৬। বিশ্বব্যাংক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সুশাসনের অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পাকিস্তানে ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতির চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ১৯৯৬ সালে যেখানে স্কোর ছিল মাইনাস ০.৬৭, সেখানে বর্তমানে স্কোর মাইনাস ০.৭৮। দুর্নীতির ক্ষেত্রে স্কোর মাইনাস ১.১৫ থেকে মাইনাস ০.৮১। সরকারের দক্ষতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে যেখানে স্কোর ছিল মাইনাস ০.৫৯, সেখানে বর্তমান স্কোর মাইনাস ০.৭৫। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো নয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫-এর ঘরে থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। রেমিট্যান্সের প্রবাহও কমে গেছে। রপ্তানিতেও ভাটা এসেছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সেখানে ভয়াবহ। এমনি এক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে নতুন একটি সরকার গঠিত হয়েছে। তবে এতে সেখানে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তাহলে কোন পথে এখন পাকিস্তান? অনেক সম্ভাবনা আছে এখন। নিয়মমাফিক নির্বাচন হবে আগামী বছর। যে কারণে নওয়াজ শরিফ তাঁর ছোট ভাই শাহবাজ শরিফকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হচ্ছে না, শাহবাজ শরিফের বদলে আসছেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু সেখানে জটিলতা আছে। ফলে রাজনীতিতে নওয়াজ শরিফের ‘কামব্যাক’ একটি প্রশ্নের মধ্যে থাকল। মুসলিম লীগের ওপর নওয়াজের কর্তৃত্ব কতটুকু থাকবে সেটা একটা প্রশ্ন। কেননা নির্বাচন কমিশন তাঁর দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন দলীয় প্রধান নিয়োগের জন্য তারা চিঠি দিয়েছে। দলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আবার ফিরে আসার যে সম্ভাবনা ছিল তা এখন আর নেই। দল যদি আগামী নির্বাচনে ভালো করে, ২০১৮ বা ২০১৯ সালের দিকে তিনি আবার পাকিস্তানে ফিরে আসার উদ্যোগ নিতে পারেন, তা সংকটকে আরো জটিল করবে। উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে একটা ধূম্রজাল আছে। তিনি শুধু চলতি সংসদে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন, নাকি আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। উচ্চ আদালত ট্রায়াল কোর্ট নয়। তাঁকে আজীবন নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার রাখেন না উচ্চ আদালত। সুতরাং নওয়াজ শরিফ আইনি লড়াইয়ে যাবেন! তবে সেনাবাহিনী তাঁকে সেই সুযোগ না-ও দিতে পারে। এমনও হতে পারে, সেনাবাহিনী একদল নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দেখতে চাইছে, যারা সেনাবাহিনীর স্বার্থে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। স্পষ্টতই নওয়াজ শরিফ সেনাবাহিনীর স্বার্থকে আঘাত করেছিলেন।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীকে নিয়ে সমস্যা রয়েছে, সন্দেহ নেই তাতে। কিন্তু রাজনীতিবিদরাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। শুধু নওয়াজ শরিফ একাই নন, একাধিক রাজনীতিবিদ (ইমরান খানসহ) বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত। রাজনীতিবিদরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। তাঁরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেন না। ডিপ্লোম্যাট (Diplomat) নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের পর যে মন্তব্যটি করেছে, তা প্রণিধানযোগ্য। ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, Democracy isn’t an end in itself. Often mistaken for majoritarianism, democracy in its simplest definition is a means to governance to ensure equality. পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই মন্তব্যটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। দলীয় কর্তৃত্বের নামই গণতন্ত্র নয়, গণতন্ত্রের মর্মবাণী হচ্ছে সমতা। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এটিই হচ্ছে আসল কথা। সেখানে স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুতরাং ভবিষ্যৎ পাকিস্তান নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকেই গেল।

লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

tsrahman09@gmail.com


মন্তব্য