kalerkantho


‘নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করবে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। অনেকে বলেন, এটা অংশগ্রহণমূলক হয়নি, যেভাবে আরো ভালো নির্বাচন হতে পারত সেটা হয়নি ইত্যাদি। এ জন্য এই নির্বাচনের পর এই সরকার স্থায়ী হবে কি না, কত দিন টিকবে, তা নিয়ে অনেক শঙ্কা বা আশঙ্কা ছিল। রাজনীতিবিদদের মধ্যেও আলোচনা ছিল যে তাড়াতাড়ি আরেকটি নির্বাচন হবে। কিন্তু তা হয়নি। টানা ৯ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকাটাই বর্তমান সরকারের জন্য বড় সাফল্য।’

শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের টক শো জনতন্ত্র গণতন্ত্রে ‘ক্ষমতার টানা ৯ বছর’ শীর্ষক আলোচনায় ড. মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন।

আনোয়ার সাদীর সঞ্চালনায় টক শোতে ড. মিজানুর রহমান আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদে বহু চ্যালেঞ্জ এসেছে। সরকার সেগুলো সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। প্রথম মেয়াদে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল বিডিআর বিদ্রোহ। সেটা মোকাবেলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সফলতা দেখিয়েছেন। তা ছাড়া আমাদের সংসদ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হলেও আন্তর্জাতিক মহল থেকে স্বীকৃতি পাওয়া ছিল বড় সাফল্য। শুধু তাই নয়, সংসদের আন্তর্জাতিক বড় যে দুটি ফোরাম আছে, তার নেতৃত্বে এলো আমাদের জাতীয় সংসদ। দশম সংসদে মাঠের বিরোধী দল ছিল না—এটা অনেকে বলতে পারেন, কিন্তু এর আগের মেয়াদে তো সংসদে বিরোধী দল ছিল। তাই এই সমালোচনা খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। গত বছরের শেষ দিকে রোহিঙ্গা সমস্যা ছিল, সেটাও মোকাবেলা করেছে সরকার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে একটি নির্বাচন করতে হবে। এই নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তখন পুরো রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব চলে যাবে তাদের হাতে। আর নির্বাহী বিভাগ তাদের সাপোর্ট করবে। সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা আছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনকে কেউ অসহযোগিতা করলে তার শাস্তির বিধানও আছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)  বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জঙ্গি দমনে সাফল্যের বিষয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সারা বিশ্বের মিডিয়া বলেছে। এটা বিরাট সাফল্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অনেক ঘাটতি আছে, সক্ষমতার অভাব আছে। আমাদের চেয়ে যাদের সক্ষমতা অনেক বেশি, তারাও কিন্তু জঙ্গিসন্ত্রাস থেকে রক্ষা পায়নি। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। একটার পর একটা আক্রমণ হয়েছে। আমাদের দেশে জঙ্গি ইস্যু রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি ছিল। কিন্তু গত দেড়-দুই বছরে সেই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছু ঘটার আগেই ধরা পড়েছে। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনীর সতর্কতার কারণে তারা কোনো সুবিধা করতে পারেনি। গত দুই বছরে জঙ্গি দমনে একটি মডেল সৃষ্টি করেছে সরকার। এ বিষয়ে বিশ্ব মিডিয়া কী বলছে সেটাও দেখার বিষয়। তারা বলছে, এটি একটি রোল মডেল। আমাদের মানুষের-রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। এটা এই সরকারের বড় সাফল্য।’

বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করবে, এটা ঠিক। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের হাতে পর্যাপ্ত জনবল নেই। আমলারা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার জন্য উন্নয়ন মেলায় প্রশাসনের আমলা-সরকারি কর্মকর্তাদের নামানো হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ কাজ আশা করা যায় না। পুলিশ বাহিনীর প্রতিও জনগণের আস্থা নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ আছে। তারা নির্বাচনের সময় কতটুকু আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের যে ফিরিস্তি দেওয়া হচ্ছে তা সুষম হচ্ছে কি না দেখতে হবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উন্নয়নের বয়ান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর বিপরীতে সাধারণ মানুষের যেসব সমস্যা রয়েছে, তারা যা প্রত্যক্ষভাবে মোকাবেলা করছে, সেগুলো প্রকাশের সুযোগ হচ্ছে না। সরকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে যে পদ্মা সেতুর কথা বলছে, অথচ পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ কী অবস্থায় আছে দেখতে হবে। পদ্মায় পানি না থাকলে সেতু দিয়ে কী হবে? এর খরচ কত বেশি হচ্ছে?’

খালেকুজ্জামান বলেন, ‘সেতুর অবশ্যই প্রয়োজন আছে, তবে এর আগে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। উন্নয়নের তুলনায় দুর্নীতি কতটুকু হচ্ছে, উপযোগিতা কতটুকু তা দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের দশক আইয়ুব খানের সময়ও হয়েছিল। তখন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল শিল্প-কারখানাকে। এখন কোনটির প্রয়োজনীয়তা বেশি, সেটির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রেললাইনে বিনিয়োগ করবেন, নাকি ফ্লাইওভার করবেন? আর ফ্লাইওভার করতে গিয়ে অন্য দেশের তুলনায় দ্বিগুণ-তিন গুণ খরচ হয়ে যায় কি না দেখতে হবে। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের জন্য কী পরিকল্পনা নেওয়া দরকার ছিল? এখানে যে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকায় এসে যে অসমতা তৈরি করছে—এ প্রেক্ষাপটে কী করা দরকার সেটা ভাবা হচ্ছে না। ট্রেন ব্যবস্থা যদি ভালো হতো, ঢাকার বাইরে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো, তাহলে ঢাকায় মানুষের এত চাপ হতো না। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না। উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু উন্নয়নের ধারা, এর সুফল কারা পাচ্ছে সেটা বিবেচনা করতে হবে।’



মন্তব্য