kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

সুরা হিজরের তাৎপর্য ও বিষয়বস্তু

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



সুরা হিজরের তাৎপর্য ও বিষয়বস্তু

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

১. আলিফ-লাম-রা। এগুলো মহাগ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত।

(সুরা : হিজর, আয়াত : ১)

তাফসির : এখান থেকে সুরা হিজর শুরু। ধারাক্রম অনুসারে এটি পবিত্র কোরআনের ১৫ নম্বর সুরা। এ সুরায় মোট ৯৯টি আয়াত ও ৬টি রুকু আছে। এ সুরাটি মহানবী (সা.)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের আগে অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এটি মক্কি বা মক্কায় অবতীর্ণ সুরা হিসেবে পরিগণিত। ‘হিজর’ হেজাজ ও সিরিয়ার মধ্যস্থলে অবস্থিত একটি উপত্যকার নাম। এখানে সামুদ জাতির বসতি ছিল। এ বিষয়ে আলোচ্য সুরার ৮০ নম্বর আয়াতে আলোচনা আছে। সে হিসেবে ‘হিজর’ নামে এ সুরার নামকরণ করা হয়েছে।

এ সুরা তিনটি অক্ষর—আলিফ-লাম-রা দিয়ে শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআনের পরিভাষায় এগুলোকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তাআত বা বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ। পবিত্র কোরআনের ১১৪ সুরার মধ্যে ২৯টি সুরার শুরুতে এ ধরনের হরফ ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনের যেসব রহস্য উন্মোচন করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি, এ হরফগুলো তারই অন্তর্ভুক্ত। তাৎপর্যমণ্ডিত এই হরফগুলোর মর্ম মহান আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

সাংকেতিক এসব বর্ণের মাধ্যমে আল্লাহ হয়তো বলতে চেয়েছেন, এ কোরআন চিরন্তন আসমানি কিতাব। এটি আরবি বর্ণমালায় লিখিত হয়েছে। যদি তোমরা সক্ষম হও, তাহলে তোমরা আরবি বর্ণমালা ব্যবহার করে কোরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ রচনা করে দেখাও।

আগের সুরার সঙ্গে সংযোগ

সুরা হিজরের আগে সুরা ইবরাহিম রয়েছে। উভয় সুরার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য আছে। উভয় সুরা শুরু হয়েছে পবিত্র কোরআনের বিশেষ গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে। উভয় সুরার মধ্যে আসমান ও জমিন বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা আছে। হজরত ইবরাহিম (আ.)সহ অন্যান্য নবীর সংক্ষিপ্ত ঘটনা রয়েছে এ দুই সুরায়। সুরা ইবরাহিমের শেষ আয়াতে বলা হয়েছিল, এ কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তাস্বরূপ। এ আলোচনার সূত্র ধরে আলোচ্য সুরার সূচনা করা হয়েছে পবিত্র কোরআনের প্রশংসাগীতি বর্ণনা করে।

সুরা হিজরের বিষয়বস্তু

সুরা হিজরের বিষয়বস্তু অনেকটা সুরা ইবরাহিমের মতো। এ সুরায় মহান আল্লাহর একত্ববাদ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত, পরকালের প্রতিদান ও প্রতিফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু জায়গায় মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, উপদেশ দেওয়া হয়েছে ও সচেতন করা হয়েছে।

এ সুরায় কয়েকজন নবী ও তাঁদের উম্মতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। নবীদের সঙ্গে উম্মতের আচরণ ও এর প্রতিফল সম্পর্কেও অবহিত করা হয়েছে। এ সুরার ২২ নম্বর আয়াত থেকে কয়েকটি আয়াতে সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ সুরায় পবিত্র কোরআন চিরকাল সংরক্ষিত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

এ সুরায় অতিসংক্ষেপে হজরত আদম (আ.) ও অভিশপ্ত শয়তানের মধ্যকার ঘটনার দিকে মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে। এ সুরায় জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। পাশাপাশি জাহান্নাম ও জাহান্নামবাসীদের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। এ সুরার বিভিন্ন স্থানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। ঈমানদারদের সঙ্গে বিনয়সুলভ আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর মৃত্যু অবধি নামাজ, তাসবিহ ও ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট কথা, মক্কি সুরাগুলোর যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এ সুরা সেসব সমূহ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য