kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

খেজুর ও আঙুরের বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খেজুর ও আঙুরের বৈধ ও অবৈধ ব্যবহার

৬৭. খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক এবং উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো। এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৭ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে খেজুর ও আঙুর ফল সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। খেজুর ও আঙুর উত্তম খাদ্য হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ এ থেকে মদ বা নেশাজাতীয় পানীয় তৈরি করে থাকে। মহান আল্লাহ ফলমূল থেকে যে রিজিক দিয়েছেন, তা মানুষের জন্য উপকারী। কিন্তু বহু মানুষ তার অপব্যবহার করে। তারা তা থেকে গর্হিত উপায়ে মদ বা নেশাজাতীয় উপাদান তৈরি করে।

লক্ষণীয় যে এ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘খেজুর ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো।’ এ বাক্যের মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে খেজুর ও আঙুর ফল থেকে নিজেদের খাদ্যোপকরণ ও লাভজনক দ্রব্যের প্রস্তুতিতে মানবীয় নৈপুণ্যের ভূমিকা আছে। এ নৈপুণ্যের ফলে দুই ধরনের দ্রব্য তৈরি করা সম্ভব। একটি হলো মাদকদ্রব্য। অন্যটি হলো উত্তম জীবনোপকরণ। খেজুর ও আঙুরকে তাজা খাবার হিসেবে গ্রহণ করা যায়। আবার শুকিয়েও তা মজুদ করা যায়। সুতরাং আয়াতের মর্মার্থ হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর অপার শক্তিবলে খেজুর ও আঙুর ফল মানুষকে দান করেছেন এবং তা দিয়ে খাদ্য প্রস্তুত করার ক্ষমতাও দিয়েছেন। এখন এটা তাদের নিজস্ব অভিরুচি যে তারা কী প্রস্তুত করবে! তারা কি মাদকদ্রব্য তৈরি করে বুদ্ধি-বিবেকের ক্ষতিসাধন করবে, নাকি খাদ্য তৈরি করে দৈহিক শক্তি সঞ্চয় করবে?

এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আলোচ্য আয়াত থেকে মাদকদ্রব্য বৈধ হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। কেননা এখানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর বিভিন্ন দান ও সেগুলো ব্যবহার করার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। সর্বাবস্থায় এগুলো আল্লাহর দান। কেউ এগুলো বৈধ পস্থায় উপভোগ করে। আর কেউ অবৈধ পন্থায় ব্যবহার করে। এ আয়াতে মাদকের বিপরীতে ‘উত্তম খাদ্য’ আনা হয়েছে। এ থেকে এটা স্পষ্ট যে মাদক উত্তম খাদ্য নয়। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে এখানে মাদকের প্রতি অনুৎসাহী করা হয়েছে। সব তাফসিরবিদের মতে, মদ ও মাদকতা নিষিদ্ধ হওয়ার আগে মহানবী (সা.)-এর মক্কার জীবনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। মদের নিষেধাজ্ঞা এর পরে মদিনায় অবতীর্ণ হয়। আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় মদ পান বৈধ ছিল। কিন্তু তখনো এ আয়াতে মদ্যপান ভালো না হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পরে স্পষ্টভাবে মদ্যপান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য কোরআনে একাধিক আয়াত অবতীর্ণ হয়। (জাসসাস ও কুরতুবি সূত্রে মা’আরেফুল কোরআন)

যেসব বস্তু সেবনে বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে অথবা বোধশক্তির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, পরিভাষায় সেগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়। ইসলামে সব ধরনের নেশাদ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নেশাদ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৬৩৮)

ইসলামপূর্ব আরবে মাদকতা মহামারির আকার ধারণ করেছিল। এ অবস্থা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে মাদকতা নিষিদ্ধ করা হয়। সুরা বাকারার ২১৯ নম্বর আয়াতে মাদকতা ও জুয়া খেলাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। এরপর সুরা নিসার ৪৩ নম্বর আয়াতে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তারপর সুরা মায়েদার ৯০-৯১ নম্বর আয়াতে মদ চিরতরে হারাম করে দেওয়া হয়েছে। সুরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমরা এসব (মদ, জুয়া ইত্যাদি) থেকে বিরত থাকো। ’

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য