kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

মদ ও অ্যালকোহলের বিভিন্ন ব্যবহার

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মদ ও অ্যালকোহলের বিভিন্ন ব্যবহার

৬৭. খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো। এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৭ (চতুর্থ পর্ব)]

তাফসির : কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়ে আরবে খেজুর ও আঙুর ফল দিয়ে মাদকদ্রব্য তৈরি করার প্রথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে মদ বা নেশাদ্রব্য তৈরির ক্ষেত্রে এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়। তাই আধুনিক তাফসিরবিদরা আলোচ্য আয়াতের অধীনে মদ ও অ্যালকোহল বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে মনীষীদের সুচিন্তিত অভিমত উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মদ ও অ্যালকোহল কয়েক ধরনের। প্রথমত, যা আঙুরের কাঁচা রস থেকে তৈরি হয়। অর্থাৎ যে মদ বা অ্যালকোহলের উপাদান আঙুর, সেটাই শুধু মদ। এর বিধান হলো, এটি নাপাক। এর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার অল্প বা বেশি সবই হারাম। এ ব্যাপারে সবাই একমত।

দ্বিতীয়ত, এমন মদ, যার উপাদান খেজুর বা কিশমিশ। এটিও হারাম ও নাপাক। অল্প হোক বা বেশি হোক, পান করা হারাম। তবে এর নিষিদ্ধতা প্রথম প্রকারের মতো অকাট্য নয়। তাই এ ধরনের মদ্যপায়ীর ওপর ইসলামী দণ্ডবিধি কার্যকর হয় না। এই কারণে তা বৈধ উদ্দেশ্যে বিক্রয় করা যাবে। যেমন—মেডিসিনে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের অ্যালকোহলের ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।

তৃতীয় ধরনের অ্যালকোহল হলো, যার উপাদান উপরোক্ত বস্তু ছাড়া অন্য কিছু। যেমন—গম, যব বা অন্য কোনো শস্য, মধু ইত্যাদি। এসব অ্যালকোহলের বিধান হলো, নেশা উদ্রেক না করা পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ। নেশা উদ্রেক করলে ব্যবহার করা বৈধ নয়। এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর অভিমত। এ বিষয়ে মুফতি তাকি উসমানি লিখেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাসায়নিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বহু শিল্প-কারখানা অ্যালকোহলের ব্যবহার করা ছাড়া চলা সম্ভব নয়। এককথায়, বর্তমান সময়ে বহু মানুষ এর সঙ্গে জড়িত। এবং এর প্রচণ্ড প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যদি এসব অ্যালকোহল আঙুরের কাঁচা রস থেকে তৈরি না হয়, তাহলে তা বৈধ কাজে ব্যবহার করা ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে বৈধ।

ওষুধের সঙ্গে অ্যালকোহল মেশানোর সমস্যা বর্তমানে প্রায় সব দেশেই বিদ্যমান। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাজহাব অনুসারে আঙুর ও খেজুর ছাড়া অন্য বস্তু থেকে প্রস্তুতকৃত মাদকদ্রব্য ওষুধ হিসেবে এ পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ, যে পরিমাণ ব্যবহার করলে নেশা হয় না। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড : ৮, পৃষ্ঠা : ১৬০)

সুতরাং ওষুধে ব্যবহৃত অ্যালকোহল যদি আঙুর ও খেজুর ছাড়া অন্য বস্তু থেকে প্রস্তুত হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে ওষুধ হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সে ওষুধ যেন নেশাকর না হয়। কিন্তু অ্যালকোহল যদি আঙুর ও খেজুর দ্বারাই প্রস্তুত করা হয়, তাহলে তার দ্বারা প্রস্তুতকৃত ওষুধ ব্যবহার করা নাজায়েজ। তবে স্মরণ রাখতে হবে যে কোনো মাদকদ্রব্য বা অ্যালকোহল যদি এমনভাবে মিশ্রণ করা হয় যে এর মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অস্তিত্ব লোপ পেয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসাস্বরূপ ওই ওষুধ ব্যবহার করা বৈধ। তবে শর্ত হলো, চিকিৎসাশাস্ত্রে ওই ওষুধের দ্বারা রোগ নিরাময় প্রমাণিত হতে হবে। এবং এর বিকল্প না থাকতে হবে। (নিহায়াতুল মুহতাজ : খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা : ১২)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য