kalerkantho


‘ছাড়ের মানসিকতায় আলোচনা করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘ছাড়ের মানসিকতায় আলোচনা করতে হবে’

‘রাজনীতিতে আলোচনা-সংলাপ একটি স্বাভাবিক বিষয়। যুদ্ধের ময়দানেও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তো সে ধরনের অবস্থা বিরাজ করছে না। তাই এখানে আলোচনা না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সদিচ্ছা থাকতে হবে। খোলামন ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বিদেশিরা চাপ দিয়ে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবে—এই নীতি মাথায় রাখলে কোনো সম্প্রীতি বা সুসম্পর্ক থাকে না। নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে—এ মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করলে ফলপ্রসূ হতে পারে। ’ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এ মন্তব্য করেন।

গত সোমবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টিভির ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাহিদ হোসেনের উপস্থাপনায় ইসরাফিল আলম বলেন, ‘রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ইতিবাচক ও সম্প্রীতির রাজনীতি সুদূরপরাহত বলে অনেকেই মনে করছেন।

খালেদা জিয়াকে সব সময় সম্মানের চোখে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি খালেদা জিয়াকে যেকোনো মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন। কোকো মারা যাওয়ার পর তাঁর বাসায় যেতে চাইলেও যেতে দেওয়া হয়নি। আমরা মনে করেছিলাম, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় খালেদা জিয়ার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমন কিছু থাকবে, যাতে তাঁরা আরো কাছাকাছি আসতে পারেন। কিন্তু বক্তব্যের সময় খালেদা জিয়া তাঁকে প্রধানমন্ত্রীও বলেননি, শেখ হাসিনা বলেছেন। ’

ইসরাফিল আলম বলেন, ‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আমরা রাজনীতি শিখতে চাই। কিন্তু তিনি যে ধরনের কথাবার্তা বলছেন তাতে কি আরো দূরত্ব বাড়ানো হচ্ছে না? তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাতে পারতেন। ’ তিনি বলেন, ‘সংলাপ অবশ্যই হবে। গণতন্ত্র মানেই একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময়, এক সঙ্গে কাজ করা, জাতীয় ইস্যুতে একমত হওয়া। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব দল এক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ না করে তাঁর প্রতি—সর্বোপরি তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা—সম্মান দেখানো উচিত। ’

ইসরাফিল আলম বলেন, ‘কমিশন নির্বাচনী আইনে নির্বাচন পরিচালনা করবে। সংবিধানে আছে, সরকার শুধু নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতা করবে। কোনো পলিসি মেকিংয়ে থাকবে না। নির্বাচন নিয়ে একেক দল একেক দাবি করবে। তাদের সব কথা মানলে তো নির্বাচনই হবে না। শাসনতন্ত্র ও নির্বাচনী আইন সমুন্নত রেখে জনগণের ওপর ভরসা করে নির্বাচনে যেতে হবে। ’

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি দেওয়া হলেও এতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। সাতবার আমাদের দরখাস্ত ফেরত দেওয়া হয়। অষ্টমবার দরখাস্ত করার পর ২৩টি শর্তে জনসভার অনুমতি দেওয়া হয়। জনসভা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি উপেক্ষা করে আমরা যে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে পারি তা নতুন করে প্রমাণ করলাম। ’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে সম্প্রীতির রাজনীতির কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের গুম-খুনের রাজনীতির কথা বলেছেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। দলীয় সরকার তথা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয় বলেছেন। এ বক্তব্যের জন্য কেউ সম্প্রীতির রাজনীতি সুদূরপরাহত বলতে পারেন বলে মনে করি না। ’

আলাল বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেভাবে হস্তক্ষেপ করছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে পারবে তা নিয়ে আস্থাহীনতা আছে। অন্যদিকে নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ওপর আমাদের আস্থা ঐতিহাসিক কারণে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে নেতৃত্বে দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দেশের জাতীয় দুর্যোগের সময় তাঁদের ইতিবাচক ভূমিকা আছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য কাজে সেনাবাহিনী নিয়োজিত হওয়ার পর থেকে আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ’

আলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি প্রতিহিংসা থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেছেন। অথচ জাতিসংঘ অধিবেশনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না। এর আগে খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ছেলে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। অথচ ১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া টুঙ্গিপাড়ায় গেছেন। তিনি জাতীয় নেতাদের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর পরে জিয়াউর রহমানের নাম নিতেন। তারেক রহমানও টুঙ্গিপাড়ায় গেছেন। এসবের ফল হলো এখন জিয়ার মাজারে আলো জ্বলে না। ছেলেকে নির্যাতন করে মায়ের মনে ক্ষত সৃষ্টি করা হয়েছে। ’

পুরনো একটি পলিটিক্যাল পার্টির প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার হাত আরো প্রসারিত হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তো গৃহবধূ থেকে রাজনীতিক হয়েছেন। আর শেখ হাসিনা রাজনীতিক থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাই তাঁর আরো বড় মনের রাজনীতিক হওয়া উচিত। এককভাবে কিছু হয় না। যৌথ উদ্যোগ নিলেই সব কিছুর সমাধান সম্ভব। ’


মন্তব্য