kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

প্রকৃতির নানা রঙে স্রষ্টার প্রমাণ

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রকৃতির নানা রঙে স্রষ্টার প্রমাণ

১৩. এবং তিনি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যেসব রংবেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে ওই সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন আছে, যারা উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৩)

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে একটি চমৎকার বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এখানে সৃষ্টিজগতের রং-বৈচিত্র্য সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান এই যে রঙের ছড়াছড়ি, তাতেই বোঝা যায়, কোনো না কোনো শিল্পী তাঁর কুশলী পরিচর্যায় এই রং এঁকেছেন। সেই শিল্পী হলেন মহান আল্লাহ। কত সূক্ষ্ম ও সুনিপুণভাবে তিনি এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন! তিনি ফুল-ফসল আর পত্রপল্লবের অনুপম সৃজনে প্রকৃতিকে করেছেন নয়নাভিরাম। আর ঋতুবৈচিত্র্যের পালাবদলে দিয়েছেন অনন্য সৌন্দর্য। দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে ঢেউ ওঠে উজ্জ্বল ধানক্ষেতের সোনালি গুচ্ছে। পাকা ধানের সোনালি রং দেখে কৃষকের মনে জেগে ওঠে আনন্দের হিল্লোল। এসব আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ। তিনিই নিজ কুদরতে শক্ত মাটির বুক চিড়ে এই ফল ও ফসল বের করে এনেছেন। এ বিষয়ে কোরআনে বর্ণনা এমন : ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমি তো অঝর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। তারপর মাটিকে বিদীর্ণ করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্যাদি, আঙুর, শাকসবজি, জলপাই, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফলফলাদি ও ঘাস। এসব তোমাদের ও তোমাদের পালিত পশুকুলের জীবনধারণের জন্য। ’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত। ফুলের পাপড়ির বিন্যাস, রঙের বাহার ও হৃদয় জুড়ানো ঘ্রাণ মানুষের মনকে ভরে তোলে অপার্থিব আনন্দে। সৌন্দর্য বর্ধনে ফুলের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে। মানুষের সৌন্দর্যচর্চায় ফুলের অবদান অসামান্য। সভ্যতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে ফুল। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতায় ফুলের নানা ব্যবহার চলে আসছে। এ ফুল এমনিতেই ফোটে না। এ ফুল কোনো মালির করুণা নয়। বাহারি ফুল মহান আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ।

এমন কেউ নেই, চাঁদের জ্যোত্স্না যাকে মুগ্ধ করে না। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে জ্যোত্স্নারাতের সৌন্দর্য চিরভাস্বর। চাঁদ শুধু প্রকৃতির আলোরই উৎস নয়, এই চাঁদ, চাঁদের সৌন্দর্য ঈমানদারের অন্তরে প্রভুপ্রেমের বারতা নিয়ে আসে। এই চাঁদ মুমিনের হৃদয়ে তার প্রভুর স্মরণ জাগিয়ে তোলে। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক রাতে আমরা রাসুল (সা.)-এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শোনো! নিশ্চয়ই শিগগিরই (কিয়ামতের দিন) তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে, যেমন স্পষ্ট ওই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে না। ’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ৫৫৪)

প্রজাপতির রং ছোট-বড় সবাইকে বিমোহিত করে। চিত্রবিচিত্র নকশা নিয়ে প্রজাপতি ছদ্মবেশ ধারণ করে। প্রজাপতিরা বিস্ময়কর দ্রুতগতিতে নতুন নতুন রং ধারণ করতে পারে। কোথায় পেল প্রজাপতি এই রঙিন ডানা? এমনিতেই কি প্রজাপতির রং বদলায়? এ রঙের পেছনে কি কোনো তুলি ও শিল্পী নেই? হ্যাঁ, আছে। কিন্তু সে শিল্পীকে দেখা যায় না। তিনিই আল্লাহ। বিশ্বজাহান যাঁর অসীম ক্ষমতার অধীন।

পৃথিবীতে শতকোটি মানুষ; কিন্তু সবার চেহারাসুরত, চাল-চলন আলাদা। এ রঙের ভিন্নতায় আছে প্রভুর নিদর্শন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি। এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য...। ’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২২)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য