kalerkantho

পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

মৌমাছির ঘর

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মৌমাছির ঘর

৬৮. তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে তার অন্তরে ইঙ্গিত করে নির্দেশ দিয়েছেন, গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে, তাতেও। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৮ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে সৃষ্টিজগতে মহান আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছিল। আগের আয়াতে আঙুর ও খেজুরের কথা বলা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে মধু ও মৌমাছির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

মৌমাছি মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গবিশেষ। এদের চারটি পাখা থাকে। এরা ফুলে ফুলে বিচরণ করে ফুলের নির্যাস সংগ্রহ করে এবং তা থেকে অর্ধতরল মিষ্টি, মধু প্রস্তুত করে। মৌমাছিদের মধ্যে রয়েছে শ্রেণিবিভাগ। এদের এক দল কর্মী মৌমাছি। এরা ফুলের নির্যাস খাদ্যনালির ক্রপ বা হানি স্টমাকে সংগ্রহ করে এবং এখানেই উেসচকের বিক্রিয়ায় তা ডেক্সট্রোজ ও লিভিউলোজে পরিণত হয়। পরিবর্তিত এই অংশটুকু কর্মী মৌমাছি মৌচাকের বিশেষ প্রকোষ্ঠে জমা করে। জমা করা এ তরল অংশই মধু। (বাংলাপিডিয়া)

মৌমাছি মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি। এরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করে। কোনাকৃতির মৌচাক গঠনের শৈলী দেখে যেকোনো প্রকৌশলী স্বীকার করতে বাধ্য যে মৌমাছির প্রকৌশলবিদ্যা অত্যন্ত উঁচু মানের। মৌমাছির কাজ নির্ভুল ও নিখুঁত। মৌমাছিরা বিভিন্ন জায়গায় ঘর বাঁধে। কখনো পাহাড়ের সুউচ্চ শৃঙ্গে, কখনো মানবগৃহের কোনো স্থানে আর কখনো গাছের ডালে। মৌমাছিরা খুব ভোরে ফুলের সন্ধানে মৌচাক থেকে বেরিয়ে যায়। এদের পরস্পরের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়। এরা রহস্যময় পদ্ধতিতে অন্য মৌমাছিদের জানিয়ে দেয় যে অমুক এলাকায় প্রচুর ফুল পাওয়া যায়! এরপর দলে দলে এরা সেখানে ছুটে চলে। নানা ফুলের নির্যাস খেয়ে মৌমাছি থেকে যে সুপেয় পানীয় বের হয়, তা-ই মধু। মধু বহু রোগের মহৌষধ। মধু উৎপাদনসহ মৌমাছির সার্বিক তৎপরতা মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের বহিঃপ্রকাশ।

মৌমাছি ও মধু সম্পর্কে সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। কিন্তু আলোচ্য আয়াতে নতুন দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এক. মৌমাছির কাছে ‘ওহি’ আসে। ‘ওহি’ মানে আসমানি প্রত্যাদেশ। ‘ওহি’ আসে নবী ও রাসুলদের কাছে। তবে ‘ওহি’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো ইশারা বা ইঙ্গিত। এ আয়াতে ‘ওহি’ শব্দ ‘অন্তরে ইঙ্গিত’ বা ‘সৃষ্টিগত মহাশক্তি’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

দুই. এ আয়াত থেকে জানা যায়, মৌমাছি শুধু বৃক্ষেই ঘর বাঁধে না, এরা পাহাড় ছিদ্র করে সেখানে নিজেদের পছন্দের আবাস গড়ে তোলে। সম্প্রতি আমেরিকার উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ গ্রুপ একটি নতুন প্রজাতির মৌমাছির সন্ধান পেয়েছে। এই প্রজাতির মৌমাছি পাহাড়ে ঘর নির্মাণ করে। গবেষকরা বলেছেন, এ ধরনের মৌমাছি আমেরিকার কলোরাডো প্রদেশ ও ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেথ ভ্যালি’ এলাকার মরুভূমির পাহাড় ও শিলা খনন করে নিজেদের বাসা নির্মাণ করেছে। (সূত্র : ইরানভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইকনা’)

প্রাণিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৫০০ গ্রাম মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছির দরকার হয় দুই মিলিয়ন ফুল। একই পরিমাণ মধু সংগ্রহ করতে মৌমাছির ৯০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এরা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় আট কিলোমিটার উড়তে পারে। সারা জীবনে অর্ধেক চা চামচের সমপরিমাণ মধু সংগ্রহ করতে পারে। একটা মৌচাকে গড়ে প্রায় ৬০ হাজার মৌমাছি থাকে। পুরো পৃথিবী একবার ঘুরে আসতে মৌমাছির জন্য দুই চা চামচ মধুই খাবার হিসেবে যথেষ্ট। মধু সংগ্রহের জন্য একটি মৌমাছি ৫০ থেকে ১০০ ফুলে বসে। (সূত্র : বিবিসি)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য