kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আবদুশ শাকুর

কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সংগীতজ্ঞ ও গোলাপ বিশেষজ্ঞ আবদুশ শাকুর। তিনি রম্যরচনার জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ। ১৯৪১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার রামেশ্বরপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মকবুল আহমাদ ও মা ফায়জুন্নিসা। ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ এমএ করেন। ১৯৮০ সালে নেদারল্যান্ডসের আইএসএস থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে এমএস করেন। কর্মজীবনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করলেও পরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ সরকারের সচিব হিসেবে ২০০০ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

তিনি সৃজনশীল লেখক হিসেবে যেমন সফলতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি গবেষণা, সমালোচনা, সাহিত্য, ধর্ম, সমাজ, সংগীত নিয়েও কাজ করেছেন। সাহিত্য সমালোচনায় তিনি বিশ্লেষণাত্মক আলোচনায় পাণ্ডিত্যের ছাপ রেখেছেন। সাহিত্যসংশ্লিষ্ট তাঁর প্রবন্ধ ও সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—রচনা সাহিত্য, মহাগদ্য কবি রবীন্দ্রনাথ, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের গল্প, পরশুরামের গল্প, সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্প, পারস্য কবি শামসুদ্দীন মুহাম্মদ হাফিজ, প্রগতিবাদী উর্দু কাব্যের আবির্ভাব ও তিরোভাব প্রভৃতি। তাঁর পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠার ‘গল্পসমগ্র’ এবং ‘গোলাপসংগ্রহ’ বংলা সাহিত্যে অসামান্য কীর্তি। গোলাপ সংগ্রহে তিনি মৌসুমি, বর্ষজীবী, দ্বিবর্ষজীবী, চিরজীবী পুষ্পাদিবিষয়ক বিবিধ আলোচনাসহ বাংলাদেশের জাতীয় ফুল ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের ওপর সারগর্ভ পর্যালোচনা করেছেন। শুধু পাঠ নয়, বাস্তবেও তিনি ৩৫০ ধরনের গোলাপের ৭৫০টি গুল্ম নিজের বাড়ির লনে লাগিয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। প্রবন্ধ ও গদ্য রচনার নিজস্ব ভাষা নিয়ে তাঁর ছিল স্বকীয় মত। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ছাড়াও দেশ-বিদেশে নানা সম্মাননা তিনি পেয়েছেন। ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

[উইকিপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য