kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে জিন জাতির সৃষ্টি

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে জিন জাতির সৃষ্টি

২৭. এর আগে (আদি মানব সৃষ্টির আগে) আমি জিন সৃষ্টি করেছি অত্যুষ্ণ আগুন (উত্তপ্ত অগ্নিশিখা) থেকে। [সুরা : হিজর, আয়াত : ২৭ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে প্রথম মানুষ হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিল।

আলোচ্য আয়াতে জিন জাতির সৃষ্টি বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পৃথিবীতে মহান আল্লাহর অগণিত সৃষ্ট জীব আছে। তাদের মধ্যে মানব জাতি ও জিন জাতি অনন্য মর্যাদার অধিকারী। এ দুই জাতির প্রতি আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ আরোপিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আমি (আল্লাহ) সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে, যাতে তারা আমারই ইবাদত করে। ’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

জিন আল্লাহ তাআলার অন্যতম সৃষ্টি। তিনি ফেরেশতা ও মানুষ সৃষ্টি করেছেন। একইভাবে সৃষ্টি করেছেন জিন জাতি। জিনদের বিবেক, বুদ্ধি ও অনুভূতি শক্তি আছে।

তাদের আছে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা। তাদের মধ্যে রয়েছে ভালো জিন ও মন্দ জিন। পবিত্র কোরআনে জিনদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমাদের কিছু সৎকর্মশীল ও কিছু এর ব্যতিক্রম। আমরা ছিলাম বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত। ’ (সুরা : জিন, আয়াত : ১১)

জিন শব্দের অর্থ গুপ্ত, অদৃশ্য, লুক্কায়িত, আবৃত প্রভৃতি। এক হাদিস থেকে জানা যায়, জিন তিন প্রকার—এক. যারা শূন্যে উড়ে বেড়ায়। দুই. কিছু সাপ ও কুকুর। তিন. যারা মানুষের কাছে আসে ও চলে যায়। (সহিহ আল জামে আস-সাগির, হাদিস : ৩১১৪)

আসমানি কিতাবে যারা বিশ্বাস করে, যেমন—ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমান, তারা সবাই জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাসী। পৌত্তলিক, কিছু দার্শনিক ও বস্তুবাদী গবেষক জিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। দার্শনিকদের একটি দল বলে থাকে, ফেরেশতা ও জিন রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। ভালো চরিত্র ফেরেশতা আর খারাপ চরিত্র জিন বা শয়তান শব্দ দিয়ে বোঝানো হয়। তাদের এ বক্তব্য কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী।

জিনের অস্তিত্ব স্বীকার করা ঈমান বিল গাইব বা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে প্রায় ৫০ বার জিন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। জিন জাতির সৃষ্টি, তাদের ইসলাম গ্রহণ, মানুষের আগে তাদের সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে একাধিক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। সুরা আর-রহমানে জিন ও মানুষকে একসঙ্গে সম্বোধন করা হয়েছে। নবী সুলাইমান (আ.)-এর আমলে জিনদের কাজকর্ম করার তথ্য কোরআনে উল্লেখ আছে। জিন জাতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ ‘সুরা জিন’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল করেছেন। তাই জিনের অস্তিত্ব অস্বীকার করা কোরআন অস্বীকার করার নামান্তর।

আলোচ্য আয়াত থেকে দুটি বিষয় জানা যায়—এক. জিন জাতির সৃষ্টি হয়েছে উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে। দুই. মানুষ সৃষ্টির বহু আগে জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে। এক হাদিসে এসেছে, ‘জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষ সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে। ’ (আল মুবতাদা লি-ইসহাক বিন বশির)

উল্লেখ্য, এ হাদিসটির বর্ণনাসূত্র সম্পর্কে কোনো কোনো হাদিসবিদের আপত্তি আছে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য