kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

বিনোদবিহারী চৌধুরী

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বিনোদবিহারী চৌধুরী। তিনি সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তাঁর জন্ম। আইনজীবী বাবার সংস্পর্শে তাঁর বিপ্লবী চেতনার উন্মেষ ঘটে। রাঙামাটি বোর্ড স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। পরে করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালীর পিসি সেন সারোয়ারতলী উচ্চ বিদ্যালয়, চিটাগাং কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ব্রিটিশদের আটককেন্দ্রে বন্দি অবস্থায়ই তিনি প্রথম শ্রেণিতে আইএ ও বিএ পাস করেন। ১৯৩০ সালে সূর্য সেনের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে তিনি ছিলেন অন্যতম সহযোগী। চট্টগ্রামকে তিন দিন স্বাধীন রাখা, টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস করা, অক্সিলারি ফোর্সের অস্ত্রশস্ত্র লুট—সব কিছুতেই তাঁর অবদান ছিল। ব্রিটিশ বাহিনী পাল্টা আঘাত হানলে তিনি ও তাঁর দল বীরবিক্রমে জালালাবাদ পাহাড়ে যুদ্ধ চালান। সেই যুদ্ধে তিনি ১২ জন সহকর্মীর মৃত্যু দেখেন। ১৯৩৩ সালের জুন মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর পর মুক্ত হলেও এক বছর নজরবন্দি থাকতে হয়। ১৯৪১ সালের মে মাসে ভারত ছাড় আন্দোলনের শুরুতে আবারও গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৫ সালে ছাড়া পান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি অ্যাসেম্বলিতে গিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের কথা বিশ্ববাসীর কাছে প্রচার করেন। ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে তিনি তরুণ যোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। পত্রিকার সহকারী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন ও চট্টগ্রাম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অনুশীলন শুরু করে শেষে তিনি শিক্ষকতায় থিতু হন। ২০১১ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান।। প্রামাণ্যচিত্র ‘সূর্যসাথী’ তাঁর বিপ্লবীজীবন নিয়ে নির্মিত। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য