kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

সুনির্দিষ্ট পথে হাজার মাইল পাড়ি দেয় মৌমাছি

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুনির্দিষ্ট পথে হাজার মাইল পাড়ি দেয় মৌমাছি

৬৯. (আল্লাহ মৌমাছিকে নির্দেশ দিয়েছেন) এরপর (গৃহ নির্মাণের পর) প্রত্যেক ফল থেকে কিছু কিছু আহার করো, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ করো।

তার পেট থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, এর মধ্যে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে। অবশ্যই চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে। [ সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৯ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে মৌমাছির মধু আহরণ ও মধুর গুণাগুণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, মৌমাছির প্রতি মহান আল্লাহর নির্দেশ হলো, তোমরা ফুল ও ফল থেকে মধুর উপাদান সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করো। এতে জানা যায়, মৌমাছির নির্দিষ্ট পথপরিক্রমা আছে। আছে নির্দিষ্ট ‘রানওয়ে’। অদৃশ্য সেই পথ অনুসরণ করে মৌমাছিরা হাজার মাইল পাড়ি দেয়। এ তথ্য কোরআন প্রায় ১৫০০ বছর আগে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্ক মৌমাছির ‘রানওয়ে’র জন্য হুমকিস্বরূপ। মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ শক্তি বা ইলেক্ট্র ম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের কারণে বিপর্যয়ে পড়ছে মৌমাছি। মৌমাছি তার গতিপথ ঠিক রাখা ও চলার জন্য প্রাকৃতিক ‘ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ’ ব্যবহার করে। একই সঙ্গে নেভিগেশনের মাধ্যমে সূর্যকে কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে। মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ শক্তি বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের কারণে বিভ্রান্ত হয়ে মৌমাছি এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করে। এরা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি শব্দ করে। ৬০ হার্টজ তরঙ্গ শক্তি মৌমাছিকে বিভ্রান্ত করে এবং ২৫০ হার্টজ তরঙ্গ শক্তি মৌমাছিকে বিক্ষিপ্তভাবে ছোটাছুটি করতে বাধ্য করে। ফলে মৌচাক থেকে বেরিয়ে বিভ্রান্ত হয় মৌমাছিরা। তারা পথ হারিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ঘোরাফেরা করে। আর মৌচাকে ফিরে আসতে পারে না। এর ফলে মধুর উৎপাদন কমে যায়। মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন পুরুষ মৌমাছির প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তারা বন্ধ্যাত্বর দিকে যায়। ২১ দিনের লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় ভাঙন দেখা যায়। এবং স্ত্রী বা রানি মৌমাছির ডিম পরস্ফুিটনে আগের তুলনায় সময় বেশি লেগে যাচ্ছে।

মৌমাছির একমাত্র কাজ মধু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্মের বহু আগে কোরআনে বলা হয়েছে যে মধু বহু রোগের প্রতিষেধক। মধুর ঘনত্বের কারণে ক্ষতস্থানে কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জন্মাতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা মতে, মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে। তাই এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কেননা এতে থাকে খুব অধিক পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। বলা হয়ে থাকে, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক ও গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। মধু মহান আল্লাহর বিশেষ দান।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য