kalerkantho


‘কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেড়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেড়েছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর উন নবী বলেছেন, ‘১০ বছর পর পর আদমশুমারি করা হয়। আর প্রতিবছর জনসংখ্যা নিয়ে যে হিসাব করা হয়, সেটা সার্ভে স্ট্যাটিকস থেকে আসে। তাই টোটাল নাম্বারের সঙ্গে সার্ভের নাম্বারের একটা ভেরিয়েশন থাকবেই। এটাকে স্ট্যান্ডার্ড এরর বা স্ট্যান্ডার্ড ভেরিয়েশন বলা হয়। যেকোনো সার্ভে একটি স্যাম্পলকে ধরে করা হয়। তবে এমন স্যাম্পল নেওয়া হয় যাতে ত্রুটির মাত্রা কম বা সহনীয় থাকে। আমাদের দেশে অনেক সতর্কতার সঙ্গে নিবেদিতপ্রাণ ও দক্ষ কর্মীদের দিয়ে আদমশুমারি করা হলেও আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে এতে কিছু সমস্যা থেকে যায়।’

রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের টক শো রাজকাহনে ‘জনসংখ্যার হিসাব ঠিক আছে?’ শীর্ষক আলোচনায় নূর উন নবী এসব কথা বলেন।

ড. এ কে এম নূর উন নবী আরো বলেন, ‘টেকনোলজির দিক থেকে ২০১১ সালের আদমশুমারি সর্বোত্কৃষ্ট। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি করেছি বলেই আমরা তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্টটি দিতে পেরেছি। যা আগে দুই-তিন বছর লেগে যেত। তবে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর হলেই হবে না, এটির লায়াভিলিটি বা ভ্যালিডিটি কতটুকু সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিআইডিএসকে দিয়ে ভ্যালিডিয়েশন করার পর তারা বলল, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ৪ শতাংশ গণনার বাইরে ছিল। এটা গ্রহণযোগ্য। কারণ ৫ শতাংশ পর্যন্ত আন্ডারকাউন্ট বা ওভারকাউন্ট দুটিই গ্রহণযোগ্য। ওই সময় আরবান পপুলেশনের সাইজটা যুক্ত করা হয়নি। ভ্যালিডিয়েশনের পরে যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১১ সালের আদমশুমারি গ্রহণযোগ্য।’

নূর উন নবী বলেন, ‘জনসংখ্যার হিসাব নিয়ে বিদেশি ডাটা আর আমাদের দেশের ডাটার মধ্যে পার্থক্য (বিবিএসের হিসাবে ১৪ কোটি ৯৭ লাখ আর বিদেশি হিসাবে ১৬ কোটির বেশি) হওয়ার কারণ হলো, আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে ডাটা সংগ্রহ করি। তারা একটি এস্টিমেট বা গড় হিসাবের ভিত্তিতে ডাটা তৈরি করে। এই পার্থক্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। পার্থক্যটা বেশি হলে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পার্থক্যটা কমিয়ে আনতে হবে। তবে ইউরোপ-আমেরিকাতেও জনসংখ্যার হিসাবে ম্যানিপুলেশন হচ্ছে, রাজনীতির কারণেই এটা হচ্ছে। কারণ সেখানে জনসংখ্যা বেশি দেখালে তাদের লাভ হবে।’

নূর উন নবী বলেন, ‘অনেকেই বেশি জনসংখ্যাকে সমস্যা মনে করে, কিন্তু আসলে এটাতে সুসংবাদ আছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মুনসুর বলেন, ‘জনসংখ্যার হিসাবটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভালো পরিসংখ্যান দেখানোর জন্য জনসংখ্যার হিসাবে রাজনীতিকীকরণের বিষয় চলে আসে। কারণ কম জনসংখ্যা দেখিয়ে ভাগ করলে বিষয়টি কমে আসে। এ জন্য হয়তো জনসংখ্যার হিসাবে কমবেশি হয়। তবে আন্তর্জাতিক হোক আর দেশীয় হোক, মাথা গণনা করে যেটা পাওয়া যায়, সেটাই আদমশুমারির একমাত্র তথ্যের উৎস। পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে হিসাব দেয় সেখান থেকেই তথ্য নিতে হবে। আমাদের বিবিএসের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের বিতর্কের কারণ আছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই বিবিএসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবেই সরকারের কাছে রাখে না। কিন্তু আমাদের দেশে শুধু সরকারে নয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে রাখা হয়। তথ্য সরকার বা মন্ত্রীকে দিতে পারে, কিন্তু অ্যাপ্রুভালটা সরকারের কাছে দেওয়া ঠিক নয়। আমাদের এখানে সেটা আছে, এমনকি বাধ্যবাধকতা থাকে। যে কারণেই বিতর্কের প্রশ্ন চলে আসে। টেকনিক্যাল কারেকশন করা যেতে পারে, কিন্তু অন্য কোনো তথ্য সংশোধন, বা এটি প্রকাশে বিলম্ব করা ঠিক নয়। এতে সন্দেহ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।’

ব্র্যাকের আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের ম্যানেজার (হেলথ) ডা. মুর্শিদা রহমান বলেছেন, ‘২০১১ সালের আদমশুমারির সময় তিন দিন সরকারি ছুটি ছিল, অনেকেই শহর থেকে গ্রামে চলে গিয়েছিল, তাই সঠিক হিসাবটা হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকার বস্তি এলাকায় জনসংখ্যার হার দেশের অন্য এলাকার চেয়ে বেশি। এখানে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতে সহজে আগ্রহী হয় না। তা ছাড়া দুর্যোগসহ নানা কারণে গ্রাম থেকে মানুষ শহরে চলে আসে। এতে পরিবার পরিকল্পনার কাজে বিঘ্ন ঘটে। যে কারণে জনসংখ্যার হার কমছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরেকটু ডেভেলপ করতে হবে।’

 


মন্তব্য