kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

সুস্বাদু খাবার আঙুর

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুস্বাদু খাবার আঙুর

৬৭. খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো। এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৭ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে খেজুর ও আঙুর ফল সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। খেজুর ও আঙুর উত্তম খাদ্য হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ এ থেকে মদ বা নেশাজাতীয় পানীয় তৈরি করে থাকে।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে যে ফল পাওয়া যায় আঙুর তার অন্যতম। আঙুরের প্রায় ৭৯ শতাংশই পানি। যুক্তরাষ্ট্রের উইনকোনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আঙুরে এক ধরনের লোহিত উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। ‘রেজভারেট্রল’ নামের এই রাসায়নিক উপাদান হৃিপণ্ড ও রক্তনালিকে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আমেরিকান সোসাইটি অব বোন অ্যান্ড মিনারেলস রিসার্চের মতে, আঙুর মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস যেমন—ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজে ভরপুর একটি ফল, যা হাড়ের গঠন মজবুত হওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পবিত্র কোরআনের প্রায় ১১টি আয়াতে আঙুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর পছন্দের খাবারের তালিকায় আঙুর ফলের নাম রয়েছে। আঙুর হলো জান্নাতি ফল। ইরশাদ হয়েছে, ‘পরহেজগারদের জন্য রয়েছে সাফল্য, উদ্যান ও আঙুর।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৩১-৩২)

তবে জান্নাতের আঙুরের স্বাদ হবে দুনিয়ার আঙুর থেকে ভিন্ন ধরনের, যদিও দেখতে একই রকম।

দুনিয়ায় যে আঙুর ফল পাওয়া যায়, সেগুলোও আল্লাহর নিয়ামত। ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমি তো অঝরধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। তারপর মাটিকে বিদীর্ণ করেছি। আর তাতে উত্পন্ন করেছি শস্যাদি, আঙুর, শাকসবজি, জলপাই, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফলফলাদি ও ঘাস। এসব তোমাদের ও তোমাদের পালিত পশুকুলের জীবন ধারণের জন্য।’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

পুষ্টিবিদরা আঙুর ও কিশমিশকে পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। এগুলো থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাওয়া যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কালো আঙুরে হতাশা বা বিষণ্নতা প্রতিরোধক উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা আঙুরকে অন্ত্রের বেদনা উপশমকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আঙুর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়রিয়া ও ত্বকের সমস্যা দূর করতেও সহায়তা করে।

আঙুর শুকিয়ে কিশমিশ তৈরি করা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য কিশমিশ ভিজিয়ে রাখা হতো, তিনি তা ভেজানোর দিন বা পরের দিন কিংবা তৃতীয় দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত খেতেন...।’ (মুসলিম, হাদিস : ২০০৪)

ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত ‘কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ নামের সাময়িকীতে বলা হয়েছে, কিশমিশে এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান আছে, যা আলঝেইমার (স্মৃতিবিভ্রট) রোগ প্রতিহত করতে সহায়তা করে।

খাদ্য পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে কিশমিশকে ‘প্রাকৃতিক ক্যান্ডি’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। শুধু মুখের স্বাদের জন্যই নয়, সারা দিনের কর্মশক্তির অন্যতম উৎস হতে পারে এই শুকনো ফল। কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে লৌহ আছে, যা রক্তশূূন্যতায় ভোগা রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ ছাড়া রক্ত ও লোহিত কণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ও কপার কিশমিশে থাকে। এক কাপ কিশমিশ ছয় মিলিগ্রাম লৌহের জোগান দেয়, যা প্রতিদিনের লৌহের চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য